বন অধিদপ্তর কর্তৃক বাংলা শকুনের নতুন প্রজননস্হল শনাক্তকরণ

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৩ ১৮:৩১:৫৬  আপডেট :  মার্চ ২, ২০২৩ ১৮:৩৪:০০

বন অধিদপ্তরের সুফল প্রকল্পের অর্থায়নে ও শেখ কামাল ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার, গাজীপুর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন The Status, Distribution and Conservation of Colonial Waterbirds in Bangladesh বিষয়ক গবেষণা কাজটির মাঠ পর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার সময় জানা যায়, পাবনা জেলার বেড়া উপজেলায় বাংলা শকুন এর প্রজনন ক্ষেত্র রয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে জনাব জাহাঙ্গীর কবির, বন্যপ্রাণী পরিদর্শক ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় শকুনের প্রজনন কলোনিটি সনাক্ত ও নিশ্চিত করা হয়।

২৩ শে ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ শেখ কামাল ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার হতে জনাব আল্লামা শিবলী সাদিক, পাখিবিদ শকুন এর প্রজনন ক্ষেত্র পরিদর্শন করেন। এই প্রজনন ক্ষেত্রে ১০-১৮টি শকুন প্রায় ৩৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে (১৯৮৬ সলের আগে থেকে) বাংলা শকুনগুলি প্রজনন করছে। বাংলা শকুনের এমন প্রজনন ক্ষেত্র বন অধিদপ্তর, অন্যান্য সংরক্ষণ সংস্থা ও গবেষকদের জানা ছিল না।

এমনকি বর্তমানে বাংলাদেশে বনভূমির বাহিরে একমাত্র প্রজনন ক্ষেত্র। শকুনের জন্য বাংলাদেশের যে দুটি সেভ জোন অর্থাৎ নিরাপদ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে এই কলোনিটি তার বাইরে অবস্থিত।

বহুদিন পরে লোকালয়ে এটিই শকুনের একমাত্র প্রজনন ক্ষেত্র। বাংলা শকুন (White-rumped Vulture) বিশ্বব্যাপী মাহাবিপন্ন (CR) তালিকায় রয়েছে। শকুনের আবাসস্থল রক্ষা ও প্রজনন কার্যক্রম নিরাপদ করতে শেখ কামাল ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার হতে কিছু উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়।

উক্ত গ্রামে বাংলা শকুন সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় লোকজনদের সমন্বয়ে ১১ সদস্যের একটি দল (শকুন সংরক্ষণ দল) তৈরি করা হয়। শকুনের জন্য বিপদজনক ড্রাগ এর ব্যাবহার জানতে স্হানীয় মার্কেট সার্ভে করা হয় এবং দেখা যায় য়ে, এখনো এ অঞ্চলে শকুনের জন্য ক্ষতিকারক ঔষধ কিটোপ্রোফেন ব্যবহৃত হচ্ছে।

ক্ষতিকারক ঔষধ এর ব্যাবহার নিরুসাহিত করতে স্থানীয় ভেটেনারি সংগঠনের সাথে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করা হয়। প্রজনন মৌসুমে শকুনদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি, জনসচেতনতা মূলক প্রোগ্রাম ও সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে