বাজেটে বৈষম্য দূর ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর আহ্বান জামায়াত আমিরের

সংসদ প্রতিনিধি
সংসদ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬ ১৩:৪১:১০

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি ইনসাফভিত্তিক বাজেট তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বাজেটের সুফল থেকে কোনো নাগরিক যেন বঞ্চিত না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে কওমি মাদ্রাসা, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং দীর্ঘদিন এমপিও বঞ্চিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজেটের আওতায় আনার বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও রাষ্ট্রের নাগরিক এবং প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে কর পরিশোধ করেন। তাই তাদেরও রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা হায়াতুল উলিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য একটি পদ্ধতিতে তাদের বাজেটের আওতায় আনা যেতে পারে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করা প্রয়োজন।

তিনি উচ্চশিক্ষায় গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এজন্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। 

পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা গেলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।

রাজস্ব আহরণ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কর ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারলে সরকারের রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

তিনি বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু অর্থ নয়, অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদেরও দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনতে হবে। এতে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের প্রবণতা কমবে।