বিআইডব্লিউটিসির অবৈধ নিয়োগ প্রাপ্ত প্রকৌশলী স্বদেশে প্রসাদের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা
চিফ পার্সোনেল ম্যানেজার ফজলে রাব্বির যোগসাজশে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় তদন্তে ফাইল ধামাচাপা

বিআইডব্লিউটিসির চিফ পার্সোনেল ম্যানেজার ফজলে রাব্বির দুনীতি ও সেচ্ছাচারিতার কারনে ডুবতে বসেছে সরকারের উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ড। সুত্র যানা যায়, বিআইডব্লিউটিসিতে চাকরীতে যোগদান করে চলে তাঁর নেতৃত্বে রমরমা কমিশন,বদলী, ভুয়া বিল ভাওছার বানিয়ে টাকা আত্মসাৎ এর বানিজ্য। পতিত লীগ সরকারের আমলে দাপট দেখিয়ে বিআইডব্লিউটিসিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছিলো ফজলে রাব্বি। এখনো বহাল তরিয়াতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।তাঁর নানা অনিয়ম দুনীতিতে হাবুডুবু খাচ্ছেন বিআইডব্লিউটিসি।
স্বৈরাচারী পতিত লীগ পন্থী অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীদের বদলী করা হলেও তাঁরা বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোন ব্যবস্হা না নেওয়াতে সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজমান আছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিদ্ধ এখন সাধারণ কর্মকর্তাদের মাঝে। টাকার বিনিময়ে রাতকে দিন আর দিন রাত বানানোই তাঁর কাজ। একাধিক সুত্রে যানা যায়, অবৈধ নিয়োগ প্রাপ্ত স্বদেশে প্রসাদ মন্ডল কে চাকরিতে পুর্ন পদে বহাল করার জন্য মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মিশনে নেমেছেন ফজলে রাব্বি।
গত কয়েক মাস পুর্বে বিজ্ঞ আদালত বিআইডব্লিউটিসিকে ৯০ দিনের মধ্যে স্বদেশে প্রসাদ মন্ডলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। শুধু মাত্র ফজলে রাব্বি ও আইন কমকর্তা সুজনের আর্থিক সুবিধা নিয়ে কাল ক্ষেপন করে,যাতে করে স্বদেশে প্রসাদ মন্ডল পুনরায় আদালতের দারস্থ হয়ে পুনরায় চাকরিটি স্থায়ী করতে পারে। এছাড়া ও স্বদেশে প্রসাদ মন্ডল সহ তাঁর আমলে চাকরি প্রদান করা কর্মকর্তা দের বিরুদ্ধে দুনীতি দমন কমিশন দুদকে মামলা হলেও তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্ত কিংবা প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই বিআইডব্লিউটিসি কতৃপক্ষ। এতে করে দেখা দিয়েছে নানান গুনজন ও প্রশ্ন। দুদকের মামলা সুত্রে যানা যায়, দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপ-পরিচালক মাহাবুবুল আলম বাদী হয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর ২৪ ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত মামলাটি করেন মামলা নং ৪, উর্ধতন কর্মকর্তাদের কে অন্ধকারে রেখে স্বদেশে প্রসাদ এর ফাইল ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিলেন তাঁর চাকরি বৈধ্য করার উদ্দেশ্য ফজলে রাব্বি।
দুর্নীতি দমনের মামলার বিবর্তনে দেখা যায়, কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকার স্মারক নং ০০.০১.২৬০০.৬০৩.০১.২১০.২২. ২৫৯২৬ তারিখ: ১৪/৭/২০২২ খ্রি. মোতাবেক প্রাপ্ত অভিযোতগ অনুসন্ধানকালে , (১) স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল ১৫/৪/১৯৯৯ . সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে নিয়োগের জন্য বিআইডব্লিউটিসিতে আবেদন করেন। বিআইডব্লিউটিসি, ঢাকার দপ্তরাদেশ নং কঃবিঃ-২৯৪/৯৯ ও স্মারক নং বিআইডব্লিউটিসি/পিডি/নি-১৫/৭৮(৩)/২৭৪৪ তারিখ: ১২/৯/১৯৯৯ খ্রি. মোতাবেক তাকে ৮৫ (পঁচাশি) দিনের জন্য সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে দৈনিক ১৫৬.