গনপুর্ত অধিদপ্তরের দুর্নীতির সম্রাট আওয়ামী সুবিধা ভোগী

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল এখনও বহাল তরিয়াতে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন

শেখ নাজমুল
শেখ নাজমুল
প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬ ২০:৪১:০৭  আপডেট :  মে ১৭, ২০২৬ ২১:১২:১২

গনপুর্ত অধিদপ্তরের ই /এম ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হকের নেতৃত্ব চলছে রমরমা কমিশন বানিজ্য। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দোসর এখনও বহাল তরিয়াতে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। কমিশন বানিজ্য, টেন্ডার বানিজ্য, ভুয়া বিলভাউছারের মাস্টার মাইন্ড, আশ্রাফুলের নেতৃত্বে চলছে দুনীতির মহোৎসব। সুত্রে যানা গেছে,  কমিশন বানিজ্যর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি, নারী কেলেংকারী তেও পিছিয়ে নেই আশ্রাফুল হক। তাঁর অধিনস্ত সুন্দরী উপ- সহকারী প্রকৌশলী, (হিন্দু ধর্মাবলী) এক নারী কর্মকর্তার সাথে রয়েছে নাকি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বলে একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীরা আজকের সংবাদ কে জানান।

খোঁজ নিয়ে আরও যানা গেছে, চলতি অর্থ বছরে ২০২৫-২০২৬ শে জাতীয় বিজয় দিবস উপলক্ষে প্যারেড রাউন্ডে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন ইলেকট্রিক্যাল কাজের বিপরীতে গনপুর্ত ই/ ইম ঢাকা জোনে। সেই বরাদ্ধকৃত পাঁচ কোটি টাকা তার মনোনীত ঠিকাদারকে ঘুফছি টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দিয়ে, নাম মাত্র মুল্যে কাজ করে সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করে ভাগাভাগি করে চলেছেন তিনি।

সুত্রে আরও যানা জায়, গনপুর্ত অধিদপ্তরের ই/ এম ঢাকা জোনের তিনি গড়েতুলেছিলেন সু বিশাল সিন্ডিকেট, সিন্ডিকেটের আড়ালে গড়ে তোলা তার বাহীনিদ্বারা প্রভাবিত করে টেন্ডার বাণিজ্য, ঘুষের সিন্ডিকেট ও ক্ষমতার বেপরোয়া অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও এখনো বহাল তরিয়াতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেদারসে। তিনি নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের গোপনে স্টিমিট সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকার আগাম ১০% কমিশনের টাকা  হাতিয়ে নিচ্ছেন তাঁর মনোনীত ঠিকাদার কতৃক। ৫ ই আগষ্ট২০২৪, গন ভবনে পতিত স্বৈরাচারী লীগ সরকারের সাবেক  প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যায়। তাঁর পরে উক্ত স্থান টি জুলাই জাদুঘর হিসেবে সংস্কারকাজের এস্টানাল,ইলেক্ট্রিফিকেশন কাজ বাবদ ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্ধ প্রদান করেন সংসৃষ্ট মন্ত্রণালয়।

বিভিন্ন প্যাকেজ টেন্ডারে পাওয়া যায় ভয়াবহ জালিয়াতির মাধ্যমে অগ্রীম ১০% হারে কমিশন নিয়ে নির্ধারিত অফিস স্টিমিট সরবরাহ করে, “সুবরা কনস্ট্রাকশন”  নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক, সুবরা মোস্তফাকে দিয়ে অতি নিম্নমানের ইলেক্ট্রিক সমগ্রী লাগিয়ে, তাঁর মনোনীত ঠিকাদার কতৃক আঁতাত করে কমিশন বানিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা, মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন লীগের দোসর, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হক। স্থানীয়রা দাবি করেন, ওই প্রতিষ্ঠানকে,গোপন স্টিমিট আগেই সরবরাহ করা হয়েছিল মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে।এই ভাবে চলছে ভয়ানক কমিশন বানিজ্য ও ভুয়া বিল ভাওছার বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। বর্তমানে প্রকৌশল আশ্রাফুল ঢাকা ই এম সার্কেলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘুষের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন তিনি, এখানে তাঁর পছন্দের ঠিকাদার ছাড়া অন্য কেউ সরকারি কাজের টেন্ডারে সুযোগ পাচ্ছেন না বলেই অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “স্যার একাই যেন রাজা। কেউ তাঁর ‘পারসেন্টেজ সিস্টেম’ না মানলে, তাঁদের বদলি বা চাকরি খাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।” তাঁর অফিসে উপ সহকারী প্রকৌশলী এক নারীকে তার বিছানা সর্জা হিসেবে বহুদিন অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে পরেছেন। তাঁর অফিসে তিনি রাজা ও ঐ নারী রানী হিসেবে পরিচিত। রাজা রানীর ভয়ে তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয়ে মুখ খুলতে সাহসও পাননা সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এযেন রঙ্গের হাট বসিয়ে রঙ্গ মন্স চালিয়ে যাচ্ছেন দেদারসে।

