অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুলের খুঁটির জোর কোথায়
গণপূর্তে ‘অদৃশ্য শক্তি’ প্রকৌশলী আশ্রাফুলের দুনীতির ক্ষমতার ছায়ায় শতকোটি টাকার কমিশন বানিজ্য

গনপুর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হকের নেতৃত্বে চলছে সীমাহীন দুনীতি। দুনীতির রেকর্ড সৃষ্টিকারী অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হক একনো বহাল থেকে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দের্দাচ্ছে। এ যেন দেখা’র কেউ নেই, কারণ তাঁর আর্শীবাদ হিসাবে আছেন বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী। যে কারণে বেপরোয়া হয়ে ঘুষ দুনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সুত্রে জানা গেছে, ঢাকায় সরকারি পাবলিক লাইব্রেরীর নির্মাণ ব্যায় ধরা হয়েছে ৭০০ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের গনপুর্ত অধিদপ্তর, তাঁর ভেতরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা এস্টানাল, ইলেক্ট্রিফিকেশন কাজ বাবদ বরাদ্ধ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/ এম) আশ্রাফুল হকের অধিনে। কাজের ধরন সেনট্রাল এসি,১০০০ কেবি বৈদ্যুতিক সাব- স্টেশন, ৫০০ কেভি জেনারেটর, ১৫ টি লিফ্ট, এস্টানাল, ইলেকট্রিফিকেশন( এসডি ক্যাবল, এলটি ক্যাবল)সুইজ,সার্কিট, বৈদ্যুতিক কালেকশন, সিসি ক্যামেরা, ইলেকট্রিক সিকিউরিটি সিষ্টেম, লোকাল ল্যান্ড লাইন নেটওয়ার্ক কিং,ওয়াটার কিউরিফাইন সিষ্টেম,পানির মটর পাম্প, সহ অন্য অন্য কাজ চলমান আছে, উল্লেখীত কাজের বিপরীতে তাঁর মনোনীত ঠিকাদার আমানত ইন্টার প্রাইজ ও শুবরা ইন্টার প্রাইজ নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ২ টি কাজ করছে। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে ঘুরে ফিরে একই ভাবে উল্লেখীত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায় কি ভাবে? সুত্র বলছে, দুনীতিবাজ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হকের আস্তা ভাজন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মালিকের সাথে রয়েছে নাকি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। যার কারণে ঘুরে ফিরে তাঁর মনোনীত ঠিকাদাররা কার্যাদেশ প্রদান করেন ঘুফছি টেন্ডারের মাধ্যমে অগ্রীম ১০% কমিশন বানিজ্যের মাধ্যমে। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হক এর ঘুষ বানিজ্যর কারণে অতি নিম্নমানের কাজ সম্পূর্ন হলেও কৃত পক্ষ নিরব ভুমিকা এখন প্রশ্ন বিদ্ধ গনপুর্ত অধিদপ্তরের কর্মরত সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে।
খোঁজ নিয়ে আরও যানা জায়,বেইলি রোডস্থলে সরকারি অফিসার্স ক্লাব ১২ তলা ভবনের নির্মাণ কাজের বিপরীতে ঠিকাদার কতৃক গোপন দর প্রদান করে একই ভাবে ১০০ কোটি বরাদ্দকৃত টাকার বিপরীতে,( এস্টানাল, ইলেকট্রিফিকেশন কাজের বিপরীতে) ঠিকাদার কতৃক ১০% হারে কমিশন নিয়ে অতি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যাবহার করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু মাত্র তার আর্থিক দুনীতি কারণে ডুবতে বসেছে সরকারের উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ড। নাম প্রকাশ না করার সর্তে একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীরা আজকের সংবাদ কে জানান, নারী কেলেংকারী তে পিছিয়ে নেই মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন লীগের দোসর আশ্রাফুল হক। অফিস শেষে সুন্দরী নারীদের আনা গোনা দেখা যায় তাঁর অফিসে। একাধিক অচেনা লোকদের সাথে সুন্দরী মেয়ে নিয়ে তাঁর অফিসে কিংবা বাহিরে বিভিন্ন রিসোর্টে রাত যাপন করেন তিনি। তার স্ত্রী শারীরিক ভাবে অসুস্থ থাকায় বেপরোয়া হয়ে নারী কেলেংকারীতে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি।
একাধিক সুত্রেযানা গেছে, লীগের দোসর দুনীতি পরায়ন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হক লীগের সুবিধাভোগী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে তিনি অন্তত বর্তী সরকারের লোক দাবি করে দাপিয়ে বেড়িয়েছিল।
