গাজীপুর পুলিশ সুপারের প্রধান উচ্চমান সহকারি কামালের কমিশন বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৫ ১৭:২৭:০১

গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারি মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। কামাল ঠিকাদার মেসার্স রায় এগ্রো প্রডাক্ট, মেসার্স শাকিল এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স নির্মাণ এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স ছামিরা এন্টারপ্রাইজ-এর কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে এই দুর্নীতি করেছেন বলে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টার জেনারেল ও গাজীপুর পুলিশ সুপার বরাবর এই অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে দেখা যায়, গাজীপুর জেলা পুলিশের জন্য গত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ১ম কোয়ার্টারের রেশন সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ২৭৮৫ নং স্মারকে ও ২৫-০৫-২০২৫ তারিখে একটি দরপত্র আহবানের বিজ্ঞপ্তি দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ৬টি সিডিউল ক্রয়ের আবেদন করলে মো. কামাল হোসেন ৩টি সিডিউল দেন। বাকি ৩টি সিডিউল দিতে অস্বীকৃতি জানান। তার কাছ থেকে সিডিউল না পেয়ে ঢাকা রেঞ্জ কার্যালয় এবং কিশোরগঞ্জ এসপি অফিসে সিডিউলের জন্য যোগাযোগ করে জানা যায় যে এই অফিসগুলোতে সিডিউল বিক্রির জন্য পাঠানো হয়নি গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে। মো. কামাল নিজের পছন্দের ঠিকাদার মেসার্স রায় এগ্রো প্রডাক্টকে অর্থের বিনিময়ে কাজ দেওয়ার জন্যই এই কাজটি করেছেন বলে অভিযোগে দেখা যায়।  

এছাড়া অভিযোগে আরো দেখা যায় যে এই দরপত্রে ঠিকাদার মেসার্স রায় এগ্রো প্রডাক্ট-এর প্রদত্ত দরের চেয়ে ৬ টাকা ৯০ পয়সা বেশি দর দিয়ে কামাল হোসেন কমিশনের বিনিময়ে কার্যাদেশ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। গত ২০২৫ সালের জুন মাসের ১৯ তারিখে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে রেশন সামগ্রী ক্রয়ের আহবানকৃত টেন্ডারে মসুরের ডাল সরবরাহ কাজের জন্য মোট ০৫ জন ঠিকাদার অংশ গ্রহণ করেন। তন্মধ্যে পাপ্পু এন্টারপ্রাইজ মুন্সীগঞ্জ প্রতি কেজি মসুরের ডাল ১৩২ টাকা, এসআর এন্টারপ্রাইজ প্রতি কেজি মসুরের ডাল ১৩০ টাকা, দেওয়ান প্রতি কেজি মসুরের ডাল ১৩১ টাকা ৭০ পয়সা, রায় এগ্রো প্রডাক্ট প্রতি কেজি মসুরের ডাল ১২৩ টাকা, এবং খান এন্টারপ্রাইজ, ঢাকা প্রতি কেজি মসুরের ডাল ১২৮ টাকা ৮৭ পয়সা দর দাখিল করেন। রায় এগ্রো প্রডাক্ট ১২৩ টাকা দর দাখিল করেন। পরবর্তীতে আর্থিক বিধিবিধান এবং পিপিআর এর নিয়মাবলী লংঘন করে সর্বনিম্ন দরদাতা ১২৩ টাকার স্থলে ১২৯ টাকা ৯০ পয়সায় ঠিকাদার মেসার্স রায় এগ্রো প্রডাক্টকে সর্বনিম্ন দরদাতা দেখিয়ে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের ২ লাখ ৪১ হাজার ৬৮০ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

একই ভাবে ভোজ্য সয়াবিন তৈল সরবরাহের ক্ষেত্রে ০৪ জন ঠিকাদার অংশ গ্রহণ করেন। তন্মধ্যে স্টারশিপ প্রতি লিটর ১৬৭ টাকা ৭৯ পয়সা, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিঃ (রূপচাঁদা) ১৮২ টাকা ৭০ পয়সা, পুষ্টি ১৮২ টাকা ৯০ পয়সা এবং সিটি এডিওয়েল ১৮৭ টাকা ৮৭ পয়সা দর দাখিল করেন। ১৬৭ টাকা ৭৯ পয়সা দর দাখিল করে স্টারসিপ সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও ঠিকাদার মেসার্স রায় এগ্রো প্রডাক্ট-এর অধীনস্থ বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিঃ (রূপচাঁদা)-কে ১৮৩ টাকা ৯৯ পয়সা সর্বনিম্ন দর দেখিয়ে কার্যাদেশ সম্প্রদান করা হয়েছে। এখান থেকেও উচ্চমান সহকারি মো. কামাল হোসেন মোটা অংকের টাকা নিজের পকেটস্থ করেছেন বলে অভিযোগে দেখা যায়।

এছাড়া গম পেষাই কাজে মো কামাল হোসেন দরদাতাদের প্রদত্ত দরের বাহিরে নিজের মতো করে দর বসিয়ে তার আরেক নিজস্ব ঠিকাদার মেসার্স শাকিল এন্টারপ্রাইজকে ১২ টাকা ৪০ পয়সা দরে কার্যাদশ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। গম পেষাই কাজে কোনো ঠিকাদারই এই দর দেইনি। প্রদত্ত দরে কার্যাদাশ দেওয়ায় সরকারের ৭৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। এখানেও কামাল মেসার্স শাকিল এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন পেয়েছেন বলে অভিযোগে দেখা যায়।

একই ভাবে মালামাল পরিবহন, শুলি কাজ, জ্বালানী কাঠ সরবরাহ, বস্তা নিলামের ক্ষেত্রেও প্রধান উচ্চমান সহকারী কামাল মোটা অংকের কমিশনের বিনিময়ে কার্যাদেশ প্রদান করেছেন বলেও অভিযোগে দেখা যায়।

এবিষয়ে গাজীপুর পুলিশ সুপারের প্রধান উচ্চমান সহকারি মো. কামাল হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।