৫২ (একশত ছাপ্পান্ন দশমিক পাঁচ দুই) টাকা বেতনে “কাজ নেই, বেতন নেই” ভিত্তিতে কনিষ্ঠ প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। সে মোতাবেক তিনি ১৪/৯/১৯৯৯ তারিখে কনিষ্ঠ প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে কাজে যোগদান করেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী ১৪/৯/১৯৯৯ খ্রি. তারিখ হতে ৮৫ (পঁচাশি) দিন পর অর্থাৎ ০৮/১২/১৯৯৯ তারিখে তার চাকুরির মেয়াদ অবসান হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ০৫, ০৬ ও ০৭ জুন ২০০০ তারিখে অনুষ্ঠিত বিআইডব্লিউটিসি’র ২১৫তম নিয়মিত পর্ষদ সভার আলোচ্যসূচি নং ১০ মোতাবেক তার চাকুরি নিয়মিত/স্থায়ীকরণ প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করা হয়। পর্ষদ সভায় তাকে কনিষ্ঠ প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) পদের বিপরীতে কনিষ্ঠ প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে ৪,৩০০-৭,৭৪০/- টাকা বেতনক্রমে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তৎকালীন চেয়ারম্যান এম এ মতিন,পরিচালক অর্থ মোহাম্মদ আবদুল ওহাব, ও মাজহারুল আনোয়ার চৌধুরী, পরিচালক (কারিগরি), সকলেই বিআইডব্লিউটিসি, ঢাকা উক্ত সভায় উপস্থিত হয়ে বর্ণিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। উহার প্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিসি, ঢাকার দপ্তরাদেশ নং কঃবিঃ-১৭২/২০০০ ও স্মারক নং বিআইডব্লিউটিসি/পিডি/নি-১৫/৭৮(৩)/১৪৬৬ তারিখ: ২৬/৬/২০০০ খ্রি. মোতাবেক তাকে টাকা ৪,৩০০-১৮৫দ্ধ৭-৫,৫৯৫-ইবি-১৯৫০১১-৭,৭৪০/- বেতনক্রমে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ মাসিক টাকা ৪,৩০০/- (চার হাজার তিনশত) মূল বেতনে এডহক ভিত্তিতে কনিষ্ঠ প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়।
তিনি একইদিন অর্থাৎ ২৬/৬/২০০০ তারিখে কনিষ্ঠ প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে কাজে যোগদান করেন। কিন্তু বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের কর্মচারী প্রবিধানমালা, ১৯৮৯ তে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগের কোন বিধান নেই। এসএসসি পরীক্ষার সনদ অনুযায়ী কাজে যোগদানের দিন অর্থাৎ ২৬/৬/২০০০ তারিখে তার বয়স ছিল ৩০ বছর ১০ দিন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের কর্মচারী চাকুরী প্রবিধানমালা, ১৯৮৯ এর প্রবিধান ৩ (নিয়োগ পদ্ধতি) অনুযায়ী (১) এই অধ্যায় এবং তফসিলের বিধানাবলী সাপেক্ষে, কোন পদে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে নিয়োগ দান করা যাবে, যথা- (ক) সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে, (খ) পদোন্নতির মাধ্যমে, (গ) প্রেষণে, (ঘ) চুক্তিভিত্তিক; এবং (২) কোন পদের জন্য কোন ব্যক্তির প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকলে এবং সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে, তার বয়স উক্ত পদের জন্য তফসিলে নির্ধারিত বয়সসীমার মধ্যে না হলে, তাকে উক্ত পদে নিয়োগ করা হবে না। উক্ত প্রবিধানমালার প্রবিধান ৫(৩) অনুযায়ী সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে, সকল পদ অন্তত একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় উন্মুক্ত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দরখাস্ত আহবান করে পূরণ করা হবে এবং এরূপ নিয়োগ দানের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক সময় সময় জারিকৃত কোটা সম্পর্কিত নির্দেশাবলী অনুসরণ করতে হবে।
তার নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় কোন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দরখাস্ত আহবান না করায় আলোচ্য প্রবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। উক্ত প্রবিধানমালার তফসিলের ক্রমিক নং ৫৩(ক) তে কনিষ্ঠ প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য বয়সসীমা ২৫ হতে ৩০ বছর উল্লেখ রয়েছে। তার বয়স ৩০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ায় কনিষ্ঠ প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) পদে নিয়োগের জন্য তিনি অযোগ্য ছিলেন।
