মহাপরিচালক পদ স্থায়ী করার লক্ষে আমলাদের নিকট দোড় ঝাঁপ (পর্ব-১)
ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের দোসর ডিএই’র রুটিন দায়িত্ব থাকা মহা পরিচালক রহিম ২ টি পদে থেকে চালাচ্ছেন অব্যহত দুনীতির মহোৎসব, চলছে রমরমা কমিশন ও বদলী বানিজ্য

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের দোসর মহা- পরিচালক( রুটিন দায়িত্বে থাকা) আব্দুর রহিম এর লাগামহীন দুনীতির কারণে কৃষি খাতের গতানুগতিক হারে গতিশীল কমেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুত্রে যানা জায়, পতিত স্বৈরাচারী লীগ সরকারের সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের আস্তা ভাজন মহা ক্ষমতাধর লীগের দোসর রহিম ডিএই” তে “ ২ টি পদ বাগীয়ে নিয়ে এখনো বহাল তরিয়াতে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দের্দাচ্ছে।
সাবেক কৃষি সচিব এমদাদুল্লাহ মিয়ানের সুপারিশে গ্রেট -২ পরিচালক পদে পদায়ন করে খামারবাড়ির উদ্ভিদ সংগ নিরোধ উইংয়ের পরিচালক পদে পদায়ন করা হয়। উক্ত দপ্তরে যোগদান করে তাঁর নেতৃত্বে গড়ে তুলেছিলেন সু বিশাল সিন্ডিকেট বাহীনি। সেই সিন্ডিকেট বাহীনি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে ঘুষের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন ডিএইতে। এককথায় হয়রানির আরেক নাম ডিজি রহিম ও তার সিন্ডিকেট বাহীনি। সরকারি অর্থ বরাদ্ধের সিংহ ভাগ টাকা ভুয়া বিল ভাউচার, বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। বদলী বানিজ্য, টেন্ডার বানিজ্য, সহ নানান ভাবে কমিশন বানিজ্য করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। মহা পরিচালকের রুটিন দায়িত্ব থেকে, স্হায়ী দায়িত্ব পাওয়ার জন্য সরকারের আমলাদের নিকট ধরনা দিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে একাধিক সুত্রে যানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছ, মহাপরিচালক মোঃ আব্দুর রহিমের অদক্ষতা, ক্ষমতার অপব্যবহারের অনিয়মে খামারবাড়ি থমথমে বিরাজমান। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) ০৭/০১/২০২৬ তারিখে যোগদানকৃত রুটিন দায়িত্বে থাকা মহাপরিচালক মোঃ আব্দুর রহিমকে ঘিরে সৃষ্টি হচ্ছে নানা ধরনের সমস্যা। নেই মাঠ পর্যায়ে কোন কার্যক্রম এমনকি আঞ্চলিক পর্যায়ে অতিরিক্ত পরিচালকদের সাথে নেই ভালো সম্পর্ক।
প্রাক্তন বিভিন্ন কর্মস্থলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার চাকুরি জীবনে কখনো জেলার উপপরিচালক এবং আঞ্চলিক কার্যালয়ে অতিরিক্ত পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেননি। যার কারণে মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা এবং আঞ্চলিক পর্যায় তার কোন কর্মদক্ষতার প্রামাণ মিলেনি। মোঃ আব্দুর রহিম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কাজে ক্ষেত্রে একেবারেই অনবিজ্ঞ। বিধায় কাজীর কিতাবে আছে গোয়ালে নেই, তেমনি বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের নেতা বর্তমান মহাপরিচালক মোঃ আব্দুর রহিমের মুখরোচক কথা আছে কিন্তু মাঠের বাস্তব কার্যক্রমে তার প্রতিফলন নেই। তিনি বিভিন্ন মাঠ পরিদর্শনের নামে আঞ্চলিক/জেলা অফিস সমূহে আনন্দ ভ্রমন করলেও কৃষি খাতে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন ঘটাতে পারেননি তার অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার কারণে।
অভিযোগ রয়েছে স্বেরাচারী ফ্যাসিষ্ট সরকারের অনুসারী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকদের ম্যানেজ করে প্রকল্পের বিপুল পরিমান অর্থ ব্যবহার করে মাঠ এবং বিদেশে প্রমোদ ভ্রমন করেন। উন্নয়ন প্রকল্পের টাকায় আঞ্চলিক কর্মশালায় যোগদান করে মুখরোচক বক্তব্য প্রদান মোটা অংকের সম্মানি গ্রহণসহ ঢাকায় ফেরতের সময় সরকারি গাড়ী ভর্তি মোটা অংকের টাকা উপহার উপঢৌকন নিয়ে আসেন। এ যাবৎ পর্যন্ত ঐ সকল কর্মশালায় মাঠের কৃষক পর্যায়ে কোন উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি এই আব্দুর রহিম। বরং এপ্রিল/২০২৬ বোরো মৌসুমে হাওরের পর্যাপ্ত পরিমান ধান কাটার সময় কোন কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য ১৯-২৭ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ভ্রমনে চলে গেলেন। যার ফলে দেশের ৮০% ধান উৎপাদনকৃত এলাকা হাওরে ঘটে গেল বড়ধনের বিপর্যয়। হাওরের কৃষকদের জীবনে বয়ে আসল বড় ধরনের ক্ষতি, কৃষকদের কেউ কেউ ঋণ নিয়ে তার ফসল করেছেন, কারো কারো পুরো বছর চলে এই উৎপাদিত ফসলে।
