বন বিভাগ’র নেই কোন তৎপরতা

বন বিভাগের গেজেটভুক্ত কয়েকশ একর জমি ব্যাক্তি নামে রেজিস্ট্রি করে শতকোটি টাকার মালিক গাজীপুরের শ্রীপুর সাব-রেজিস্টার ওসমান গণি

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৩ ২১:০৩:৪২

গাজীপুরের শ্রীপুর সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ ওসমান গণির বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি ও জনহয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। সরকারী বনের জমি রেজিস্ট্রি, দলিল মুল্যের উপর ১% উৎকোচসহ ১৩টি খাতে দুর্নীতি, জুলুম, অত্যাচারে শ্রীপুরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

শীর্ষ দুর্নীতিবাজ সাব-রেজিস্ট্রার ওসমান গণির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর ভুক্তভোগীদের দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাব-রেজিস্ট্রার ওসমান গণি বনের গেজেটভূক্ত অনেক জমি রেজিস্ট্রি করে মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিজে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন।

হেবার ঘোষনা, দানপত্র দলিলেও নির্ধারিত ফিসের বাহিরে দলিল প্রতি ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা কোন কোন দলিলে ১ লক্ষ টাকাও আদায় করে থাকেন সাব-রেজিস্ট্রার ওসমান গণি। রিডামশন দলিল, মর্গেজ সহ এমন কোন দলিল নেই যে, তা থেকে ওসমান গণি টাকা আদায় না করে থাকেন।

স্থানীয় আদনান নামক এক দলিল লেখকের সহায়তায় এ দুর্নীতিবাজ সাব-রেজিস্ট্রার ওসমান গণি সরকারী রাজস্ব ফাঁকি ও তার ঘুষ-দুর্নীতি দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছেন। যে কেউ দলিল উপস্থাপন করলেই দলিল দেখেই বলেন এটা রেজিস্ট্রি করা যাবে না, এটা বনের জমি। পরক্ষনেই দলিল লেখক আদনান ও ওমেদার পিয়নদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা নিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করে থাকেন ওসমান গণি। ওদিকে ওসমান গণি নিজে উপজেলা কম্পাউন্ডে না থেকে অফিসের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে রাত্রি যাপন করে থাকেন। দুপুরে লাঞ্চের পর কয়েকজন সুন্দরী নকলনবীশ নিয়েও খোশ গল্প করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। দলিলের নকল প্রতি ওসমান গণি আদায় করেন তার নামে ৫০০শত টাকা।

প্রতিদিন ১০০ নকল হয়ে থাকে শ্রীপুর অফিসে। এ খাতে তিনি প্রতিদিন আদায় করেন ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। দুর্নীতিবাজ সাব-রেজিস্ট্রার ওসমান গণির এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করতে যেয়ে শ্রীপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি তার সনদ হারাতে বসেছেন। দেশের বিত্তবান ও ক্ষমতাধর ৫ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্যতম সাব-রেজিস্ট্রার ওসমান গণি জীবনে কোন ছোট ষ্টেশনে চাকুরী করেন নাই। তিনি শ্রীপুরের আগে কেরাণীগঞ্জ, বগুড়া সদর, নরসিংদীর রায়পুরা, চট্টগ্রাম ও সুনামগঞ্জের লোভনীয় অফিসগুলোতে তদ্বীর করে কোটি কোটি টাকা খরচ করে পোস্টিং নিয়েছেন।

দলিল দাতা গ্রহিতাদের জুলুম অত্যাচার ও জিম্মি করে দু’হাতে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদের অভাব নেই তার। সাব-রেজিস্ট্রার ওসমান গণির রয়েছে রংপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র কেরানীপাড়া ১নং রোডে স্বপ্নচুড়া স্কুলের সাথে ৮তলা বিলাশ বহুল ৪ ইউনিটের বাড়ী। যার আনুমানিক মুল্য ৩০ কোটি টাকা। রাজধানীর উত্তরায় ১২ নং সেক্টরের ১৬ নং রোডে ১টি পাঁচতলা বাড়ী।

বাড্ডাতেও বাড়ী, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে রয়েছে ফ্ল্যাট। নামে বেনামে রয়েছে বিপুল সম্পত্তি তার। তার স্ত্রী-পুত্র ও বড় ভাইয়ের নামে বেনামেও করেছেন বিপুল বিত্তবৈভব। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরেও ওসমান গণির সেকেন্ড হোম ও ব্যবসা রয়েছে যা তার শ্যালক দেখাশুনা করেন। এ ব্যাপারে সাব-রেজিস্ট্রার ওসমান গণির সাথে তার মুঠো ফোনে বারবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি।