রাজধানী কাওরান বাজারে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা আবদুর রহমানের বেপরোয়া চাঁদা বাজীর অভিযোগ

শেখ নাজমুল
শেখ নাজমুল
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫ ১৯:০২:৪৬

রাজধানী কাওরানবাজার এলাকায় আতংকে আরেক নাম বিএনপির বহিষ্কৃত  নেতা আবদুর রহমান,তার বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদা বাজীর  অভিযোগ পাওয়া গেছে ।কথিত নেতার অত্যচারে দিশেহারা সাধারণ ব্যবসায়ীরা। সুত্রে জানা যায়, কাওরানবাজার এলাকায় সাধারণ ব্যবস্হায়ীরা তাঁর  বেপরোয়া চাঁদা বাজীর কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পুলিশের উদ্ধতন কর্মকর্তা দের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, পতিত স্বৈরাচারী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পরে বেপরোয়া হয়ে চাঁদাবাজী, দখলবাজী, লুটপাট করার  অভিযোগে গত ১৯ শে সেপ্টেম্বর ২০২৪, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক, নুরুল ইসলাম সোহেল এর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞতির মাধ্যমে ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার তেজগাঁও থানার যুবদলের সদস্য সচিব আবদুর রহমান কে দলিয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বিএনপির বহিষ্কৃত তেজগাঁও যুবদলের সদস্য সচিব আবদুর রহমান আরও বেপরোয়া হয়ে চাঁদা বাজী করে যাচ্ছেন,এ যেন দেখার কেউ নেই, খোঁজ নিয়ে আরও যানা যায়, কাওরানবাজার এলাকায় চাঁদাবাজী ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন আবদুর রহমান। কাওরানবাজার ফুটপাত, থেকে শুরু করে পাইকারি কাচামালের আরৎ, মুদী দোকান, পাবলিক টয়লেট, মাছ বাজার, মুরগির, গরুর মাংসের দোকান, সহ সবজায়গা থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক চাঁদা দিতে হয় আবদুর রহমান কে। আর যে সকল ব্যাবসায়ীরা তাঁর দাবীকৃত চাঁদা দিতে অশিকার করেন তাদেরকে তাঁর পালিত বাহিনী দিয়ে বেধড়ক মারধর করে টাকা পয়শা ছিনিয়ে নিতেও পিছপা হন না। এক কথায় সাধারণ ব্যাবস্হায়ীরা জিম্মি হয়ে পরেছেন তাঁর ও তাঁর বাহিনীর নিকট।

বহিস্কৃত নেতা আবদুর রহমান এর বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একাধিক জিডি, চাঁদাবাজীর মামলা হলেও এখনো প্রকাশ্য  কাওরানবাজার এলাকায় চাঁদাবাজী করে যাচ্ছেন দেদারসে। এতে করে সাধারণ ব্যবস্হায়ীদের মনে দেখা দিয়েছেন নানান প্রশ্ন।

সুত্রে জানা যায়, কাওরানবাজার কিচেন মার্কেট মাছ বাজার থেকে প্রতিমাসে ৪০,০০০, কিচেন মার্কেট মাংস বাজার থেকে প্রতিমাসে ৬০,০০০, কিচেন মার্কেট পশ্চিম পাশের মুরগী ব্যবসাহীদের থেকে প্রতি মাসে ৭০,০০০, কিচেন মার্কেটের তয় তলার বাতরুম ও গোডাউন থেকে মাসে ৪০,০০০, এছাড়াও তয় তলার অন্য অন্য দোকান থেকে ৫৫,০০০ টাকা চাঁদ উত্তোলন করে থাকে। এই তো গেল একটা মার্কেট। কাওরানবাজার এলাকায় একাধিক মার্কেটে এই ভাবে তার বেধে দেওয়া চাঁদা উত্তলন করে প্রতিমাসে অর্ধ কোটি টাকারও বেশি চাঁদা বাজী করে থাকেন বহিস্কৃত নেতা আবদুর রহমান ও তার গড়ে তোলা বাহীনিদারা। এই চাঁদার ভাগ নাকি ঢাকা মহানগর উত্তরের একাধিক নেতা ও তেজগাঁও থানার বিএনপির রাঘোব বোয়াল দের দিতে হয় বলে প্রকাশ করেন আবদুর রহমান।

এছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে ছবি তুলে সে-ই ছবি সাধারণ ব্যবসায়ীদের দেখিয়ে তাদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে দেন,যাতে করে ভয়ে তাঁর দাবি কৃত চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ না করেন।  সুত্রে আরও যানা যায়, ৫ ই আগষ্টের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন স্বৈরাচারী লীগ সরকারের পতনের পরে কাওরানবাজার এলাকায় বড় বড় ব্যবসায়ীদেরকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর হামলা মামলায় আসামি করার ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আবদুর রহমান। তার বেপরোয়া চাঁদা বাজী কারণে অতিষ্ঠ হয়ে মিছিল মিটিং করেও কোন পতিকার পাচ্ছে না সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলে একাধিক ব্যবসায়ীরা এই প্রতিবেদককে জানান। তাঁরা আরও জানান কিচেন মার্কেটের মুরগী ব্যবসায়ী আমিনুল্লার কাছে ১৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন আবদুর রহমান, তাঁর দাবি কৃত চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে তাঁর নেতৃত্বে গড়ে তোলা বাহীনি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। পরে ঐ ব্যবসায়ী তেজগাঁও থানায় আবদুর রহমান কে আসামি করে চাঁদা বাজীর মামলা করেন যার মামলা নং ২০, তারিখ ২৭/৬/২৫ ।

বর্তমানে তার মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান। কিচেন মার্কেটের রয়েল জেনারেল ষ্টোর নামক মুদি ব্যবসায়ী হাসান আলী প্রধানের নিকট দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন,চাঁদা না পেয়ে তার মালামাল সহ পিকাপ ট্রাক টি ছিনিয়ে নিয়ে যায় পরে রফাদফা করে পিক-আপের মালামাল সহ ফেরত নিয়ে আসে হাসান।

এছাড়াও কিচেন মার্কেট এর পলিথিন / প্যাকেট ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে ২০,০০০০০, বিশ লক্ষ  টাকা চাঁদা দাবি করেন আবদুর রহমান, তার দাবি কৃত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সেই সকল দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেন তার বাহীনি। তখন নিরুপায় হয়ে সেই সকল ব্যবসায়ীরা দশ লক্ষ  টাকা চাঁদা দিয়ে দোকানে তালা খুলে দেন। বি- বাড়ীয়া জেনারেল ষ্টোর মালিক সমসের মিয়ার নিকট চাঁদা না পেয়ে তারে সোনারগাঁও সিগনালের রাতে একা পেয় বেধড়ক মারধর করে টাকা পয়শা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। কব্যকস্ সুপার মার্কেটের আশা হার্ডওয়ারের মালিক শহিদুল্লা কে একই কায়দায় বেধড়ক মারধর করে মোটা অংকের চাঁদা নিয়েছেন আবদুর রহমান গংরা।

এই ভাবে কাওরানবাজার এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আবদুর রহমান। এখনি তার লাগাম টেনে ধরতে না পারলে বিএনপির ভাবমূর্তি চরম ভাবে খুন্ন হবে। এদিকে কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধে রাজপথে নেমেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। গত বুধবার ২৪ শে ডিসেম্বর ২০২৫  রাত সাড়ে ৮টায় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল তেজগাঁও থানা এবং নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে গিয়ে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে চাঁদাবাজ চক্রের মূলহোতা হিসেবে আব্দুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ব্যবসায়ীদের অভিযোগ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন এবং উপস্থিত সকলকে আশ্বস্ত করে বলেন, “চাঁদাবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আব্দুর রহমানসহ চক্রের সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”