৩ বছরে আর্থিক ক্ষতি ১২৯ কোটি টাকা

অগ্রণী ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড বেতন টেন্ডারে ডিএমডি বাশারে'র ঘুষ বাণিজ্য

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৫ ২২:২৮:২০

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসিতে সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগে সাম্প্রতিক এক টেন্ডারের অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বাৎসরিক ৪৩ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। ৩ বছর মেয়াদী গার্ড নিয়োগ টেন্ডার ১২৯ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে। যা ব্যাংকের টাকা তসরুপের সামিল বলে ব্যাংকারগন মনে করছেন।

ব্যাংকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে ডিএমডি-২ মো: আবুল বাশারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়নে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী একটি সিকিউরিটি কোম্পানির সাথে নগদ ২ কোটি টাকার বিনিময়ে এহেন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। ফলে এই টেন্ডার কার্যকর হলে ব্যাংক প্রতিবছর ৪৩ কোটি টাকা এবং পুরা মেয়াদের ৩ বছরে ১২৯ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ব্যাংকের উল্লেখিত ২ নং ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ আবুল বাশার বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী হলেও এখনও তিনি বহাল তবিয়তে একই চেয়ারে অধিষ্ঠিত থেকে রাম রাজত্ব চালাচ্ছেন। তিনি চাঁদপুরের বাসিন্দা হবার সুবাদে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার খোদ লোক হিসেবে গোটা ব্যাংকিং কার্যক্রম নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ইচ্ছে মাফিক লুটপাট চালিয়েছেন। ঐ সময়ে তিনি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিকে থোড়াই কেয়ার করতেন। তাদের বৈধ আদেশ নির্দেশ মানতেন না। বর্তমান অন্তবর্তী সরকার আমলেও তিনি সাবেক কায়দায় লুটপাট চালালেও দেখার কেউ নেই।

সূত্রমতে ইতিপূর্বে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি তে কর্মরত সিকিউরিটি গার্ডের বেতন ছিল ৭৯৫০ টাকা ভ্যাট, ট্যাক্স, সার্ভিস চার্জ ছিল ২২২৭ টাকা সর্বসাকুল্য ব্যাংকের ব্যয় হতো মাথাপিছু ১০১৭৪ টাকা। ২ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে যে টেন্ডার পাশ করা হচ্ছে সেখানে গার্ড প্রতি বেতন হবে ১৮,১৮০ টাকা সাথে উৎস কর, সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট বাবদ ব্যায় হবে ৪২৪২/- টাকা। সর্বমোট প্রতি গার্ডের পেছনে মাসিক ব্যয় দাঁড়াবে ২২,১২২ টাকা। এখানে পূর্বের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় হবে অতিরিক্ত ১১,৯৪৮ টাকা।

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র সারাদেশের শাখা গুলোতে প্রায় ৩ হাজার গার্ড নিয়োজিত আছে। এতে করে আগামী ৩ বছরে এই খাতে অতিরিক্ত খরচ হবে ১২৯ কোটি ৪ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা। উল্লেখ্য অগ্রণী ব্যাংক এই টেন্ডার অনুযায়ী গার্ডের বেতন ২২ হাজার ১২২ টাকা নির্ধারণ করলেও অন্য সরকারি ব্যাংকগুলোতে পূর্বের বেতনই নির্ধারিত রাখা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকে প্রতিটি গার্ডের বেতন সর্বসাকুল্যে ১২৩০৫ টাকা, জনতা ব্যাংকে ১০২০০ টাকা, রূপালী ব্যাংকে ১৩৭০৪ টাকা হারে বেতন প্রদান করা হচ্ছে। সুত্রমতে দুর্নীতিতে রেকর্ড সৃষ্টিকারী ডিএমডি-২ আবুল বাশারের এহেন ঘুষ বাণিজ্যের কারণে বছরে ৪৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে।

পর্যবেক্ষক মহলের মতে অন্যান্য সরকারি ব্যাংকের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সিকিউরিটি গার্ডদের বেতন নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।