গুলিস্তান ডুবে গেলে, শহরের হৃদয়ও ডুবে যায়”

আমেনা ইসলাম
আমেনা ইসলাম
প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬ ১৬:২৬:০৩

বর্ষা মৌসুম আসন্ন। একটু বৃষ্টি—মাত্র কয়েক ফোঁটা জল। আর তাতেই থমকে যায় রাজধানীর হৃদস্পন্দন। আকাশে মেঘ জমলেই রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানের মানুষের মনে ভর করে এক অজানা আতঙ্ক।আর এই গুলিস্তানই—রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র, হাজারো মানুষের স্বপ্ন আর সংগ্রামের জায়গা। অথচ এই ব্যস্ত জনপদটিই আজ বৃষ্টির কাছে অসহায়।

অল্প কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি নামলেই রাস্তাগুলো তলিয়ে যায় ময়লা পানিতে, যেন শহরের বুক জুড়ে জমে থাকা অবহেলার কান্না একসাথে ভেসে ওঠে। পানি জমে থাকা রাস্তায় পা রাখলেই বোঝা যায় না নিচে কী আছে—গর্ত, ভাঙা ইট, না কি বিপদের ফাঁদ। প্রতিটি পদক্ষেপ যেন একেকটা ঝুঁকি।

পথচারীদের চোখে আতঙ্ক, মুখে বিরক্তি—তবুও চলতে হয়, কারণ থেমে থাকার উপায় নেই।সামান্য বৃষ্টিতেই যেখানে রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়, সেখানে টানা বর্ষায় কী হবে, সেই প্রশ্নই এখন সবার মুখে।সরেজমিনে দেখা গেছে, গুলিস্তানের প্রধান সড়কে ইতোমধ্যেই ভাঙাচোরা রাস্তা, আবার কোথাও গভীর গর্ত , খানাখন্দ আর অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে চরম বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে।প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের।ব্যাবসায়িরা জানান, অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো পানিতে ডুবে যায়। তখন বোঝার উপায় থাকে না কোথায় গর্ত,আর  কোথায় সমান পথ। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটে দুর্ঘটনা।

বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের জন্য চলাচল হয়ে ওঠে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।একজন দোকানদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বৃষ্টি হলেই পানি উঠে দোকানের সামনে। ক্রেতা আসে না, ব্যবসা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।রিকশাচালকরাও একই সুরে বলেন, “এই রাস্তায় চলতে গেলে গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। আয় কমে, খরচ বাড়ে।”বিশেষজ্ঞদের মতে, গুলিস্তানের জলাবদ্ধতার মূল কারণ অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব।

তারা বলছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে বছর ঘুরে আবারও একই চিত্র ফিরে আসে।এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই দ্রুত ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় গুলিস্তান পরিণত হবে এক ভয়াবহ জলাবদ্ধতার নগরীতে, যেখানে প্রতিদিনের জীবনযাত্রা হয়ে উঠবে আরও দুর্বিষহ।গুলিস্তান শুধু একটি এলাকা নয়—এটি রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র। আর সেই প্রাণকেন্দ্র যদি বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায়, তবে প্রশ্ন ওঠে—নগর ব্যবস্থাপনা ঠিক কোন পথে এগোচ্ছে?