প্রয়োজন শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন

মতিঝিলে যমুনা ব্যাংকের কমার্সিয়াল স্পেস ক্রয়ের নামে ২৫ কোটি  টাকা লোপাটের আয়োজন সম্পন্ন 

বিশেষ প্রতিবেদকঃ
বিশেষ প্রতিবেদকঃ
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২২ ২০:২৭:৪১

যমুনা ব্যাংক কমার্সিয়াল স্পেস ক্রয়ের নামে ২৫ কোটি টাকা লোপাটের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে, প্রয়োজন শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন।

ব্যাংকের একটি স্বার্থান্বেষী মহল সুপরিকল্পিত ভাবে মতিঝিলে প্রস্তাবিত রুপায়ন রেড ক্রিসেন্ট টাওয়ারে ৮,৬৯৫ বর্গফুটের একটি কমার্সিয়াল স্পেস প্রতি বর্গফুট ৪৮,০০০ টাকা হারে ৫টি গ্যারেজসহ মোট ৪২,২০,৬০,০০০ টাকা ব্যয়ে ক্রয়ের আয়োজন চুড়ান্ত করেছে।

ব্যবসায়ীরা যখন মতিঝিল ছেড়ে গুলশানে ব্যবসায়ীক কার্যালয় স্থানন্তর করছে, তখন এ বিপুল পরিমান টাকা ব্যয়ে মতিঝিলে যমুনা ব্যাংকের কমার্সিয়াল স্পেস ক্রয় উদ্দেশ্য প্রনোদিত। যমুনা ব্যাংকের জন্য স্পেস গুলশানে না কিনে মতিঝিলে স্পেস ক্রয়ের নামে ২৫ কোটি টাকা লুটপাটের আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ঢাকা শহরের মতিঝিল এখন বলাযায় চলাচলের প্রায় অযোগ্য।

একসময় মতিঝিল ছিল ঢাকার ব্যবসার কেন্দ্রস্থল। এখন তা চলে গেছে গুলশানে। সকল বাণিজ্যিক অফিসের প্রাণকেন্দ্র এখন গুলশানে। সেখানে যমুনা ব্যাংকের জন্য মতিঝিলের মতো স্থানে এ বিপুল পরিমান টাকা ব্যয়ে স্পেস ক্রয় করা উদ্দ্যেশ্য প্রনোদিত। যমুনা ব্যাংকের প্রায় ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াই একটি মহলের এ স্পেস ক্রয়ের মূল উদ্দেশ্য। অগ্রহণযোগ্য অজুহাতে এ ফ্ল্যাট ক্রয়ের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করা হয়।

রুপায়ণ হাউজিং স্টেট লিমিটেড মতিঝিলের ৮৬-৮৭ হোল্ডিং ঠিকানায় ১৫ কাঠা জমির উপর ১৫ তলাবিশিষ্ঠ একটি ভবণ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রকল্পটি রাজউকের নীতিগত অনুমোদন পেলেও চুড়ান্ত অনুমোদন এখনও পায়নি। ২০২৪ সালের আগষ্ট মাসে যেটির কাজ সম্পন্ন হবার কথা রয়েছে।  

এ মহুর্তে এর টাওয়ারের কাজ মাটির নীচে। রুপা য়ণ হাউজিং স্টেট লিমিটেড যমুনা ব্যাংকের কাছে ৮,৬৯৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট প্রতি বর্গফুট ৫২,০০০ টাকা হারে ৪টি গ্যারেজসহ ৪৫,৬০,৪০,০০০ টাকায় বিক্রয়ের প্রস্তাব দেয়। ব্যাংক র্কতৃপক্ষ সাজানো নাটক করে সুবিধাভুগীদের দিয়ে একটি ক্রয় কমিটি গঠন করে পরিকল্পিত ভাবে প্রতিবর্গফুট স্পেসের দাম প্রতি বর্গফুট ৫২ হাজার থেকে কমিয়ে ৪৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে ৫টি গ্যারেজসহ ৪২,২০,৬০,০০০ টাকায় এ স্পেস ক্রয়ের জন্য চুড়ান্ত করা হয়।

জানা গেছে, বিধি মোতাবেক ব্যাংকের টাকায় কমার্সিয়াল স্পেসটি ক্রয়ের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়। সে কাজটিই এখন করা হচ্ছে। সকল আয়োজন এখন সম্পন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর বদল হবার আগেই তাড়াহুরো করে এ অনুমোদন আদায় করার জোড়া প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশর ব্যাংকের অনুমতি প্রদান এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। যমুনা ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের পকেট ভারি করার জন্য প্রতিবর্গফুট ২০,০০০ টাকা রেটের ফ্ল্যাট ৪৮,০০০ টাকা হারে ক্রয় করে প্রায় ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার আয়োজন এখন চুড়ান্ত।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে যমুনা ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তর থেকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রুপায়ণ বিল্ডিং স্টেট লিমিটেডের ৮৬-৮৭ মতিঝিল ঠিকানায় ১৫ কাঠা জমির উপর ১৫ তলাবিশিষ্ঠ নির্মানাধীন রুপায়ন রেড ক্রিসেন্ট টাওয়ার নামে একটি ভবনে যমুনা ব্যাংকের জন্য ২৫ নভেম্বর, ২০২১ তারিখে নির্মাণাধীন রুপায়ন রেড ক্রিসেন্ট টাওয়ার এর দ্বিতীয় তলায় প্রতি বর্গফুট ৫২,০০০ টাকা দরে ৮,৬৯৫ বর্গফুট সাইজের একটি স্পেস এবং ৪টি গ্যারেজ ৪৫,৬০,৪০,০০০ টাকায় ক্রয়ের জন্য একটি  প্রস্তাব পাঠানো হয়।

মজার বিষয় একই তারিখে অর্থাৎ ২৫ নভেম্বর, ২০২১ তারিখে একই রেটে উল্লিখিত স্পেস ও গ্যারেজ  বিক্রয়ের প্রস্তাব দিয়ে ৫০ ভাগ টাকা বুকিং মানি প্রদানের প্রস্তাব দেয় রুপায়ণ বিল্ডিং স্টেট লিমিটেড। এতেই বুঝা যায় এ স্পেস ক্রয় বিক্রয় যমুনা ব্যাংকের বিপুল পরিমান টাকা লুটপাটের একটি নাটক মাত্র।

২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর ব্যাংকের ৩৯২ তম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আলোচ্য বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ৩৯৪তম বোর্ড সভায় উল্রিখিত স্পেসটি যমুনা ব্যাংকের জন্য ক্রয়ের বিষয়টি সন্দেহ জনক। কারন  এমডি'র দপ্তর এ স্পেসের মূল্য প্রস্তার করে প্রতিবর্গফুট ৬৪,০০০ টাকা, রুপায়ন রেড ক্রিসন্ট কর্তৃপক্ষ অফার দেয় ৫২,০০০ টাকা এবং ক্রয় করছে ৪৮,০০০ টাকা করে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, একটি মহলের চাপে ২০২২ সালের ১৪ মার্চ, ব্যাংকের ৩৯৬ তম বোর্ড সভায় যমুনা ব্যাংকের জন্য উল্লিখিত ৮,৬৯৫ বর্গফুটের স্পেসটি প্রতিবর্গফুট ৪৮ হাজার টাকা দরে ৫টি গ্যারেজসহ ৪২,২০,৬০,০০০ টাকায় ক্রয়ের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেতে পারে যমুনা ব্যাংক।