প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের ২ টা পদ দখলসহ, নিজেই ঠিকাদারি করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী সহকারী পরিচালক কবির উদ্দীন

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬ ১৯:২০:৪৯

প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের নন- ক্যাডার কর্মকর্তা মহা-ক্ষমতাধর, ডাঃ মোঃ কবির উদ্দীন প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের অধিনে নারায়নগঞ্জের ও অধিদপ্তরের পরিচালক উৎপাদন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (গোট ফার্মস) এর ২ টা দপ্তরে কর্মরত থেকে বেপরোয়া হয়ে  ঘুষ দুনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুত্রে জানা গেছ, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে সুবিধা ভোগী এই দুনীতিবাজ কর্মকর্তা ভোল পাল্টে বিএনপি পন্থী হিসেবে নিজেকে জাহির করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেদারসে  প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের।

পতিত স্বৈরাচারী লীগ সরকারের পতনের পরে আরও বেপরোয়া হয়ে প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে নামে সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিকট চাঁদ উত্তোলন করে যাচ্ছেন মহা ক্ষমতা ধর কবির উদ্দীন। সাধারণ কর্মকর্তারা তাঁর নিকট জিম্মি হয়ে পরেছেন বলে একাধিক কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদককে জানান। এককথায় হয়রানির আরেক দৌত কর্মকর্তা ডাঃ কবির উদ্দীন ও তাঁর গড়ে তোলা সিন্ডিকেট বাহিনী। সুত্রে আরও যানা গেছে, দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ নারায়নগঞ্জ জেলার ভেটেরিনারি হাসপাতালে কর্মরত থেকে থেকে সেখানে তাঁর নেতৃত্বে গড়ে তুলেছিলেন সু বিশাল সিন্ডিকেট বাহীনির নিকট। সেই সিন্ডিকেট বাহীনি দ্বারা প্রভাবিত করে নিয়ন্ত্রণ করেন সকল টেন্ডার বানিজ্য। হাতির নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। রাজধানীর মিরপুর সহ তাঁর দেশের বাড়ি ঝিনাইদহে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন ডাঃ কবির উদ্দীন। একই ব্যাক্তী দুই জায়গায় কর্মরত থাকা নিয়ে সাধারণ কর্মকর্তা দের মাঝে  দেখা দিয়েছেন মিস্র প্রতিক্রিয়া। নাম প্রকাশ না করার সর্তে একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীরা এই প্রতিবেদককে বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনা না,মেনে রাত পর্যন্ত প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের তার দখলে থাকা অফিস কক্ষটি গভীর রাত পর্যন্ত খুলে রেখে, তিনি তাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস এস,কে ট্রেডার্স এর ব্যানারে বিভিন্ন পিডিডের,চাপ প্রয়োগ করে মালামাল সরবরাহের কোটি কোটি টাকার কার্যাদেশ হাতিয়ে নিচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবি এই গরুর ডাঃ কবির উদ্দীন। একজন জাতীয়তাবাদী নন-ক্যাডার নিম্ন পর্য্যায়ের কর্মকর্তার কাছে জিম্মী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা/ ঠীকাদারীব্যবসায়ীরা বলে তাঁরা আরও জানান।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নীচতলার সহকারী পরিচালকের কক্ষটি এখন নারায়নগঞ্জের ভেটিরিনারী সার্জন (নন ক্যাডার) কাম ঠিকাদার ডা: মো: কবিরউদ্দীন আহম্মদের অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এই অফিসে বসে তার বিরোধী পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য নামে -বেনামে ভুয়া, মির্থা অভিযোগ করে বিভিন্ন পত্রিকায় ও দপ্তরে জমা সরবরাহ সহ নিয়মিত চাদাবাজী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে নাকি তার বিরুদ্ধে। তার অফিসের ব্যবহারিত ল্যপটপ/কমপিউটার যাচাই বাঁচায় করলে প্রমানিত হবে। উল্লেখ্য যে, ডা: কবির নিজেকে জাতীয়তাবাদী হিসাবে পরিচয় দিয়ে প্রশাসনকে তটস্থ করে রেখেছে। যদিও সে বিগত ১৬ বসর আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের লুংগির নীচে থেকে একই কর্মস্থলে ১৫ বসর চাকুরী করেছেন। একজন কর্মকর্তা ৩ বছরের অধিক সময় একই কর্মস্থলে কর্মরত থাকতে পারবেননা মর্মে সরকার চাকরি বিধিমালায় উল্লেখ আছে। অথচ তিনি দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে কর্মরত থাকে কোন ক্ষমতার বলে।স্বৈরাচারী লীগের দাপট দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছিল তিনি তাঁর ছাত্র লীগ স্ত্রীর দাপটে। তখন কার সময় তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুনীতি অভিযোগ থাকলেও অদৃশ্য শক্তি কারণে সেই সকল অভিযোগ আজও পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর  তার স্ত্রী নিজেই একজন ছাত্রলীগ নেত্রী এবং স্ত্রীর ভাই কৃষিবিদ নুরুল ইসলাম সাবেক ধর্মসচিব এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলা গ্রুপের নীতি নির্দ্ধারন মহলের অন্যতম ছিল তার পরিবার। 

ডা: কবির নিজে ঠিকাদারী ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে অভিযোগ থাকলেও প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা দের নিরবতা এখন প্রশ্ন বিদ্ধ। তার প্রতিষ্ঠানের নাম  মেসাস এস কে ট্রেডারস।বিভিন্ন প্রকল্পে ও পরিচালক স্টোরের দপ্তরে সে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করে বলে একাধিক ঠিকাদারা গন জানান। কবির উদ্দীন সর্বশেষ অবৈধ  প্রভাব খাটিয়ে ঐ ফার্মের নামে কাগজপত্র ছাড়া ১ কোটি টাকার উপরে সরবরাহের কাজ বাগিয়ে নিয়েছে প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের (আইএলডিপি) প্রকল্পে থেকে বলে একাধিক সুত্রে যানা গেছে। এছাড়া কবির উদ্দীন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের দোহাই দিয়ে নিজে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প হতে বিগত ১৮ মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা উত্তলন করছেন  বলে নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক একাধিক কর্মকর্তা জানাইছে।

ডা: কবিরের মূল কর্মস্থল জেলা ভেটিরিনারী হাসপাতাল নারায়নগঞ্জ হলেও  সে বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে  অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকের একটি পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের আদেশ করিয়ে নিয়েছে। ডা: কবির প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে নিয়মিত  ঠিকাদারী ব্যবসা এবং ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে চলেছে।

এ ছাড়া নারায়নগঞ্জের  জেলা ভেটিরিনারী হাসপাতালের জন্য সরকারীভাবে যে সকল মেডিসিন  ও অন্যান্য উপকরন ফ্রি বিতরনের জন্য দেয়া হয় তার ১% ও বিনা মূল্যে বিতরন না করে নিজেই চিকিৎসার কাজে ব্যবহার এবং বাইরে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্নসাৎ করেছে বলেও নারায়নগঞ্জের বিভিন্ন খামারীরা আজকের সংবাদ কে জানান।

নারায়নগঞ্জের জেলা ভেটিরিনারী  হাসপাতালের বিপরীতে এ পর্যন্ত যে সকল সরকারী উপ করন (ভিটামিন/ঔষধসহ) সরবরাহ করা হয়েছে তার বিতরন তালিকা এবং মাষ্ঠার রোল তদন্ত করলেই অভিযোগ প্রমানিত হবে বলে সেখান কর্মরত থাকা একাধিক কর্মচারীরা জানান এই প্রতিবেদককে। ডা: কবির একজন ৯ম গ্রেডের নন ক্যাডার কর্মকর্তা হয়েও ঢাকায় বাড়ী, নারায়নগঞ্জে জমি সহ কয়েক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন কোন পথে।

সরকারী চাকুরী করে অনুমতি বিহীন কিভাবে ঠিকাদারী ব্যবসা করে এবং একটি রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে চাদাঁবাজী করছে কি ভাবে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করলে থলের বিরাল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন সাধারণ কর্মকর্তারা।সংশ্লিষ্ঠদের দাবী নারায়নগঞ্জের ভেটিরিনারী সার্জনকে ঢাকার সদর দপ্তরের সহকারী পরিচালক পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া সম্পূন্ন অনিয়ম নিয়ম বহির্ভূত। এর ফলে নারায়নগঞ্জের সাধারন জনসাধারন সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। তা ছাড়া ডা: কবির সারাক্ষন রাজনীতি আর চাঁদাবাজি নিয়ে ব্যস্ত থাকা সহকারী পরিচালকের গুরুত্বপূর্ন পদটির সেবা হতেও মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।

ডা: কবির উদ্দীন সর্বশেষ কর্মকর্তা দের নিকট  চাঁদাবাজী করেছে বিশ্ব ভেটিরিনারী দিবস পালন উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের নাম করে। নাম প্রকাশ না করার শর্ত্বে একাধিক প্রকল্প পরিচালক এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে সর্বসাকুল্যে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা চাদা আদায় করেছে ডা: কবির। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাধারন কর্মকর্তাদের অভিমত  দেশ নায়ক প্রধান মন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যেখানে চাদাবাজী ও দূনীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করছে  সেখানে কিভাবে একজন নন ক্যাডার নিম্ন পর্য্যায়ের কর্মকর্তা হয়েও ডা: কবির গোটা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর  নিয়ন্ত্রন করছে? বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি চরম ভাবে খুন্ন হচ্ছে। উল্লেখীত উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব ও নব নিযুক্ত মন্ত্রী মহোদয়ের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সাধারন কর্মকর্তাগন। উল্লেখীত অভিযোগে সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য কবির উদ্দীন এর মোবাইলে ফোন দিলে ফোন বন্ধ পাওয়ার, তাঁর কোন মতামত পাওয়া যায়নি।