পিআরএলকে সামনে রেখে

গনপুর্ত অধিদপ্তরের ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামছুদ্দোহার নেতৃত্বে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব

শেখ নাজমুল
শেখ নাজমুল
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬ ১৯:৪১:০৩

গনপুর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী(পওবিপ্র) ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর সামসুদ্দোহার বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম দুনীতি কারণে ডুবতে বসেছে সরকারের উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ড। আর মাত্র ২ মাস পরে পিআরএলএ যাবেন, সেই কারণে বেপরোয়া হয়ে ঘুষ দুনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিসিএস পাবলিক ওয়ার্কাস ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

তাঁর নেতৃত্বে গড়ে তোলা সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। তাঁর চাহিদা মাফিক ঘুষ, দুনীতি,  কমিশন বানিজ্যর কারণে হিম শিম খাচ্ছেন সাধারণ নিরীহ কর্মকর্তারা বলে একাধিক সুত্রে যানা গেছে। নারী কেলেংকারী তে ও পিছিয়ে নেই মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন লীগের দোসর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সামসুদ্দোহা। লীগের দাপট দেখিয়ে গনপুর্ত অধিদপ্তরের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছিলো মহা দাপটি এই কর্মকর্তা এখনো বহাল তরিয়াতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন গনপুর্ত অধিদপ্তরের। লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম দুনীতি অভিযোগ থাকলেও তাঁর অবৈধ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেই সকল অভিযোগ আজও পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। অভিযোগ গুলো ধামাচাপা পরে যায় অদৃশ্য শক্তি কারণে। বনে গেছেন অঢেল সম্পদের মালিক। তিনি তাঁর  আখের গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি, দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন,নামে-বেনামে,  অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুদ্দোহা। দুনীতির মহোৎসব চলছে, তার নেতৃত্ব চলছে লুটপাট ও হরিলুট। বিগতসময়ে ময়মনসিংহে কর্মরত থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে ব্যপক আর্থিক অনিয়ম, কমিশন বানিজ্যে অভিযোগ উঠেছিল। 

একাধিক সুত্রে আরও যানা গেছে, গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামছুদ্দোহার বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরোতর অভিযোগ ভরি ভরি থাকার পরে ও এখনো বহাল তরিয়াতে ঘুষ দুনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন।

গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামছুদ্দোহার বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ধামাচাপা দিতে জোর তদবির দোর ঝাঁপ চালিয়ে গেছেন সরকারের আমলাদের নিকট।

সুত্রে যানা জায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো.শামছুদ্দোহার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার–ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প অনুমোদন, বাজেট বণ্টন এবং প্রাক্কলন সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

বিভিন্ন প্রকল্পে দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়ন ও অনুমোদনকে ঘিরে অসঙ্গতি, প্রভাব–বিস্তার ও সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তার বিরুদ্ধে লুটপাট ও দুর্নীতির এত অভিযোগ থাকার পর এবং তিনি আওয়ামী সরকারের একজন অত্যন্ত ঘণিষ্ঠজন হওয়ার পরেও স্বপদে কীভাবে বহাল রয়েছেন বলে প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট গনপুর্ত অধিদপ্তরের কর্মরত সাধারণ কর্মকর্তা দের নিকট।

সূত্র মতে , সাভার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকাকালে সরকারি আবাসন প্রকল্পের বড় আকারের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয় তার হাত ধরেই। দরপত্রের প্রাক্কলন, মূল্যায়ন ও অনুমোদনের সময় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা পেয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ময়মনসিংহ জোনে দায়িত্ব পালনকালে মডেল মসজিদ প্রকল্প, বিভিন্ন ডিভিশনের এপিপি বরাদ্দ, এবং প্রাক্কলন অনুমোদনের ক্ষেত্রেও অনিয়ম করেছেন তিনি। তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী সাময়ীক বরখাস্ত কৃত সাইফুজ্জামান চুন্নুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে বাজেট বৃদ্ধি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো হয়েছিল বলে নাম প্রকাশ না করার সর্তে একাধিক কর্মকর্তারা আজকের সংবাদ কে জানান। ঘুষ খোর সাইফুজামান চুন্নুর বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় কার্যকর ভূমিকা রাখলে ও শাসছুদ্দোহার বিষয়ে উল্টো চিত্র দাবি করেছে কয়েকটি সূত্র।

কিছু কাজে এলটিএমের বদলে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বানের অনুমোদন দিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদার গোষ্ঠীকে কাজ দেওয়া এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবও এসব সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছিল বলছেন সংশ্লিষ্টরা কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা নামে–বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। কয়েকটি সূত্র জানায়, বসুন্ধরা ও বারিধারায় তার ফ্ল্যাট, জামালপুরের শরিষাবাড়িতে বাড়ি এবং রিসোর্ট নির্মাণের জন্য জমি রয়েছে। রাজধানীর মিরপুর, গুলশান, উত্তরা সহ তার স্ত্রী সন্তান দেরকে নাম বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের পাহাড় গরে তুলেছেন মহা ক্ষমতা ধর লীগের দোসর দুনীতি পরায়ন প্রকৌশলী শামসুদোহা।

সূত্র বলছে, ছাত্রজীবনে তিনি আনন্দ মোহন কলেজ ও পরে বুয়েটে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তাছাড়া সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান মুন্সীর আত্মীয় হওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

শামছুদ্দোহাকে ঘিরে টেন্ডার–বাণিজ্য, প্রকল্প অনুমোদন ও বাজেট–অসঙ্গতির অভিযোগ চলমান থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পাওয়ার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় তদবির করেছিলেন। সূত্র বলছে—বহুমুখী দৌঁড়ঝাপ ও যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তিনি সেই প্রতিযোগিতায় ব্যর্থ হন।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনেকের অভিমত, ‘তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর। লুটপাট, বিদেশে টাকা পাচারসহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। যে কারণে, তাকে চাকরিচ্যুত এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।’

এছাড়া, এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি অনুরোধ জানান জানান তারা। তার সেলফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।