বিআইডব্লিউটিসি তে বিএনপি পন্থী এমপ্লয়িজ ইউনিয়নে সভাপতি নিয়াজ আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে চলছে ইফতার মাহফিল ও ঈদ সামগ্রী বিতরণের নামে ভয়াবহ চাঁদাবাজি

শেখ নাজমুল
শেখ নাজমুল
প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২৬ ২০:১১:০২

বিআইডব্লিউটিসির এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (জাতীয় বাদী শ্রমিক দলের অন্তর্ভুক্ত) এর সভাপতি নিয়াজ আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ইফতার পাটির নামে ব্যাপক চাঁদা বাজীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীরা হিম শিম খাচ্ছেন বলে একাধিক সুত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সুত্রে আরও যানা গেছে, বিআইডব্লিউটিসি তে ইফতার মাহফিল এবং অস্থায়ী ও নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ঈদ সামগ্রী বিতরণের নামে সংস্থার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যপক চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছেন। বিআইডব্লিউটিসির অধিনে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের ইফতার মাহফিলের কার্ড ধরিয়ে দিয়ে পদ, পদবী অনুযায়ী তাদের নিকট মোটা অংকের টাকা দাবী করছেন নিয়াজ আহম্মেদ ও আলাউদ্দিন গংরা। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের চাঁদাবাজীর বিরুদ্ধে হুশিয়ারিকে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে ইফতার মাহফিলের নামে চাঁদাবাজী করে যাচ্ছেন দেদারসে। এ যেন দেখা’র কেউ নেই। এককথায় জিম্মি হয়ে পরেছেন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নেতাদের নিকট সাধারন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অনেকেই তাদের ভয়ে ফোন বন্ধ করে রেখেছেন।আবার অনেকেই নিরুপায় হয়ে তাদের দাবী কৃত চাঁদার নির্ধারিত টাকা দিচ্ছেন। বিআইডব্লিউটিসির ঠিকাদারও তাদের আওতা য়ের বাদ পরছেননা, ঠিকাদার দের কার্ড ধরিয়ে দিয়ে চাওয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা বলে একাধিক ঠিকাদারা আজকের সংবাদ কে জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান গত ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর স্বৈরাচারী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বিআইডব্লিউটিসি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের অন্তর্ভুক্ত সংগঠন বিআইডব্লিউটিসি এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নাম ভাঙিয়ে নানা সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান কে কেন্দ্র করে নিয়াজ আহমেদ, মোঃ আলাউদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, আতিকুর রহমান সংস্থায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও বদলি বাণিজ্যের মহোৎসব চালিয়ে আসছে। পবিত্র মাহে রমজানে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিআইডব্লিউটিসির বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক নেতাদের অতিথি করে কার্ড ছাপিয়ে ব্যয় বহুল ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়াও সংগঠনের পক্ষ থেকে আট দিন ব্যাপী সংস্থার অস্থায়ী ও নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ঈদ সামগ্রী বিতরণের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে যার অর্থের যোগান দাতা হিসেবে পকেট কাটা হচ্ছে বিআইডব্লিউটিসির বিভিন্ন ঘাটে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারী সহ বিভিন্ন জলযানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারনে সরকারি চাকরিজীবীরা যখন নিজেদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে তখন ঈদুল ফিতরের পূর্ব মুহূর্তে তাদের কে চাঁদা দিতে বাধ্য করা যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।

ভুক্ত ভোগীরা জানান বিগত দিনে বিআইডব্লিউটিসির ট্রেড ইউনিয়ন গুলো তে অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ দেশের এমপি মন্ত্রী হওয়ার মতো যোগ্যতা রাখতেন তাদের কে কখনো এমন চাঁদাবাজি করে ইফতার মাহফিল ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ করতে দেখা যায়নি ।

এছাড়াও বাংলাদেশের অন্য কোন সেক্টর কর্পোরেশনের ট্রেড  ইউনিয়ন এ ধরনের কর্মসূচি পালন করে কিনা তাওয় চোখে পড়েনি। বিএনপির  রাজনৈতিক নেতাদের সাইনবোর্ড হিসেবে সামনে রেখে ইফতার মাহফিল ও ঈদ সামগ্রী বিতরণের নামে চাঁদাবাজি কি আসলেই অসহায় শ্রমিকদের কল্যাণে নাকি নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য লোক চক্ষুর আড়ালে নতুন কোন অভিনব কৌশল বলে মনে করেন একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীরা। বিআইডব্লিউটিসির জাতীয়তা বাদী শ্রমিক দলের অন্তর্ভুক্ত, এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন নেতাদের কারণে বিএনপির ভাবমূর্তি চরম ভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিআইডব্লিউটিসির সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীরা।