জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ( পর্ব-১) 

অর্থ আয়-ব্যয়ে অডিট আপত্তি, নির্বাহী প্রকৌশলী মিরাজ হোসেনের সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা 

আক্তারুজ্জামান রকি
আক্তারুজ্জামান রকি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২ ২২:৩৬:১৫

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত  মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) কার্যালয়ের ২০২০-২০২১ অর্থবছরের অডিট প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি অর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েছে।

প্রকল্প ও প্রকৌশল শাখায় এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। ই/এম শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মিরাজ হোসেন সার্বিক মেরামত ও সংরক্ষণ বাবদ অনিয়মিত ব্যয় করেছেন ৮২ লক্ষ ২ হাজার ২ শত ৬৬ টাকা। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ই/এম কার্যালয়ে মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের বিল,এমবি ও সমর্পন  বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা যায় নতুন মালামাল ফিটিং এর ক্ষেত্রে  পুরাতন মালামাল উদ্ধার দেখানো হয়নি। কিন্তু নতুন মালামাল প্রতিস্থাপন করা হলে পুরাতন মালামাল উদ্ধার হওয়ার কথা।

সংগৃহিত নতুন মালামাল  ফিটিংস এর ক্ষেত্রে ঠিকাদারের নিকট হতে সংগ্রহ করার পর তা সংস্থার স্টোরে অর্ন্তভুক্ত করতঃ কাজের বিপরীতে ইস্যু করা হয়েছে মর্মে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নতুন মালামাল সংগ্রহ ও ইস্যুর জন্য কোন গ্রহণ ও বিতরণ রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হয়নি। মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে অনিয়মিতভাবে সংস্থার টাকা ব্যয় করা হয়েছে ।

সিপিডব্লিউ ‘এ’ কোডের ১২৯ প্যারা মোতাবেক উদ্ধারকৃত  মালামালের সার্ভে রিপোর্ট প্রস্তুত করে নিলামে বিক্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ অডিট কমিটি জুন ২২ সালে করলেও অদ্যবধি দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জাগৃক সুত্রে জানা যায়। অনিয়মের কারণ হিসেবে সিপিডব্লিউ ‘এ’ কোডের ১২৯ প্যারা অনুসরন করা হয়নি বলে অডিট কমিটি উল্লেখ করেন। 

এছাড়াও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অফিসে গিয়ে মিরাজ হোসেনের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার ও কর্মচারীগণ অভিযোগ করেন, সারাদেশে একজন ই/এম নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়ন্ত্রণ করায় প্রতিটি কাজে তার চাহিদা মতো উৎকোচ প্রদান না করলে সেই ঠিকাদার কোন কাজ পায় না। অডিট আপত্তি নিয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারদেও পক্ষ থেকে আজকের সংবাদকে জানায়, এটাতো আংশিক এর চেয়ে আরো বড় ধরণের অনিয়ম করেন তিনি।

স্টোরের রেজিস্টার সংরক্ষণ না করার বিষয়ে তারা জানায়, রেজিস্টার থাকলে তো দরপত্রে উল্লেখিত মালামালই দিতে হবে,অনেক মালামালের  পরিবর্তন ঘটানো হয় আর বিনিময়ে লাভবান হন নির্বাহী প্রকৌশলী মিরাজ হোসেন। শত অনিয়মের পরও অজ্ঞাত কারনে চাকরিতে বহাল তিনি।

এসব বিষয়ে ই/এম নির্বাহী প্রকৌশলী মিরাজ হোসেনের অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ক্ষুদে বার্তা ও ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।