ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে সরকারি চাকুরিতে বহাল
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক এম, কে, এম, ইকবাল হোছাইন চৌধুরী

চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল কোটা বিরোধী আন্দোলন দিয়ে। এই কোটা আন্দোলন ছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরুদ্ধে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারাই বেশি সুবিধা নিয়েছেন। সরকারি চাকুরি থেকে শুরু করে সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটাধারীরা। এমনই একজন হচ্ছেন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগে কর্মরত সহকারী বন সংরক্ষক এম, কে, এম, ইকবাল হোছাইন চৌধুরী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটাধারী বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩১তম বিসিএস(বন)-এ পিএসসি থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে তার পিতার মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্তে অভিযোগ উঠে। যা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তার বাবা ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে অভিযোগ উঠলে এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মনত্রনালয়ে সার্বিক তথ্য না পাওয়ায় তাকে যোগদান করতে দেয়া হয়নি। পরবর্তীতে তার বাবা তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে মোটা অংকের বিনিময়ে ম্যানেজ করে একটি সাময়িক সনদপত্র সংগ্রহ করে। আদালতে রীট করে বিচারপতিকে ম্যানেজ করে নিজ পক্ষে রায় করিয়ে নেন। এর পর দীর্ঘ ৬ বছর পর চাকুরীতে নিয়োগ প্রাপ্ত হন ইকবাল।
জানা যায়, এম, কে, এম, ইকবাল হোছাইন চৌধুরী, সহকারী বন সংরক্ষক(সদর), সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ, খুলনায় কর্মরত আছেন। তার দাপ্তরিক পরিচিতি নম্বর ১৩৩৩৩। তিনি ৩১ ব্যাচের একজন কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা কোটাধারী। তার বাবা এইচ, এস, এম, কামরুল ইসলাম চৌধুরী তৎকালীন প্রভাবশালী সরকার দলীয় নেতা হবার পরও তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে উঠা আপত্তি নিস্পত্তির জন্য আদালতের দারস্থ হতে হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, সেই আপত্তি নিস্পত্তি করে নিজের পক্ষে আনার জন্য আদালতের বিচারককে মোটা অংকের টাকা উপঢৌকন হিসেবে দিয়েছিল কামরুল। পরে কোর্টের রায় নিজের পক্ষে নিয়ে তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে বিশ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে জাল সাময়িক মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে।
ফ্যাসিবাদ সরকারের পতনের পর এতদ্বসংক্রান্তে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে চট্টগ্রামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা লিখিত অভিযোগ করলে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয় থেকে গোপন ও প্রকাশ্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এদিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় এইচ, এস, এম, কামরুল ইসলাম চৌধুরীর মুক্তিযোদ্ধার কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কোন সেক্টরে কার অধীনে যুদ্ধ করেছেন, কি ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছেন, অস্ত্রের প্রশিক্ষণ কোথায় নিয়েছেন, সহযোদ্ধা/ কমান্ডার কে ছিল এসকল কোন তথ্যই মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত নেই।
এছাড়া, জাল সনদ নেওয়ার আগে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩১ বিসিএসে বন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও মার্চ ২৮/০৪/২০২২ তারিখে ৬ বছর পরে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এম, কে, এম, ইকবাল হোসন। প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তরের ০৮/০৬/২০২২খ্রি. তারিখের পত্র মোতাবেক ০১(এক) বছরের জন্য তিনি রেঞ্জ প্রশিক্ষনের জন্য সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জে আসলেও নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ১ বছরের জায়গায় ২ বছরের অধিক সময় শিক্ষানবীশ হিসেবে রেঞ্জ কর্মকর্তা, সাতক্ষীরা রেঞ্জ-এ কর্মরত ছিলেন।
সাতক্ষীরায় অবস্থান কালে বিভিন্নসময় বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি উঠলেও ইকবাল তা ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তেই আছেন। তার সময়কালে বেশ কয়েকটি বাঘের চামড়া/ট্রফি উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু ডিএফও’র আস্থাভাজন হওয়ায় এ বিষয়ে কোন তদন্ত হয়নি। দোবেকীতে তার তত্বাবধানে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে টাওয়ার নির্মান কাজে শুরুতেই ধ্বস নামে।
এবিষয়ে সহকারী বন সংরক্ষক এম, কে, এম, ইকবাল হোছাইন চৌধুরী-এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক আজকের সংবাদকে জানান, আদালতের রায়েই আমার বাবার মুক্তিযোদ্ধার সনদ হয়েছে। সকল কাগজপত্র না থাকলে বা মুক্তিযোদ্ধা না হলে কি আদালত বাবার পক্ষে রায় দেয়? আর আমার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই মিথ্যা। তিনি তার বাবার মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সকল নথিপত্র দৈনিক আজকের সংবাদকে সরবরাহ করবেন বলেও জানানা। কিন্তু দীর্ঘদিনে কোন ডকুমেন্ট তিনি পাঠাননি। উল্লেখ্য এ প্রসঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগকারী ভূয়া মুক্তিযুদ্ধা সনদে চাকুরী প্রাপ্ত এই কর্মকর্তাকে অবিলম্বে অপসারন করে তদস্থলে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তানকে নিয়োগ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।