অথচ রুটিন দায়িত্বের ডিজির হাওরের ফসল কর্তনে তেমন কোন ভুমিকাই রাখলেন না। আমরা দেখেছি পূর্ববর্তী বছরগুলিতে হাওরের ফসল কর্তনের সময় হলে দেশের ভিন্ন অঞ্চল থেকে কম্বাইন হারভেস্টার এনে বড় ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন সাবেক মহাপরিচালকগণ। দেশের কৃষি খাতের বড় ধরনের প্রকল্প কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পকে কাজে লাগাতে পারেননি বর্তমান রুটিন দায়িত্বে থাকা মহাপরিচালক মোঃ আব্দুর রহিম। বিশেষ মারফতে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে হাওরের ফসল তুলতে না পারায় এবার দেখা দিবে বড় ধরনের খাদ্য সংকট।
কৃষি পণ্য আমদানী রপ্তানিতে তেলেসমাতি কারসাজিঃ
সাবেক কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের আহবানে ৪ আগস্টে খামারবাড়ির সম্মুখে ছাত্রজনতার মুখোমুখি অবস্থান করেন মোঃ আব্দুর রাহিম। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর মুজিব শতবার্ষিকী উৎযাপনের আহব্বায়ক সাবেক কৃষি সচিব এমদাদুল্লাহ মিয়ানের আস্থাভাজন এবং স্বৈরাচারী সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন আমলাদের সুপারিশে ০২/০২/২০২৫ খ্রিঃ তারিখে গ্রেড-২ পরিচালক পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে ২৪/০২/২০২৫খ্রি. তারিখে উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইং এ যোগদান করেন। যোগদান করেই আওয়ামী পন্থী আমদানী ও রপ্তানীকারকদের বিশেষ বিশেষ অনৈতিক সুবিধা দিয়ে এমদাদ উল্লাহ মিয়ান এর আস্থাভাজন হয়ে রুটিন দায়িত্বে মহাপরিচালক পদে যোগদান করেন মোঃ আব্দুর রহিম মিয়া। সংগনিরোধ উইং এ থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সাবেক কৃষি সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের নির্দেশনায় মোঃ আব্দুর রহিমের পৃষ্ঠপোষকতায় অনভিজ্ঞতার অভাবে সরাসরি হস্তক্ষেপে সফটওয়্যারের মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানীর ৩ হাজার এর অধিক আবেদন জমা পড়ে।
আবেদনগুলো নিয়ে সরকার বিপাকে পড়লে সর্বোচ্চ ৫০ জনকে অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে অনেক পেঁয়াজ আমদানী কারকগণ আদালতে মামলা দায়ের করেন। এতো কিছুর পরও উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইং এ মোঃ আব্দুর রহিম মাসিক ৫০ হাজার টাকা বেতনে মোঃ জাকির হোসেন নামের তার নিকট আত্মীয়কে ব্যক্তিগত অনিয়মতান্ত্রিক অর্থ ইনকামের জন্য মৌখিকভাবে নিয়োগ করেছেন। মৌখিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মোঃ জাকির হোসেন সকল আমদানী রপ্তানির অনুমতিপত্র নিয়ন্ত্রণ করে মাসে কোটি টাকা ইনকাম করে দেন বর্তমান মহাপরিচালক আব্দুর রহিমকে। যার জন্য এখনো সংগনিরোধ উইং ছেড়ে আসেননি তিনি।
মোঃ আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে প্রভাবশালী চক্র আমদানী অনুমতিপত্রের সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ করে মোটা অংকের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তার নিজস্ব পছন্দের ব্যক্তিদের অনুমতি পাইয়ে দেন। পাশাপাশি মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্ব পাওয়ার পর বদলী বানিজ্য থেকে শুরু করে সকল আর্থিক অনিয়ম করে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগী কয়েকজন আমদানিকারকের দাবি, প্রতি পারমিশনের বিপরীতে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন এই মহাপরিচালক আব্দুর রহিম। তাদের ভাষ্য, “যারা টাকা দিতে পেরেছেন, তারাই অনুমতি পেয়েছেন।
পরিচিত কর্মকর্তা না থাকায় অনেক বড় আমদানীকারকই অনুমতি পাননি।” সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, পরিচালক উদ্ভিদ সংগনিরোধ আব্দুর রহিমের যোগসাজসে সাজেদুল অফিসসহকারী ও মোঃ শামীম আকন্দ, উচ্চমান সহকারীসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। “অনলাইন আবেদন চালুর পর সাধারণ আবেদনকারীরা সার্ভারে ঢুকতেই পারতেন না। অথচ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ৫০ জনের কোটা পূরণ হয়ে যেত। এটি অনেকটা রেলের টিকিট কালোবাজারির মতো পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছে।” সফটওয়্যার কোম্পানির প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে সিস্টেমে জট তৈরি করে রাখা হতো। একইভাবে সকল কৃষি পন্য আমদানী এবং রপ্তানীতে অনুমতি পত্র বাবদ মাসিক একটি মোটা অংকের ঘুষ মোঃ জাকির হোসেন দ্বারা উত্তোলন করেন। মাস শেষে উইং এর অধিকাংশ কর্মকর্তা - কর্মচারীসহ ভাগবাটোয়ারা করে নেন।
