লেবাননস্থ বাংলাদেশ এম্বাসিতে চলছে চরম অনিয়ম

একটি মাত্র এজেন্সিকে বিশেষ সুবিধা দেয়ায় অসংখ্য এজেন্সি উপেক্ষিত

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৫ ২০:৪৯:৩০

লেবাননস্থ বাংলাদেশ এম্বাসিতে পুরুষ ও মহিলা কর্মীদের সত্যায়নে চরম অনিয়ম চলছে। বাংলাদেশের বেশ কিছু এজেন্সি তালিকাভুক্ত হলেও শুধুমাত্র মেসার্স মধু ওভারসিজ ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১২২৩) কথা মোতাবেকই চলে এই এম্বেসীর কার্যক্রম।

অন্য লাইসেন্সের কাজ বন্ধ থাকার নেপথ্যে মূল কারিগর আমাল নামের এক লেবানীজ মহিলা। যিনি ১৫ বছর নাগাদ বাংলাদেশ এম্বাসিতে চাকরি করেন। এই মহিলাই মেসার্স মধু ওভারসিজ ইন্টারন্যাশনাল এর সাথে যোগসাজসে অধিক অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারের বিনিময়ে কাজ করে থাকেন। আবার এজেন্সির কর্মকর্তা কর্মচারীদের এই মহিলা যা বলেন সেটাই হয়।

সম্প্রীতি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক বরাবরে বাংলাদেশের অন্যান্য এজেন্সির মালিকগণ স্বাক্ষরিত এক আবেদনে এই অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন যে দীর্ঘ এক বছর আগে লেবাননের একটি রি/এজেন্সীর সাথে চুক্তি করার জন্য একটি তিনশত টাকার স্ট্যাম্পে প্রথম পক্ষ লেবানন দ্বিতীয় পক্ষ বাংলাদেশের এম্বেসী একটি চুক্তিপত্র করে নোটারি ফরেন মিনিস্ট্রি আইন মন্ত্রণালয়ে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয় হইতে সত্যায়ন করে লেবানন প্রথম পক্ষের নিকট পাঁঠান।

লেবানন প্রথম পক্ষ তাদের দেশের বিভিন্ন দপ্তর হইতে চুক্তিপত্র সত্যায়ন পূর্বক এজেন্সীর মালিক নিজে বাংলাদেশ লেবানন এম্বেসী বৈরুত এ জমা করেন। কিন্তু এম্বেসী সব সময় অসহযোগিতা করে এবং কাজ না করার জন্য বিভিন্ন রকম তালবাহানা করে। লেবানন বাংলাদেশ এম্বেসী কনসুলার এবং এম্বেসীর আরো কর্মকর্তাগন তিন বার লেবানন অফিস পরিদর্শন করেন। প্রত্যেক বারই একটি সমস্যা খুঁজে বের করেন এবং অফিসের ভিজিটের ফলাফল পরে জানাবেন বলে কথা দিয়ে আসেন কিন্তু গত এক বছর যাবৎ কোন কাজই হচ্ছে না। এই সকল সমস্যার গুরু মেসার্স মধু ওভারসীজ ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১২২৩)। এই লাইসেন্স লেবানন বাংলাদেশ এম্বেসীতে যা বলে সেটাই আইন। শুধুমাত্র মধু ওভারসীজের লোকজন লেবানন বাংলাদেশ এম্বেসীতে ঢুকতে পারেন, অন্য কোন লাইসেন্স লেবানন এর কাজ করতে পারে না। যা গত ৭/৮ বছর দৃশ্যমান। আর মজার ব্যাপার হলো কিছুদিন পর পর কনসুলার পরিবর্তন হয়।

নতুন কনসুলার আসেন কিন্তু নিয়ম আগের মতই মধু ওভারসীজ এর নামে কাজ হয়, অন্য লাইসেন্সের কাজ বন্ধ থাকে। অন্য লাইসেন্সের কাজ বন্ধ থাকার মূল কারিগর হলো একজন লেবানিজ মহিলা যিনি গত ১৫ (পনেরো) বছর যাবৎ বাংলাদেশ এম্বেসীতে চাকুরি করেন। তার নাম আমাল। যত লোকই তার কাছে যায় সবাই দুনিয়ার কথা ভুলে যায়। এই মহিলা মেসার্স মধু ওভারসীজ ইন্টারন্যাশনাল (আর এল-১২২৩) এর সাথে যোগসাজসে অধিক অর্থের ও স্বর্ণাঅলংকার এর বিনিময়ে এই অবৈধ কাজ করে থাকে। এবং এম্বেসীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এই মহিলা যা বলে সেটাই হয়। অন্য লাইসেন্সের কোন প্রতিনিধি বাংলাদেশ এম্বেসীতে গেলে আমাল পুলিশের ভয় দেখায়। এবং বলে তোমার বৈধ কাগজ নাই তুমি কেন এম্বেসীতে আসছো। এই কারণে অন্য লাইসেন্সের কোনো প্রতিনিধি এম্বেসীতে যেতে পারে না।

একজন কনসুলার দুই বছর শেষে বাংলাদেশে চলে আসে কিন্তু আমাল নামের এই মেযে কি করে ১৫ (পনেরো) বছর একই দপ্তরে কাজ করে এটা কি নিয়মের মধ্যে পড়ে এ প্রশ্ন ক্ষতিগ্রস্ত এজেন্সী মালিকদের? মেসার্স মধু ওভারসীজ ইন্টারন্যাশনাল এর লোকজন প্রতিদিনই আমাল এর বাসায় যাতাযাত করে এবং অবৈধ লেনদেন করে বলেও সংশ্লিষ্ট সুত্রে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য লেবাননের সাথে প্রায়ই ইসরাইলের যুদ্ধ লেগেই থাকে তখন বাংলাদেশ পুরুষ ও মহিলা কর্মীদের সত্যায়ন কাজ বন্ধ রাখে। কিন্তু যুদ্ধের সময় ও লেবানন হইতে ই-মেইলের মাধ্যমে পুরুষ ও মহিলা কর্মীদের সত্যায়ন যুক্ত ই-মেইল বার্তা পরিচালক বহির্গমন দপ্তরে আসে। সে সম্পর্কে বাংলাদেশ এম্বেসী অবগত নয়।

এম্বেসীর ই-মেইল হইতে লেবানন সত্যায়ন বার্তা পরিচালক বহির্গমনের দপ্তরে কি করে আসে। মেসার্স মধু ওভারসীজ ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ থেকে খোলা বাজারের মাধ্যমে সকল পুরুষ ও মহিলাদের পাসপোর্ট কালেকশন করে এম্বেসীতে আমালকে পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে ই-মেইল বার্তা পরিচালকের কাছে আসে বহির্গমন হয়ে যায়। কিন্তু এম্বেসী কর্মীদের সত্যায়নের ব্যাপারে অবগত নয়। কোন ভিসা সত্যায়নের জন্য লেবানন বাংলাদেশ এম্বেসীতে নিয়ে গেলে সত্যায়ন হয় না। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে অধিক টাকার বিনিময়ে লেবানন এম্বেসী থেকে সত্যায়ন দিয়ে দেন। তখন কোন কাগজপত্র যাচাই প্রযোজন হয় না।

লেবানন একজন পুরুষ ম্যানপাওয়ার করতে ৪০,০০০ থেকে ৫০,০০০ হাজার টাকা আদায় করে এবং মহিলা ম্যানপাওয়ার এর জন্য ৬০,০০০ থেকে ৭০,০০০ হাজার টাকা প্রযোজন হয়। দেশের সরকার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু মধু ওভারসীজ এর অনিয়ম ঠিকই চলমান আছে। গত ৫ (পাঁচ) বছর কতগুলো পুরুষ ও মহিলা কর্মী লেবানন বাংলাদেশ এম্বেসী হইতে সত্যায়িত হয়েছে এবং কতগুলো বিএমইটি থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র নিয়েছে তার একটা লিস্ট এম্বেসী থেকে নেওয়ার জন্য এবং সত্যায়ন সঠিক ছিল কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং আমাল নামের মহিলাকে উক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য দপ্তরে দেওয়ার জন্য এজেন্সী মালিকদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি মধু ওভারসীজ ইন্টারন্যাশনাল এর থাবা থেকে লেবানন জনশক্তি রপ্তানিখাত পূণজীবিত করে সকল এজেন্সী যেন কাজ করতে পারে সে ব্যাপারে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কমনা করা হয়েছে।