স্বৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের আমলে দাপটি, লীগের সুবিধাভোগী এখন আবার নিজেকে বিএনপি ঘরানার বলে দাবি করলেও, শেখ হাসিনার সরকারের সময় নিজেকে ‘আওয়ামীপন্থী’ প্রমাণ করে পদ আঁকড়ে ছিলেন দীর্ঘদিন গনপুর্ত অধিদপ্তরের। সরকারি দল, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজেকে রেখেছেন সব সময় ক্ষমতার কেন্দ্রে। সুত্রে আরও জানা গেছে, মিরপুরে পাইকপাড়া সরকারি কলোনির ১৪ তলা করে, ২৪ টি ভবনের ৩০০ কোটি টাকার এস্টানাল,ইলেকট্রিফিকেশনের কাজ বাবদ,অতিরিক্ত প্রাক্কলন করে, বাজার দূরের চেয়ে অধিক মুল্য দেখিয়ে তার মনোনীত ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশে অতিরিক্ত ১০℅ হারে কমিশন বানিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। এছাড়া একই ভাবে আজিমপুর সরকারি কলোনির দ্বিতীয় ফেজ এর ১৬ টি ভবনের ২৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ বিপরীতে ১০% ও মতিঝিলের সরকারি বাস ভবনে এস্টানাল, ইলেকট্রিফিশনের, ২৫০ কোটি টাকার বিপরীতে ঠিকাদার কতৃক উপরের উল্লেখীত সহ কার্যাদেশ প্রদান করে ১০% হারে কমিশন বানিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন শত কোটি টাকা, এছাড়া ও ছোট খাট টেন্ডারের কারসাজি করে গোপন দর প্রদান করে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ টাকা।

সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকায় ধানমন্ডিতে যে ফ্ল্যাট টিতে বসবাস করেন সেটিরও মুল্য কয়েক কোটি টাকা। তার দেশের বাড়ি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলা কয়েক একর জায়গা রয়েছে নাকি তার স্ত্রী সন্তান দেরকে নামে। ঢাকা অভিজাত এলাকায় রয়েছে তার একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি। স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ব্যাংকে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার এফডিআর। অথচ তাঁর সরকারি বেতন এবং সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এ ধরনের সম্পদের মালিক হওয়া অসম্ভব। এছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িও রয়েছে এবং দেশে ছাড়িয়ে-বিদেশেও  বিপুল অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছিলেন।  জীবনযাপনের মান ব্যয়ের সাথে আয়ের কোনো মিল নেই বলে জানায় সংশ্লিষ্টর গনপুর্ত অধিদপ্তরের কর্মরত একাধিক কর্মকর্তারা। এই বিষয়ে জানতে পত্রিকার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হকের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হয় ফোন রিসিভ না করাতে তাঁর কোন মতামত পাওয়া যায়নি।একজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেওয়া তাঁর দায়িত্ব হলেও, তা তিনি এড়িয়ে গেছেন। গনপুর্ত অধিদপ্তরের আরেক কর্মকর্তা জানান,“আশ্রাফুল হক দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভীতিকর আচরণ দিয়ে সৎ কর্মকর্তাদের কোণঠাসা করে রেখেছেন। তাঁকে এখনই থামাতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও বড় অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে।” স্থানীয় ঠিকাদার, পেশাজীবী, সচেতন নাগরিকসহ অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের নিরপেক্ষ তদন্ত, সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।