স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল, কনিষ্ঠ প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ১৬/০১/২০০১. তারিখে তার চাকুরি নিয়মিত করার জন্য চীফ পার্সোনেল ম্যানেজার, বিআইডব্লিউটিসি, ঢাকা বরাবরে আবেদন করেন। অতঃপর ২০/৬/২০০১ তারিখে প্রকৌশল পুলের ৪,৩০০-৭,৭৪০/- টাকা বেতনক্রমে কর্মকর্তার এডহক ভিত্তিতে চাকরি নিয়মিত/স্থায়ীকরণের জন্য ১নং বাছাই কমিটির এক সভা বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যানের কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় এডহক ভিত্তিতে নিয়োজিত কনিষ্ঠ প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলকে ৪,৩০০-৭,৭৪০/- টাকা বেতনক্রমে কনিষ্ঠ প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে নিয়মিত/স্থায়ীকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এম এ মতিন, চেয়ারম্যান,এর যোগসাজশে , মোহাম্মদ আবদুল ওহাব, পরিচালক (অর্থ) ও মাজহারুল আনোয়ার চৌধুরী, পরিচালক (কারিগরি), সকলেই বিআইডব্লিউটিসি, ঢাকা উক্ত সভায় উপস্থিত হয়ে বর্ণিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন নিয়ম বহির্ভূত ভাবে।
বিআইডব্লিউটিসি, দপ্তরাদেশ নং কবি-১৭৭/২০০১ ও স্মারক নং বিআইডব্লিউটিসি, কবি/নি-১৫/৭৮(৩)/১১৫৫ তারিখ: ২০/৬/২০০৩ মোতাবেক তাকে ৪৩০০-৭৭৪০/- টাকা বেতনস্কেলে কনিষ্ঠ প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে ২০/৬/২০০১ খ্রি. তারিখ হতে নিয়মিত করা হয়। অতঃপর বিআইডব্লিউটিসি, ঢাকার দপ্তরাদেশ নং কঃ বিঃ-২৭৮/২০০৮ ও স্মারক নং বিআইডব্লিউটিসি/কঃ বিঃ/পঃ-৬৮/২০০৬/৩৬০৬ তারিখ: ০৪/৯/২০০৮ খ্রি. মোতাবেক তাকে সহকারী প্রকৌশলী হতে প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে বিআইডব্লিউটিসি, ঢাকার অফিস আদেশ নং ০৪/২০০৮ ও স্মারক নং পিসি-৫১৬/৯৬ (পার্ট-২)/১৪৭ তারিখ: ২৩/৯/২০০৮ মোতাবেক তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকার স্মারক নং ১৮.০০.০০০০. ০২০.১১.০০১.১৭.৮৬ তারিখ: ২৬/৬/২০২৩ মোতাবেক চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিসিকে জানিয়েছেন যে, শূন্য পদ পূরণের ক্ষেত্রে সরকারের ছাড়পত্র গ্রহণ, বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং বিধিবদ্ধ বাছাই কমিটির সুপারিশ ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ ব্যতীত স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলকে বিআইডব্লিউটিসি’র চাকুরিতে নিয়োগের বিষয়টি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নিকট বিধিবহির্ভূত মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে। বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগকৃত স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল, নির্বাহী প্রকৌশলী, কোড নং ১০৬২৩ কে বিআইডব্লিউটিসি’র চাকুরীতে দ্রুত অপসারণ করাসহ এ যাবৎ প্রদেয় সমুদয় অর্থ আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বিআইডব্লিউটিসিতে কর্মরত আছেন। যেহেতু তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি, সেহেতু তার চাকুরিতে নিয়মিতকরণ ও পদোন্নতিও বিধিসম্মত হয়নি। বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অবৈধ নিয়োগ প্রাপ্ত স্বদেশে প্রসাদ মন্ডল কে চাকরিতে পুর্ন বহাল করার জন্য মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ফজলে রাব্বি। উক্ত অভিযোগ এর বিষয়ে চিফ পার্সোনেল ম্যানেজার ফজলে রাব্বির মোবাইলে ফোন দিয়ে তাঁর মতামত জানতে চাইলে তিনি আজকের সংবাদ কে জানান স্বদেশে প্রসাদের বিষয়ে কিছু জানতে হলে কতৃপক্ষের অনুমতি লাগনে।
