পর্ব-২

গণপূর্তের লাইসেন্স শাখায় চলছে ঘুষ বাণিজ্যের উৎসব

রফিকুল ইসলাম কচি
রফিকুল ইসলাম কচি
প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬ ২০:৫২:১৫

গণপূর্ত অধিদপ্তর লাইসেন্স শাখা যেন ঘুষ বাণিজ্যের নতুন সাম্রাজ্য। লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স গ্রহণের যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সে কমিটির বিরুদ্ধে উঠেছে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ। নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিলা ইসলাম (ওএন্ডএম) সহ বিশাল এক সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে লাইসেন্স শাখায়। অধিদপ্তরের বিধি-বিধান কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে চলছে লাইসেন্স বাণিজ্য।

অধিদপ্তরের ঘুষ বাণিজ্যের বাইরেও শাকিলা ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে  একাধিক অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ যা অধিদপ্তরের সুনাম ক্ষুন্ন করছে বলেই প্রতীয়মান হয়। উক্ত বাণিজ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাইসেন্স শাখায় কর্মরত কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা সরাসরি জড়িত হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠে। গণপূর্ত অধিদপ্তরে লাইসেন্স শাখাকে কেন্দ্র করে ঘরে উঠেছে এক বিশাল সিন্ডিকেট। উক্ত সিন্ডিকেটে রয়েছে তাজুল, শিপন, সুমন, অহিদুল ইসলাম, ফরহাদ সহ আরো অনেকে।

একাধিক  সূত্র থেকে জানা যায়, লাইসেন্স শাখার চেয়ার টেবিল থেকে শুরু করে সকলকেই ঘুষ  দিয়ে কাজ করাতে হয়। ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়ন সহ নতুন  লাইসেন্সের বেলায় লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ দিতে হচ্ছে শাখাকে। অনুসন্ধানে উঠে আসে গত ২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন  শাখার প্রায় তিন হাজার নতুন লাইসেন্সের  আবেদন জমা হয়। এই আবেদন কে কেন্দ্র করে টাকার অংকের ভিত্তিতে নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে দরকষাকষির মাধ্যমে চলছে লাইসেন্স বাণিজ্যের হার্ট।

সূত্রমতে ,একাধিক ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে পোস্টিং নিয়েছেন এই শাখায়। জানা যায় লাইসেন্স শাখায় এক বছর কাজ করলেই হয়ে যাচ্ছে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। মাঠপর্যায়ে কর্মরত (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) একাধিক  কর্মচারী জানায়, শুধুমাত্র একটি এনআইডি কার্ড আর টাকা দিলেই পেয়ে যাবেন ১ম শ্রেনির ঠিকাদারি লাইসেন্স। বিনিময়ে নেন এবিসি বাবদ ৫০ হাজার ,গণপূর্তের ফাইল রেডি বাবদ ৫০০০/- লাইসেন্স হওয়ার পরে ২০/৩০ হাজার টাকা, এভাবেই চলছে  বানিজ্য। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্সের বেলায় বিধি অনুযায়ী ৩১/১২/২০২৫ ইং ছিল আবেদন জমা দানের শেষ তারিখ।

সুত্র জানায় ,মানি রিসিট টেম্পারিং করে ব্যাকডেটে  টাকার বিনিময়ে এখনো আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক টিকাদারি প্রতিষ্ঠান  জানায়,সকল নিয়ম নীতিকে উপেক্ষা করে যথেষ্ট পরিমাণে লাইসেন্স থাকার পরও অসংখ্য লাইসেন্স প্রদান করা হচ্ছে শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে। পুরাতন লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

উত্ত শাখায় কর্মরত সকল কর্মচারীদেরকে খুশি না করলে ফাইল নড়ে না, বলতে গেলে লাইসেন্স শাখায় আমরা জিমি হয়ে আছি। মোট কোথায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের অনৈতিক আয়কে বৃদ্ধি করার লক্ষ্যেই ঘুষ বাণিজ্যের এই প্রকল্প চালু রেখেছে বছরে পর বছর। এক বা একাধিক ব্যক্তির নামে অভিযোগ দাখিল করার পরও অধিদপ্তর কোন প্রকার তদন্ত বা শাস্তি প্রদানের ধারে কাছেও নেই। এ বিষয়ে সাকিলা ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী (ওএন্ডএম) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়লেও ঘুষ ও দুর্নীতির বিষয়টি আমার জানা নেই। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ফিরোজ হাসান বলেন এ বিষয়ে কোন অভিযোগ আছে কিনা আমার জানা নেই।