কোটি কোটি টাকা অবৈধ উপার্জন করেও এখনও বহাল তবিয়তে

ফ্যাসিস্ট সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট বিআইডব্লিউটিসি’র ভুয়া নিয়োগ প্রাপ্ত প্রকৌশলী স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল 

শেখ নাজমুল
শেখ নাজমুল
প্রকাশিত: মার্চ ২৪, ২০২৫ ১৬:৩১:০৯

স্বৈরাচারী পতিত সরকারের আমলে দাপিয়ে বেড়ানো মহা দূর্নীতিবাজ ঘুষখোর উপ-প্রকৌশল অধীক্ষক (চঃ দাঃ) স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল এখনও বহাল তরিয়াতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বিআইডব্লিউটিসি’তে। পতিত সরকারের অনেক দোসরদের চাকুরী থেকে অপসারণ করা হলেও স্বৈরাচারি দোসর বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মরত স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল কে চাকুরী থেকে অব্যহতি কিংবা বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে চলছে ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের বিরুদ্ধে বিগত সময় আর্থিক অনিয়ম দূর্নীতির কারণে দূর্নীতি দমন কমিশন দুদকে একাধিক অভিযোগ থাকলেও পতিত স্বৈরাচারী সরকারের ক্ষমতার দাপট ও তার অবৈধ টাকার প্রভাবে সেই সকল অভিযোগ ধামা-চাপা পড়ে যায়, যা আজও পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দূর্নীতি, বদলী বাণিজ্য রিপোর্ট প্রকাশ হলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অসাধু কিছু কর্মচারীদের যোগসাজসে সেই সকল পত্রিকার গায়েব করে দেন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন না, তার অবৈধ টাকার প্রভাবে।

সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিসি’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ফুয়েল) এর সামসুল হক পিআরএ যাওয়ার কারণে পদটি শুন্য হয়। উল্লেখিত পদটি পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল এবং কোটি কোটি টাকার নিয়ে মিশনে নামেন উক্ত পদটি পাওয়ার জন্য। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ফুয়েল) পদটি না পেয়ে বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মকর্তাদেরকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বেনামে চিঠি দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে একাধিক কর্মকর্তাগণ আজকের সংবাদকে জানান।

স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলকে বিভিন্ন অভিযোগ থেকে বাজানোর জন্য জৈনক সি কে সরকার নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়যাপ শুরু করছেন কোটি কোটি টাকা মিশন নিয়ে। সূত্রে জানা যায়, বিআইডব্লিউটিসি’র জিএম প্রশাসন জেসমিন ও আইন শাখা কর্মকর্তাদের দুর্বলতার কারণে ভুয়া নিয়োগপ্রাপ্ত স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল চাকুরী যাচ্ছেন নিয়ম বর্হিভুতভাবে। তার বর্তমান কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জে তার অধীনে বরাদ্দকৃত অর্থের বিপরীতে কাজ না করে ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছেন। বেপরোয়া হয়ে বদলী বাণিজ্যে করে যাচ্ছেন, অদক্ষ কর্মচারীদের কে টাকার বিনিময়ে লোভনীয় জায়গায় পুষ্টিং দিয়ে কারি কারি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোনাচোরা নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিসি’র একাধিক কর্মচারী আজকের সংবাদকে জানান নারী কেলেঙ্গকারীতেও পিছিয়ে নেই স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল। নিত্য নতুন প্রায় সময় সুন্দরী রমনী ও অজানা, অচেনা লোকদের আনাঘোনা দেখা যায় অফিস সময়ের পরে।

সূত্রে আরো জানা যায়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অসাধু কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ভুয়া নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে চাকুরীতে বহাল তরিয়াতে আছেন। লীগ সরকারের আমলে দাপিয়ে বেড়ানো স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল তার কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জ থাকলেও বেশির ভাগ সময় তাকে বিআইডব্লিউটিসি’র প্রধান কার্যালয়ে বদলী তদবির করে বেড়াচ্ছেন দেদারচ্ছে। পরিচালকগণ তার এই অবৈধভাবে তদবীর বাণিজ্য দেখেও না দেখার ভান করেন, যে কারণে অনিয়ম-দূর্নীতির স্বর্গরাজ্য পরিণত করেছেন স্বৈরা লীগ শাসকের আর্শিবাদ স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল।

মন্ত্রণালয়ের অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করাতে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়ে বিআইডব্লিউটিসি’র সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে। যে কোন সময় তারা খুশে উঠতে পারেন স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের বিরুদ্ধে। আওয়ামীলীগের আমলে অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে ভুয়া নিয়োগপত্র চাকুরী নিয়ে নিয়ে বিআইডব্লিউটিসি’তে দাপিড়ে বেড়াচ্ছেন দেদারচ্ছে। স্বৈরাচারী লীগ সরকারের অনেক কর্মকর্তাদের পতন হলেও এখনও বহাল তরিয়াতে আছেন উপ-প্রকৌশল অধীক্ষ স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল।

সূত্রে জানা যায়, বিগত ২৬-০৬-২০২৩ উপ সচিব নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় নজরুল ইসলাম এর স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে যার স্মারক নং ১৮.০০.০০০০.০২০.১১.০০১.১৭-৭৬ পত্রের মাধ্যমে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল কে বিআইডব্লিউটিসি’র চাকুরী হইতে অপসারণের লক্ষে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন তৎকালীন চেয়ারম্যান কে। অবৈধ পন্থায় চাকুরীতে বহাল থাকার বিষয়ে মন্ত্রণালয় বিআইডব্লিউটিসি’র কে ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ প্রদান করেন স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল কে শুধুমাত্র বিআইডব্লিউটিসি’র আইন বিভাগ ও প্রশাসন, স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল কর্তৃক আর্থিক দেনদেনের কারণে অবৈধ চাকুরী নিয়মিতভাবে চাকুরী করে যাচ্ছেন দেদারচ্ছে।

বিগত সাবেক চেয়ারম্যান বিআইডব্লিউটিসি’র সঞ্জয় কুমার বর্ণিক এর ছত্র ছায়ায় থেকে বদলী বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যানের নিকট সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী আশাবাদী তদবিরবাজ, ভুয়া অভিযোগবাজ, অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত স্বদেশের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন বলে মনে করেন তারা।