সওজের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গোলাম রব্বানীর পেটে সরকারি কোটি কোটি টাকা

সডক ও জনপথ অধিদপ্তর ফেরি সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ফেরি সার্কেলের সওজ, তেজগাঁও ঢাকায় গত ৩/৪ বছর টেন্ডার এস্টিমেট পাশ বাবদ ১০% হিসাবে কমপক্ষে ৪-৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
গত অর্থ বছরে ৫০-৬০ কোটি টাকার টেন্ডার একই মাল বৎসরে ৩/৪ বার এস্টিমেন করিয়া টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এই কর্মকর্তার মনোনিত ঠিকাদার ছাড়া অন্য কেউ কাজ দেন না। বর্তমানে ফেরি সার্কেল ঢাকার যতগুলো ফেরি এবং ফেরি ঘাট রয়েছে তার বেশির ভাগই অঁচল। তারপরও গোলাম রব্বানী প্রতিবছর ফেরিঘাট সংরক্ষণে ও মেরামতের জন্য টেন্ডার দিয়ে থাকেন এবং তাঁর মনোনিত ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ কমিশন নিয়ে থাকেন।
বর্তমান ফেরি সার্কেল তিনি যে গাড়ি ব্যবহার করেন তার মেরামত বাবদ প্রতি বছরের ৪-৫ লক্ষ টাকা খরচ দেখিয়ে থাকেন এবং সরকারি দুটি গাড়ি তিনি একাই ব্যবহার করেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গোলাম রাব্বানীর সরকারি টাকা আত্মসাৎ অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। দুদকের অভিযোগ পত্রে দেখা যায়, এই কর্মকর্তার নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
তন্মধ্যে-ঢাকায় মিরপুর ১০ নাম্বার শাহ আলী মার্কেটর পিছনে ৬ তলা আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। উত্তরা সেক্টর ১২ রোড নাম্বার ৫/এ, ৪ তলা একটি বাড়ি আছে। ডম-ইনো গ্রীনরোড দুইটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট আছে। ঢাকা টাওয়ার গ্রীন রোডে ১৮ তলা একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। সাভার আশুলিয়ায় ১২ বিঘা জমি কিনেছেন স্ত্রীর নামে।
গোলাম রব্বানী কারখানা বিভাগ, তেজগাঁও ঢাকায় দীর্ঘদিন নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্র্মরত ছিলেন। সেখানে থাকাকালীনই অবৈধ ভাবে টেন্ডার বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকা সম্পদ অর্জন করেন। কারখানা বিভাগের টেন্ডার জালিয়াতি তদন্ত করলে বালিশ ও পর্দা কেলেংকারিও হার মানাবে। ৩ হাজার টাকার যন্ত্রাংশ ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত টেন্ডার করেছেন।
বর্তমান তিনি ফেরি সার্কেলের লুটপাট করে আবার কারখানা সার্কেলে বদলি হওয়ার জন্য করছেন। গোলাম রাব্বানী যেখানেই চাকরি করেছেন (বরিশাল, খুলনা, সিলেট) সেখানে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন যা তদন্ত করলে প্রমাণ পাওয়া যাবে। গোলাম রব্বানী নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে। সরকারী স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে কলংকিত করার চেষ্টা করেছেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ফেরি সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গোলাম রাব্বানীর অনিয়ম- দুর্নীতির বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার তার অফিসে গিয়েও তাকে সীটে পাওয়া যায়নি।
