তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সতীনাথ বসাকের অনৈতিক চাহিদা মেটাতে ঠিকাদারদের নাভিশ্বাস

বহুল আলোচিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের বির্তকিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সতীনাথ বসাক (সার্কেল-২) ও সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রদীপ সিন্ডিকেটে জিম্মী ছিল সার্কেল-২। প্রদীপ অবসরে যাওয়ার পর সেই সিন্ডিকেটের একচ্ছত্র অধিপতি এখন সতীনাথ বসাক। তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী থাকার সময় সখ্যতা ছিল আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীমের সাথে আর তত্ত্বধায়ক প্রকৌশলীর হিসেবে সার্কেল-২ এ আসতে সখ্যতা গড়েন আরেক বিতর্কিত ঠিকাদার গোল্ডেন মনিরের সাথে। তার বিরুদ্ধে নির্বাহী প্রকৌশলী সাভার থাকাকালীণ সময় থেকে ভূয়া-বিল, ভাউচার, কাজ না করে সরকারী টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাতের অভিযোগ থাকলেও তিনি সার্কেল-২ এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্কেলে প্রাইজ পোস্টিং পান।
সার্কেলটি গণপুর্ত ডিভিশন-৩, ডিভিশন-৪, ইডেন ভবন ও মেডিকেল কলেজ ডিভিশন নিয়ে গঠিত। গুরুত্বপূর্ণ সরকারী প্রতিষ্ঠান থাকায় সারা বছর কাজ চলে এই সার্কেলের অধীণে। প্রতিটি টেন্ডারের বিপরীতে ৩ থেকে ৫ শতাংশ টাকা দিতে হয় বলে ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন। নির্বাহী প্রকৌশলীদের দপ্তর থেকে ফাইল পাঠানোর সাথে সাথে কমিশনের বিষয়টি নিশ্চিত না করলে সেই ফাইল নিয়ে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। সরকারী টাকায় বারবার নিজের রুমে ডেকোরেশন বদল করে ব্যাপক বির্তকের মুখে পড়েন সতীনাথ বসাক। সতীনাথ ও প্রদীপ সিন্ডিকেট সর্বোচ্চ লুটপাট করে মেডিকেল কলেজ ডিভিশনে।
প্রদীপ এক সময় তার নিকট আত্মীয়কে দিয়ে ঠিকাদারী শুরু করেন যার মদদদাতা ছিলেন সতীনাত বসাক। বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতীষ্ঠানের লাইসেন্স ভাড়া হিসেবে নিয়ে তারা এই কাজ করেন। যার পর্যাপ্ত দালিলীক প্রমাণ আজকের সংবাদের হাতে এসেছে। এছাড়াও অবসরে যাওয়ার আগে প্রদীপ ও সতীনাথ বসাক এনডিই নামীয় একটি প্রতিষ্ঠানকে পাবলিক লাইব্রেরী কাজ দিতে ডিভিশন চার এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে বাধ্য করেন। এই কাজের জন্য গোটা সিন্ডিকেট মোটা অংকের উৎকোচ নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন সতীনাথ বসাক।
গণপূর্ত ডিভিশন ৩ এর বেশীরভাগ কাজে গোজাঁমিল দিয়ে জুন ক্লোজিংয়ের সময় তড়িঘড়ি বিল দেন নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার ইবনে শাইখ ও সতীনাথ বসাক জুটি। ঠিকাদারের সাথে ৫০ শতাংশ কমিশন নিয়ে অসম্পন্ন কাজের বিল দেয়া হয়েছে। যা সরকারী অর্থের তছরুপ। ঢাকার তেজগাঁও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের বাংলো-১ এর দরজা,জানালার থাই গ্লাস লাগানো,টাইলস বসানো এবং কেন্দ্রীয় ভবনের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন মেরামত, গ্যারেজ কাম ড্রাইভার কোয়ার্টারের নিচতলায় সিলিং মেরামতসহ আরো কিছু কাজের জন্য গত ৫ জুন ১৯ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা অনুমোদন দিয়েই ৫০ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে কাজ অ-সম্পন্ন রেখে বিল দিয়ে দেন।
রাজস্ব ভবন ও অডিট অধিদফতরের সংস্কার ও রং করার নামে এই দুজনে যোগসাজশে টাকা আত্মসাত করে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, অডিট ভবনে শুধু লিফটের সামনে অংশে মেরামত করা হয়েছে। উক্ত ডিভিশনের সকল ভাউচার বিল যাচাই করলে বড় ধরণের গোঁজামিল বের হবে বলে দাবী করেন ঐ ডিভিশনের কয়েকজন ঠিকাদার। কারণ নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার গং ব্যক্তিগত খরচের টাকাও ভাউচার বিলের মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করেন বলে দুদকে জমাকৃত একটি অভিযোগ থেকে জানা যায়। এছাড়াও কেন্দ্রীয় কারাগারের বিভিন্ন খাত দেখিয়ে টাকা আত্মসাত করেছেন কায়সার।
২০২০-২১ ও ২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ২০ কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে আত্মসাত করেছে কায়সার ও সতীনাথ জুটি। তড়িঘড়ি করে বরাদ্দ দিয়ে নিজেরাই ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে টাকা তুলেন। ঠিকাদার, ইস্টিমেটর ও তাদের অধিনস্থদের একটি বিশাল সিন্ডিকেটের কারণে অন্য কোন ঠিকাদার এখানে কাজের সুযোগ পায় না। ৩ নম্বর ডিভিশনের চলমান কাজ ও জুনে সম্পন্ন কাজের বিল প্রদানের সুষ্ঠ তদন্ত করলে সরকারি কয়েক কোটি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে অধিদপ্তরটির কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করেন। এসব বিষয়ে তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী সতীনাথ বসাকের সাথে ফোনে এবং অফিসে গিয়ে বক্তব্য চাইলে তিনি সময় নিয়ে কালক্ষেপন করে অন্য একজন প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করতে বলেন আর তার কোন বক্তব্য নেই বলে জানান।