সুবিধাভোগী ঐ কর্মকতা এখন আবার ভোল পাল্টে বিএনপি পন্থী দাবি করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন গনপুর্ত অধিদপ্তরের। দুনীতি সর্গরাজ্য পরিনত করেছেন তিনি। ঘুষ দুনীতির মাফিয়া হিসেবে ক্ষ্যাত ও মিস্টার ১০% হিসেবে সু পরিচিত গনপুর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মাঝে। দুনীতি পরায়ন লীগের দোসর আশ্রফুল সহ তাঁর অধিনে কর্মরত কিছু দুনীতি পরায়ন কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্য থামছে না। অভিযোগ উঠেছে, বিগত লীগ সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা রাজনৈতিক ভোল পাল্টে কিংবা কৌশলে নিজেদের আড়াল করে এখনো দাপট বজায় রেখেছেন গনপুর্ত অধিদপ্তরের। এখন আলোচিত,সমালচিত নাম নগর গণপূর্ত বিভাগ (ই/ এম ঢাকা জোনের)-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হক। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, টেন্ডার বাণিজ্য এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এখন উত্তাল গণপূর্ত অধিদপ্তরে।
টেন্ডার জালিয়াতি ও অগ্রিম অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আশ্রাফুলের দুর্নীতির কৌশল ছিল বহুমুখী। টেন্ডার চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ঠিকাদারদের কাছ থেকে অগ্রিম কমিশন নেওয়া, কাজ সম্পন্ন না করেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে বিল উত্তোলন এবং অস্তিত্বহীন প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, তার নির্ধারিত কমিশন ছাড়া কোনো বিল পাশ করা প্রায় অসম্ভব।
‘বিশেষ আশীর্বাদে’ উত্থান ও অদৃশ্য ক্ষমতা সূত্রমতে, গণপূর্ত বিভাগ-এ কর্মরত থাকাকালে তৎকালীন প্রভাবশালী সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকারের সান্নিধ্যে আসার পর থেকেই আশ্রাফুলের ক্ষমতার বলয় তৈরি হয়। এরপর তিনি অধিদপ্তরের ভেতরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন,এখনো করছেন। এমনকি সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তার ‘ক্যাশিয়ার’ বা অর্থ সংগ্রাহক হিসেবেও তিনি পরিচিতি পান।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতির দায়ে তাকে কয়েকবার বদলি করা হলেও অদৃশ্য শক্তিবলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। অনেকের মতে, এই প্রকৌশলীর প্রভাবের কাছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও যেন অসহায়।
সম্পদের পাহাড়: গুলশান থেকে মোহাম্মদপুরে অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্নীতির মাধ্যমে আশ্রাফুল হক গড়ে তুলেছেন শতকোটি টাকার সম্পদ। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের যে তালিকা পাওয়া গেছে তা পিলে চমকানোর মতো: দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে ক্যানাডায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেলেন তিনি। ধানমন্ডি, গুলশান: সহ অন্য অন্য জায়গায় অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি।ঘনিষ্ঠ এক ঠিকাদারের মাধ্যমে প্রাপ্ত একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে নাকি তার।
এছাড়া মোহাম্মদপুর ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিজের এবং শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজনের নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি থাকার তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমান সরকারের গৃহায়ণ ও গনপুর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রীর, নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখনো কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যা নিয়ে অধিদপ্তরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার উত্তরাধিকারী’রা বহাল তবিয়তে আছেন এখনো। তবে বর্তমান সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের দাবি, এই প্রকৌশলীর অবৈধ সম্পদের দ্রুত নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
