জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রভাবশালী পরিদর্শক সাইদুর রহমানের সম্পদের পাহাড়

এস এম সাইফ আলী ও হাবিবুর রহমান রাজ
এস এম সাইফ আলী ও হাবিবুর রহমান রাজ
প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২৪ ২১:৩৮:৩৭  আপডেট :  অক্টোবর ২১, ২০২৪ ২১:৫৬:৩২

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রভাবশালী পরিদর্শক মো. সাইদুর রহমান বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন অবৈধভাবে। গত আওয়ামী সরকারের সময়ে নিজেকে দলীয় পরিচয় দিয়ে এনবিআর এ প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তিনি অঢেল স¤পদের মালিক বনে গেছেন। পদবিতে কর পরিদর্শক হলেও তিনি অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তি আয়কর ফাইলের সম্পদ বিবরণী পরিবর্তন ও তদবিরের মাধ্যমে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এনবিআর এর আলোচিত ছাগলকান্ডের মতিউর সিন্ডিকেটের একজন সক্রিয় ও অন্যতম সদস্য সাইদুর রহমান। দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে স¤পৃক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকির সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এই সিন্ডিকেট। সাইদুর রহমানের ঢাকার সেগুণবাগিচায় রয়েছে একটি ২ কোটি টাকার ফ্ল্যাট, যা ভাড়া দিয়ে রাখা হয়েছে।

মোহম্মদপুর ঢাকা উদ্যানে রয়েছে দেড় কোটি টাকার আরো একটি ফ্ল্যাট। যেখানে তিনি স্বপরিবারে বসবাস করেন। এছাড়া পুর্বাচলে একাধিক প্লট, জামালপুর তার গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী ও নিজ নামেসহ আত্বীয়-স্বজনের নামে গড়ে তুলেছেন স¤পদের পাহাড়। বছর দু’য়েক আগে ঢাকা কর অঞ্চল-৫ এর ৯৬ সার্কেল থেকে তার বদলী হয় রংপুর কর অঞ্চলে। সরকার পরিবর্তনের পর সম্প্রতি তিনি বদলি হয়ে ফিরেছেন ঢাকার কর অঞ্চল ১৯ এ। অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে তার বিষয়ে।

দুর্নীতি ও অবৈধ স¤পদের বিষয়ে কথা বলতে কর পরিদর্শক সাইদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গর্ব করে বলেন, আমি ছাত্রলীগ করা ছেলে। আমার সরকার নাই কিন্তু আমি এই অবস্থায় বদলী হয়ে ঢাকায় ফিরে এসেছি। তিনি তার প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে নানা ধরনের ইঙ্গিত করে এসব কথা বলেন। অনুসন্ধানে সাইদুরের যেসব স¤পদের খোঁজ মিলেছে তার একটা বড় অংশ তিনি উপহার হিসেবে পেয়েছেন আওয়ামী সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে।

অন্যরূপে সাইদুর: অফিস শেষ করার পর পরিদর্শক সাইদুরকে দেখা যায় ভিন্নরূপে। সন্ধ্যার পরে সেগুণবাগিচায় সে তার ব্যাক্তিগত চেম্বারে বসে বিদেশি মদের আসর বসায়। সেখানে বিভিন্ন পেশার বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষীরা আসে। নিয়মিত এই আসরে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ করেন তিনি। যেদিন তিনি মদের আসরে বসবেন না সেদিন একই চেম্বারে বসে ইয়াবা সেবন করেন তিনি। এছাড়া, মাঝে-মধ্যে তিনি তার ব্যাক্তিগত গাড়ি নিয়ে ৩শ ফিট পূর্বাচলে যান ফেন্সিডিল সেবন করতে।

পূর্বাচল ক্লাবে বসে রথি-মহারথির সাথে হয় তার জম্পেশ আড্ডা। যদিও তিনি ওই ক্লাবের সদস্য নন। কিন্তু বন্ধু সার্কেলসহ সেখানে তার অবাধ চলাচল। ক্লাব থেকে বেরিয়ে আসার সময় প্রতিটি সিকিউরিটি গার্ডকে বকসিস দেন ৫শ টাকা করে ২-৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। এসব তথ্য আজকের সংবাদের এই প্রতিবেদকের হাতে আসার পর তথ্য যাচাই করতে পরিচয় গোপন করে এনবিআরের ফাইলের তদবির করতে তার শরণাপণ্ন হয়ে সপ্তাহখানেক তার পেছনে সময় দিয়ে এসব তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়। তিনি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওমরাহও পালন করেছেন। এসব বিষয়ে সাইদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সেগুনবাগিচার প্ল্যাটের টাকা সম্পূর্ন পরিশোধ করিনি যে কারনে রেজিস্ট্রি হয়নি সুতরাং ওইটা যে আমার তা আপনি প্রমাণ করতে পারবেন না।