গণপূর্তে মামা ভাগ্নে সিন্ডিকেটের কালোথাবা

গণপূর্তে চলছে ভয়াবহ লুটপাট। খোদ প্রধান প্রকৌশলী তার আপন মামা কথিত সাংবাদিক সিরাজুল ইসলামকে দিয়ে চালাচ্ছেন লুটপাট। এই মামার অব্যাহত অপতৎপরতা ও খবরদারিতে গোটা অধিদপ্তরের প্রকৌশলী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
এই মামার হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায় সিরাজুল ইসলাম নামের এই কথিত মামা ইতিপূর্বে আন্ডারগ্রাউন্ড কোন পত্রিকার সংবাদদাতা পরিচয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল থেকে দৈনিক চাঁদা আদায় করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। হোটেল থেকে শুধু চাঁদাবাজিই নয় নিজেও বিনা পয়সায় মাঝে মধ্যে আমোদফূর্তী করতেন।
সম্প্রতি তার আপন ভাগ্নে প্রকৌশলী শামীম গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী পদে যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় গণপূর্তে চাঁদাবাজি। রাতারাতি বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। গণপূর্ত ভবনে তার অবিশ্বাস্য দাপট। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী,উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী,সহকারি প্রকৌশলী সবার কাছেই তিনি কমন মামা নামে পরিচিত। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার তার আপন ভাগ্নে। আর এই পরিচয়েই তিনি প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারী ও ঢাকার বাইরে বদলী বাণিজ্য করে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
প্রধান প্রকৌশলীর ব্যবসায়িক পার্টনার কিংডম বিল্ডার্সের মালিক নুসরাত আহমেদের সাথে তার ঘনিষ্ঠতাও চোখে পড়ার মত। প্রায়ই নাকি নুসরাত আহমেদকে তার ফø্যাটে নিয়ে আমোদ ফুর্তি করেন। বিনিময়ে তিনি পেয়ে থাকেন তার বিশেষ আনুকুল্য। মহাভাগ্যবান এই মামার নাম মো: সিরাজুল ইসলাম।
রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলায় তার বাড়ী। ইদানিং আপন ভাগ্নে প্রধান প্রকৌশলীর বদৌলতে তিনি বনেগেছেন শত কোটি টাকার মালিক । ঢাকায় আলীশান ফ্ল্যাটে থাকেন। নতুন নতুন মডেলের গাড়ীতে চড়েন। তার চালচলন দেখলে মনে হয় তিনি কোন শিল্পপতি বা প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা। এই সিরাজুল ইসলামের কথায় নাকি গণপূর্ত অধিদপ্তরে এখন অনেক অসাধ্য কাজ সাধ্য করা যায়। তিনি তার ভাগ্নে প্রধান প্রকৌশলী মো: শামীম আখতারকে দিয়ে যা খুশি তা করাতে পারেন। বিনিময়ে যে কমিশন পান তা দিয়েই রাজকীয় জীবন যাপন করেন।
একাধিক সুত্রে জানাগেছে, মামা সিরাজুল ইসলাম প্রায়ই ঢাকা ও ঢাকা মেট্রো জোনের কোন না কোন নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে হাজির হন। ভিআইপি মর্যাদায় আপ্যায়িত হন। কোটি কোটি টাকার টেন্ডারে অংশ নেন। ভাগ্নের প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারী কাজও বাগিয়ে নেন। পরবর্তীতে সে কাজ অন্য ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করে দেন। প্রধান প্রকৌশলী মো: শামীম আখতারের অনিয়ম দুর্নীতি যাতে কোন মিডিয়ায় প্রকাশ না হয় সে জন্য তিনি অলিখিত ঠিকাদারী নিয়েছেন। এ খাতে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে। কিন্ত কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার মাঝে ২০/৩০ হাজার টাকা বিতরণ করেই বাকি টাকা পকেটস্থ করেন।
ফলে প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গত এক মাস যাবৎ একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সিরিজ রিপোর্ট প্রকাশ হয়েই যাচ্ছে। একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে সিরাজুল ইসলাম ইতোমধ্যেই প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নিয়েছেন। তাকে নিয়ে এখন গণপূর্ত অধিদপ্তরে নেতিবাচক আলোচনার ঝড় বইছে। মামাই ভাগ্নেকে ডুবাবে এমন মন্তর্যও করেছেন কেউ কেউ। এখন মামা ভাগ্নে সিন্ডিকেটের কালোথাবা থেকে মুক্তি চান গণপূর্তের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। এ বিষয়ে কথা বলতে মো: সিরাজুল ইসলামের সেল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সংযোগ পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী অঞ্চলের একজন সাংবাদিকের দেয়া তথ্য মতে এই সিরাজের কাছে বিভিন্ন কোম্পানীর ২১টি মোবাইল সীম রয়েছে। তিনি যখন যেটা খুশি সেই সীম ব্যবহার করেন। এ কারনে তিনি না চাইলে তার সাথে কারোর মোবাইল যোগাযোগ সম্ভবপর হয় না। প্রায় প্রতিদিনই এই মামা সিরাজকে সেগুনবাগিচাস্থ গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সহ পদস্থ কর্মকর্তাদের রুমে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্বচ্চতা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে আইনানুুগ ব্যবস্থা গ্রহন সহ অধিদপ্তরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন।
