গণপূর্তের লাইসেন্স শাখায় চলছে ঘুষ বাণিজ্যের উৎসব, পর্ব-১

গণপূর্ত অধিদপ্তর এর প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ঠিকাদারি লাইসেন্সের নবায়ন এবং নতুন লাইসেন্স গ্রহণে চলছে বিশাল অংকের ঘুষ বাণিজ্য। উক্ত বাণিজ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাইসেন্স শাখায় কর্মরত কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা সরাসরি জড়িত হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠে। গণপূর্ত অধিদপ্তরে লাইসেন্স শাখাকে কেন্দ্র করে ঘরে উঠেছে এক বিশাল সিন্ডিকেট। উক্ত সিন্ডিকেটে রয়েছে একাধিক সদস্য। একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, লাইসেন্স শাখার চেয়ার টেবিল থেকে শুরু করে সকলকেই ঘুষ দিয়ে কাজ করাতে হয়। ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়ন সহ নতুন লাইসেন্সের বেলায় লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ দিতে হচ্ছে শাখাকে। বসেছে ঘুষ বাণিজ্যের হাট।
সূত্রমতে, একাধিক ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে পোস্টিং নিয়েছেন এই শাখায়। জানা যায় লাইসেন্স শাখায় এক বছর কাজ করলেই হয়ে যাচ্ছে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। মাঠপর্যায়ে কর্মরত (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) একাধিক কর্মচারী জানায়, শুধুমাত্র একটি এনআইডি কার্ড আর টাকা দিলেই পেয়ে যাবেন ১ম শ্রেনির ঠিকাদারি লাইসেন্স। বিনিময়ে নেন এবিসি বাবদ ৫০ হাজার ,গণপূর্তের ফাইল রেডি বাবদ ৫০০০/- লাইসেন্স হওয়ার পরে ২০/৩০ হাজার টাকা, এভাবেই চলছে বানিজ্য। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্সের বেলায় বিধি অনুযায়ী ৩১/১২/২০২৫ ইং ছিল আবেদন জমা দানের শেষ তারিখ। সুত্র জানায় ,মানি রিসিট টেম্পারিং করে ব্যাকডেটে টাকার বিনিময়ে এখনো আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছে। নতুন লাইসেন্সের বেলায়। ১, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিভিল ২, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ই/এম আবেদন মাঠ পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তরের কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত হতে হয়। কিন্তু সুপারিশ ছাড়াই লাইসেন্স প্রদান করা হচ্ছে বলে জানা যায়। গণপূর্ত অধিদপ্তর (সংস্থাপন শাখা-৩) তিন ক্যাটাগরির লাইসেন্স প্রদান করে। ১, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিভিল, ২, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ই/এম এবং ৩, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্মিলিত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। লাইসেন্স শাখায় ঘুষ বাণিজ্যের সিন্ডিকেটের একাধিক হোতার বিরুদ্ধে অভিযোগ থালেও কোন ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি। লাইসেন্স শাখায় অবৈধ পন্থায় ঘুষ বাণিজ্যের মূলহোতারা এখনো রয়েছেন বহাল তবিয়তে। চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের অবৈধ কার্যক্রম।
এ বিষয়ে সাকিলা ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী (ওএন্ডএম) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়লেও ঘুষ ও দুর্নীতির বিষয়টি আমার জানা নেই।
