সফটওয়্যারভিত্তিক কারসাজির মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের আমল থেকে

ঢাকা সওজ’র অধীনে পরিচালিত ইউনিফাইড টোল কালেকশন সিস্টেম ঘিরে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাকি প্রক্রিয়া অব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৯:২০:১২

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অধীনে পরিচালিত ইউনিফাইড টোল কালেকশন সিস্টেম ঘিরে ভয়াবহ দুর্নীতি, রাজস্ব আত্মসাৎ এবং সফটওয়্যারভিত্তিক কারসাজির বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিলকৃত এক লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ করে আসছে।

অভিযোগে সরাসরি নাম এসেছে প্রতিষ্ঠান রেগনাম রিসোর্স লিমিটেড এর যাদের বিরুদ্ধে একচেটিয়াভাবে একাধিক টোল প্লাজার ওয়ার্ক অর্ডার নিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী হিসেবে Spectrum Ltd-এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম জড়িত থাকার অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক Obaidul Quader, সাবেক সংসদ সদস্য Shamim Osman এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী Mirza Azam-এর সরাসরি আশীর্বাদ ও সহযোগিতায় রেগনাম রিসোর্স লিমিটেড এই টোল ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব পাইয়ে দেন, যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

সফটওয়্যার কারসাজির মাধ্যমে রাজস্ব লোপাট লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউনিফাইড টোল সিস্টেমের সফটওয়্যার ও ডাটাবেজকে কৌশলে ম্যানিপুলেট করে প্রকৃত টোল আদায়ের তথ্য গোপন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের সরকারি রাজস্ব গায়েব হয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সফটওয়্যারভিত্তিক দুর্নীতি শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এটি আড়ালে থেকে যাচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের হুমকি। দেশ-বিদেশে অবৈধ সম্পদের পাহাড় অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও তাদের মালিকপক্ষ দেশ-বিদেশে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছে। ঢাকার তেজগাঁও ও গুলশানে বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

একাধিক টোল প্লাজায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ অভিযোগ অনুযায়ী, সীতাকুণ্ড (বড় দারোগাহাট), মানিকগঞ্জ (বাথুলি), নেত্রকোনা (জারিয়া), চরসিন্দুর, কুমারখালী (ফরিদপুর), ঢাকা-দোহারসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা দীর্ঘদিন ধরে একই চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে অভিযোগে বলা হয়েছে, একাধিক গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে। এমনকি সরকারি অডিট সংস্থাগুলো বিষয়টি জানার পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

দুদকের কাছে তদন্ত ও শাস্তির দাবি অভিযোগকারী দ্রুত একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, ইউনিফাইড টোল সিস্টেমের সার্ভার লগ, ডাটাবেজ এবং আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ অডিট এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি দেশের অবকাঠামো খাতে অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।