লীগপন্থী ঠিকাদার দেরকে অবৈধপন্থায় কাজ পাইয়ে দিয়ে প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমান অর্থ ॥ চলছে দুর্নীতির মহোৎসব

প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম এর দুনীতি রুখবে কে। তাঁর নেতৃত্বে চলছে মহা- ধুমধামে দুনীতির মহোৎসব। মৎস্য ও প্রানীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর বন্ধু পরিচয় দিয়ে অনিয়ম কে নিয়মের পরিনত করেছে দুর্নীতি পরায়ন ডাঃ আব্দুর রহিম। এছাড়া ছায়া ডিজি হিসেবে নিজেকে জাহির করছেন প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিকট বলে একাধিক কর্মকর্তারা জানান আজকের সংবাদ কে। খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, দুনীতিবাজ প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম, লিগের ঠিকাদার দের কে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে মিশন নেমেছেন।
আওয়ামী রাজত্বের অবসান ঘটলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে দরপত্রে অনিয়ম, বদলি বাণিজ্য ও চাঁদা আদায়ের হরিলুট চলছেই। এ যেন দেখা’র কেউ নেই? ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেতরের মাফিয়া চক্রের চেনা চিত্র এক চুলও বদলায়নি। অভিযোগ রয়েছে, এই পুরো দুর্নীতির মূল সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে রয়েছেন মানিকগঞ্জ, ঢাকা,মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিম। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে তোলা সিন্ডিকেট বাহিনী ও তার সাথে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের তৎকালীন এপিএস হিল্টন কুমার সাহা।
জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের প্রভাব খাটিয়ে এই অধিদপ্তরের সব দরপত্রই বাগিয়ে নিতেন হিল্টন কুমার সাহা। বর্তমানেও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা সম্পূর্ণ ব্যাহত করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন সরকারি খামারের দরপত্র কার্যক্রমে এখনো একক রাজত্ব রয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের ফ্যাসিস্ট মন্ত্রীর এপিএস হিল্টনের।
গোপন সুত্রে জানা যায়, দুনীতি পরায়ন প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিমকে সম্প্রতি রাজধানীর ৮৩/৪ মনিপুরী পাড়ায় আনোয়ার ম্যানসনের তৃতীয় তলায় প্রায় ৩ কোটি টাকার ফ্ল্যাট উপহার সরূপ ঠিকাদার হিল্টন কুমার সাহার নিকট থেকে নিয়েছেন বলে গুঞ্জন আছে। সর্ত হলো লীগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানেকে কাজ পাইয়ে দিতে হবে অবৈধ পন্থায়। সেই মোতাবেক গবাদি পশুর খাদ্য ক্রয়ে এমন কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে যার কোন যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নাই। বিশেষ কোন ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরবরাহকারীর নিদিষ্ট পণ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দরপত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। আর সেই দরপত্র কৌশলে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের তৎকালীন এপিএস হিল্টন কুমার সাহার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাগিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকার কাজ। এতে সরাসরি জড়িত রয়েছেন প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম নিজেই। এছাড়া অতি নিম্নমানের, সকল গবাদি পশুর খাবার, ছাগল, সহ নানান পন্যসামগ্রিই সরবরাহ করে ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে কমিশন বানিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা পিডি আব্দুর রহিম।
তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম দুনীতি অভিযোগের বিষয়ে গত ৭ জুন (স্মারক নং- ৩৩.০০.০০০০.১৪০.১৪.০০০৪.২৪-২৬) কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। যদিও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি এ শোকজ নোটিসে প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিমের তেমন কিছুই হবে না, মুলত এটা লোক দেখানো শোকজ। কারন প্রতিমন্ত্রী নাকি তার পকেটের লোক বলে প্রকাশ করে থাকেন অধিদপ্তরে।
সূত্র জানায়, এইচ এন এন্টারপ্রাইজ ও লুৎফা এন্ড সন্স নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে হিল্টন কুমার সাহা অত্যন্ত চতুরতার সাথে বিভিন্ন মনগড়া শর্ত সংযুক্ত করে দরপত্রে তাদের অংশগ্রহণ ও কার্যক্রম সম্পূর্ণ সক্রিয় রেখেছেন। নিজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ আরও দুটি ছায়া প্রতিষ্ঠান পর্দার আড়াল থেকে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিম ও হিল্টন কুমার সাহা।
এছাড়াও প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি নিয়মিত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক, প্রকল্প পরিচালকসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের নিকট থেকে নিয়মিত মাসোহারা বা চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালকাটা কর্মসূচী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নিকট থেকে প্রায় কোটি টাকা চাঁদা তুলেছেন। আর এই কাজে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধিনে মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্পের আওতায় বিতরণ কৃত হাঁস, মুরগী, ছাগল, ভেড়ার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। কোথায় বিতরণের পরে মরে গেছে আবারও কোথায় বিতরণের হাঁস, মুরগী, ছাগল, ভেড়ার ছবি তুলে বিতরণ করা হয়নি।
দুনীতি পরায়ন ডাঃ আব্দুর রহিম এর দুনীতি অভিযোগে অভিযুক্ত প্রমাণ ও পেয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলে মন্ত্রণালয়ের সুত্রে জানা গেছে। সুত্রে জানা যায়, উপ-সচিব মোঃ মাহবুবুর রহমানের স্বাক্ষরিত কারণ দর্শাও নোটিশ কে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে কাল ক্ষেপণ করেন। দুনীতিবাজ প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম। টেন্ডারে অনিয়ম ও ব্যক্তি বিশেষকে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ সহ কেনা কাটা ভুয়া বিল ভাওছার বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ টাকা।
সুত্রে আরও যানা জায়, ৫ ই আগষ্টের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন পরে স্বৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের পতন হলে,পিডি রহিম জোর পুর্বক উক্ত প্রকল্পটি দখলে নেয় অবৈধ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে। ভুয়া বিল ভাওছার বানিয়ে ও মালামাল গ্রহণ না করে, বিল পরিশোধের নামে, নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তৎকালীন সংসৃষ্টি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না মেনে,সম্পূর্ন নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ডাঃ মোঃ আব্দুর রহিম, “মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন” প্রকল্পের অফিস দখলে নিয়ে লীগের দোসর দের পুর্নবাসন করার জন্য মরিয়া হয়ে অনিয়ম দুনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন দেদারসে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একাধিক সুত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের মৎস্য ও প্রানীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বন্ধু পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের। প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকায় তাঁর সাথে থেকে সরকারি কর্মকর্তা হয়েও দলীয় নেতা-কর্মীদের মতন রাজনীতি সক্রিয় ভুমিকা রেখেছেন দুর্নীতি পরায়ন ডাঃ আব্দুর রহিম। পিডি আব্দুর রহিম এর লাগামহীন দুনীতি কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রকল্পের আওতায় সকল উন্নয়ন কার্যক্রম। উল্লেখীত অভিযোগ এর বিষয় তার মোবাইলে ফোন দিলে ফোন রিসিভ না করায় তাঁর কোন মতামত পাওয়া যায়নি।
