গণপূর্ত অধিদপ্তরের দায় সারা তথ্য প্রদান ।। সত্যকে আড়ালের চেষ্টা
রাষ্ট্র ও সরকারের ক্ষতি করে ছল-চাতুরির আশ্রয় নিচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তর

গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাইসেন্স শাখা দীর্ঘদিন যাবত অনিয়ম এবং দুর্নীতির আকরায় পরিণত হয়েছে। তৈরি হয়েছে বিশাল এক জাল জালিয়াতির সিন্ডিকেট। উক্ত সিন্ডিকেটের মূলহুতাসহ সকলে আছেন বাহাল তবিয়তে। অনিয়ম এবং দুর্নীতি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরেও বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছিল কিভাবে মানি রিসিট টেম্পারিং, সিলমোহর ও সই জালিয়াতি, আবেদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও আবেদন গ্রহণ সহ অভিনব কায়দায় অবৈধ ভাবে টাকার বিনিময়ে মিলছে ঠিকাদারি লাইসেন্স। লাইসেন্স শাখার সিন্ডিকেটের জ্বাল চালিয়াতির মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে যে সকল লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে, সে সকল লাইসেন্সের সত্য তথ্য উদঘাটনের নিমিত্তে গত ৩১/৩ /২০২৬ ইং তারিখ তথ্য অধিকার আইনে একটি আবেদন করা হয় এবং আবেদন চাহিত তথ্যের মধ্যে ছিল-
(ক) গণপূর্ত অধিদপ্তর আওতাধীন ২০২৫-২৬ (অধ্যবধি পর্যন্ত) অর্থ বছরে প্রথম শ্রেণী (সম্মিলিত), ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (সিভিল) এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (ই/এম) ক্যাটাগরিতে কতগুলো নতুন ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।(খ) নতুন ঠিকাদারি লাইসেন্সের দাখিলকৃত আবেদন ফরম ও প্যাডে আবেদন পত্রের কপি । (গ) লাইসেন্সের জন্য দাখিলকৃত ব্যাংক সলভেন্সী ও আয়কর পরিশোধ সনদপত্রের কপি।(ঘ) নতুন ঠিকাদারি লাইসেন্সের আবেদনের ফরমের জন্য জমাকৃত অর্থের মানি রিসিট এবং অনলাইন মানি রিসিট ইত্যাদি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, উক্ত আবেদনের চাহিত বিষয়ে কোন উত্তর প্রদান না করে সত্যকে আড়াল করার জন্য দায়সারা একটি চিঠি প্রেরণ করে যার সংগে চাহিত তথ্যের কোন মিল নেই ।গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী এই অভিনব পন্থা অবলম্বন করে জাল জালিয়াতির সিন্ডিকেটকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন বলে প্রতিয়মান হয়। রাষ্ট্র ও সরকারের ক্ষতি করে কাদের বাঁচানোর জন্য এই জঘন্য ছল-চাতুরির আশ্রয় নিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে আসে,গণপূর্ত লাইসেন্স শাখায় পিয়ন থেকে শুরু করে সকলেই এই সিন্ডিকেটের সদস্য।অধিদপ্তরের কর্তা ব্যক্তিগণ উক্ত বিষয়টি জানার পরেও কোনরকম পদক্ষেপ না নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছেন কিসের বিনিময়ে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক অফিসের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, লাইসেন্স শাখার বর্তমান সুপার আমিনুল ইসলাম, অফিস সহকারী শিপন মিয়া, উচ্চমান সহকারী অহিদুল ইসলাম, অফিস সহকারী আলামিন , অফিস সহকারী ফরহাদ উদ্দীন ও তাজুল ইসলামসহ সিন্ডিকেট রয়েছে একাধিক সদস্য। আওয়ামীলীগের আমলে ফরহাদ উদ্দীন , আলামিন ও ওহিদুল ইসলামের সিন্ডিকেট লাইসেন্স শাখায় কাজ করতো এবং এখনো করছে ।
চাকুরীর শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত একই দপ্তরে কর্মরত আছেন এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, নাছিমা বেগম ২০০৪ সাল থেকে , শামসুল হুদা ২০০৪ সাল থেকে, শাহানা আক্তার ২০০৪ থেকে, ওহিদুল ইসলাম ২০২০সাল থেকে, ফরহাদ উদ্দীন ২০১৮ সাল থেকে, আলামিন ২০১৮ সাল থেকে, শিপন মিয়া ২০২৪ থেকে, সুমন কুমার ২০২১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কর্মরত রয়েছে। শিপন মিয়া এর আগে গণপূর্ত ঢাকা জোনের লাইসেন্স শাখায় কর্মরত ছিল। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে টাকার বিনিময়ে শিক্ষা, এলজেইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সকল ডিপার্টমেন্টের লাইসেন্স তিনি গণপূর্ত অফিসে বসে করেন থাকেন। এবিষয়ে আজকের সংবাদের হাতে কয়েকটি রেকডিংসহ তথ্য প্রমান এসেছে। মো: আমিনুল ইসলাম দীর্ঘ ২০ বছর গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাসা বরাদ্দ শাখা নিয়ন্ত্রণ করেন। বর্তমানে লাইসেন্স শাখা এবং বাসা বরাদ্দ শাখার দুর্নীতির গডফাদার বলাহয় এই আমিনুলকে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাইসেন্স শাখায় কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের রয়েছে অবৈধ পন্থায় অর্জন করা অর্থ এবং সম্পদের ফিরিস্তি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাক্ষাৎ গ্রহণের জন্য একাধিকবার দপ্তরে গিয়েও না পেয়ে মুঠোফোনে খুদে বার্তা এবং ফোন দেয়া হলেও কোন সাক্ষাৎ বা উত্তর পাওয়া যায়নি।
