ফুটপাত আজ আর মানুষের নয়

এ যেন প্রভাবশালীদের নীরব দখলদারিত্বের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। গুলিস্তানে ফুটপাত আছে,কিন্তু সেটা পথচারীর জন্য নয়।এটা যেন কিছু মানুষের অবৈধ আয়ের করিডোর,হাঁটার জায়গাটুকুও আজ বিক্রি হয়ে গেছে স্বার্থের বাজারে।অল্প বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা,তার ওপর ফুটপাত দখল—তখন মনে হয়, এই শহরে মানুষের জীবনের চেয়ে অবৈধ দখলের মূল্য বেশি।প্রতিদিন লাখো মানুষ এই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাস,বহু মার্কেট, অফিস, সব মিলিয়ে গুলিস্তান সবসময়ই ব্যস্ত। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো ফুটপাত দখল ও রাস্তার মাঝখানে অবৈধ দোকানপাট।এখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হয়,যেখানে ফুটপাত থাকার কথা সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য, সেখানে এখন দেখা যায় হকারদের সারি, অস্থায়ী দোকান, ভ্যান, এমনকি রাস্তার মাঝখানেও পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে হাঁটতে হয়। এতে যেমন বাড়ছে যানজট, তেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।জনগনের প্রশ্ন একটাই—ফুটপাত কি পথচারীর অধিকার,নাকি ক্ষমতাবানদের আয়ের উৎস?
রাস্তার মাঝে ফুটপাত—কার স্বার্থে?
ফুটপাত দখলের পেছনে কারা?
অনেক নাগরিক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ফুটপাত দখলের পেছনে শুধু হকাররাই দায়ী নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একাধিক স্বার্থান্বেষী মহল।বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু চক্র ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মিত চাঁদা তোলে। হকারদের কাছ থেকে দৈনিক বা সাপ্তাহিক টাকা নিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় বসতে দেওয়া হয়। ফলে উচ্ছেদ অভিযান হলেও কিছুদিন পর আবার একই চিত্র ফিরে আসে।ফুটপাত দখলের কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।
উচ্ছেদ অভিযান কেন স্থায়ী হয় না?
প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয় না—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কারণ হিসেবে অনেকে বলেন: রাজনৈতিক প্রভাব, চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয়তা,বিকল্প পুনর্বাসনের অভাব,নিয়মিত নজরদারির ঘাটতি, ফলে এই ভোগান্তির কোন স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
তাহলে সমাধান কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে— প্রথমত চাদাবাজ সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে, হকারদের জন্য নির্দিষ্ট মার্কেট বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে পথচারীবান্ধব নগর পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে ফুটপাত সাধারণ মানুষের হাঁটার অধিকার। কিন্তু গুলিস্তানে সেই অধিকার আজ নানা স্বার্থের কাছে জিম্মি। জীবিকার প্রয়োজন যেমন বাস্তব, তেমনি নাগরিক চলাচলের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই মানবিক পুনর্বাসন ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা—দুইয়ের সমন্বয়েই গুলিস্তানের ফুটপাত মানুষের জন্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
