৫ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহনের সময় হাতে নাতে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃত

দুদকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মুজাফ্ফর উদ্দিন এখন রাজউকের ৩ প্রকল্পের পিডি

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৯, ২০২৩ ২১:৩৫:২২

বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ  রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এখন অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সরকারি বিধি বিধানও সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে না এই প্রতিষ্ঠানটিতে। চেয়ারম্য্রান পদে যাকেই বসানো হচ্ছে তিনিই আকন্ঠ দুর্নীতিতে জড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কলংকিত করছেন। ফলে রাজউক এখন ঘুস দুর্নীেিত সেরা প্রতিষ্ঠানের খেতাব লাভ করেছে।

৩০ হাজার নথি গায়েবের ঘটনায় আলোচনায় থাকা রাজউক সম্প্রতি এক সিনিয়র  প্রকৌশলীকে আক্রোশ বশত: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে বদলী করে উচ্চ আদালত ও গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে। সেটি নিয়ে এখন আদালত পাড়া ও মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাপ করতে করতে কর্ম দিবস শেষ হচ্ছে কর্মকর্তাদের। বিঘ্নিত হচ্ছে নাগরিক সেবার।

বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহনের ৭ মাস পর গোটা রাজউক প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। তিনি দুর্নীতিবাজ চক্রের হাতে হাত মিলিয়ে রাজউক থেকে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে নানা পন্থায় চেষ্টা চালাচ্ছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। এজন্য তিনি রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী উজ্ঝল মল্লিক,তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী মো: মুজাফ্ফর উদ্দিন ও পরিচালক শেখ শাহীনকে বেছে নিয়েছেন।

এখন তাদের মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একটার পর একটা বেআইনী আদেশ জারি ও ফাইল ওয়ার্ক করছেন। সৎ এবং দেশ প্রেমিক কর্মকর্তাদের সাইড লাইনে রেখে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে পদায়ন করে রাজউকে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে। ৫ লক্ষ টাকা ঘুস গ্রহনের সময় হাতে নাতে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃত পরবর্তীতে দুদকের মামলায় ৩ বছরের কারাদন্ডপ্রাপ্ত এক প্রকৌশলীকে বিধিবর্হিভুতভাবে সম্প্রতি ৩ টি প্রকল্পের পিডি নিয়োগ করা হয়েছে।

প্রধান প্রকৌশলীর অতি প্রিয়পাত্র হওয়ায় প্রকল্পের অর্থ হাতিয়ে নেবার লক্ষ্যেই এটি করা হয়েছে। এই প্রকৌশলীর নাম মো: মুজ্াফ্ফর উদ্দিন। তিনি বর্তমানে  তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী পূর্ত সার্কেল -১,অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রকল্প পরিচালক উত্তরা এপার্টমেন্ট প্রকল্প এবং গত ০৪/০১/২০২৩ তারিখে ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের পিডি হিসাবে যোগদান করেছেন। দুদকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামী কিভাবে চাকুরী ফিরে পেয়ে সহকারি প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী ও তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী পদে পদন্নোতি পেলেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা ভঙ্গ করে ৩ টি প্রকল্পের পিডি হয়েছেন তা বিস্মকরই বটে।

দুদকের নথিসুত্রে জানা যায়, মো: মুজাফ্ফর উদ্দিন গত ১৫/০৪/২০০৭ ইং তারিখে ৫ লক্ষ টাকা ঘুস গ্রহনের সময় র‌্যাব-২ এর কর্মকর্তাদের হাতে নিজ অফিসে (রাজউক ভবনের ২০৪ নং কক্ষে  গ্রেফতার হন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের হয় যার নং ৫৩(৪)২০০৭। ধারা: দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ১৯৪৭। মামলাটি দায়ের হওয়ার পর সেটি তদন্ত করেন দুদকের সহকারি পরিচালক তাসিরুল হক। তিনি তদন্ত শেষে চার্জশীট প্রদান করেন। চার্জশীট নং ১০৭ তারিখ ৩/০২/২০০৮ইং। অত:পর মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা স্পেশাল জজ কোর্ট নং ১০ এ গেলে স্পেশাল মামলা নং ০৪/২০০৮ মুলে বিজ্ঞ বিচারক বিচার কাজ শুরু করেন। অত:পর মোট ১৮ জন স্বাক্ষী গ্রহণ করেন। সেগুলো পর্যালোচনা করে যুক্তি তর্ক শেষে বিজ্ঞ স্পেশাল জজ আসামী সহকারি প্রকৌশলী মুজাফ্ফর উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্থ করে গত ২০/০৫/২০০৮ ইং তারিখে ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৪ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের  কারাদন্ডের রায় প্রদান করেন।

এরপর আসামী মুজাফ্ফর উদ্দিন কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন এবং চাকুরী থেকে বরখাস্ত হন। পরবর্তীতে তিনি কারাদন্ড ভোগরত অবস্থায় উচ্চ আদালতে আপীল করেন। ক্রিমিনলি আপীল নং ৩৯৮০/২০০৮। এই আপীল মামলাটি চুড়ান্ত শুনানীর পর গত ইং ০৯/০৬/২০১০ ইং তারিখে তিনি খালাস পান। কিন্তু এই খালাস আদেশের বিরুদ্ধে দুদকের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে কোন প্রকার আপীল করা হয়নি যা অত্যন্ত রহস্যজনক ও দায়িত্ব কর্তব্যে গাফিলতির সামিল। কেন এবং কি কারণে এই আসামীর বিরুদ্ধে দুদক আপীল করেনি তা স্পষ্ট নয়। ফলে একজন স্বীকৃত দুর্নীতিবাজ কেবলমাত্র দুদকের উদাসীনতায় দন্ডমুক্ত হয়ে আবার সরকারি চাকুরীতে যোগদান করে একটার পর একটা পদন্নোতি লাভঅন্তে আরো দ্বিগুন গতিতে দুর্নীতির চর্চা করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে রাজউকের চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানতে তার দপ্তরে ফোন করলে তিনি সচিবালয়ে আছেন বলে জানান হয়। তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী মো: মুজাফ্ফর উদ্দিন বলেন,আমি মামলা থেকে খালাস পেয়েছি। ওটা সাজানো মামলা ছিলো। এ দিকে দুদক কেন এই মামলার বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপীল করেনি তা জানতে চাইলে দুদক সচিব জানান যে, বিষয়টি তাদের আইন শাখা ভালো বলতে পারবেন। তিনি আইন শাখায় কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন।