দুই ধাপ উপরের পদে পদোন্নতি পেতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বিতর্কিত উপপরিচালক নাদিরা আক্তারের দেন দরবার

স্টাফ রিপোর্টার:
স্টাফ রিপোর্টার:
প্রকাশিত: মার্চ ২৩, ২০২৩ ১৭:০৭:৪৭

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ভিসা শাখার উপ-পরিচালক নাদিরা আক্তার দু’ধাপ উপরের পদে পদোন্নতি পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এ লক্ষে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও স্বরাষ্ট্র সচিবের উপর বিভিন্ন চাপ অব্যাহত রেখেছেন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সমগ্র পাসপোর্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায়, তিনি ২০০১ সালের এপ্রিলে এই অধিদপ্তরে যোগদান করার পর দীর্ঘ ২২ বছরে ঢাকায় কর্মরত আছেন। সাবেক মহাপরিচালকগণের সাথে সখ্যতা থাকার কারণে কোনদিনই তার ঢাকার বাইরে পোস্টিং হয়নি। বর্তমানে তিনি প্রধান কার্যালয়ে ভিসা শাখার উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। তার পরবর্তী পদোন্নতি পদ হচ্ছে অতিরিক্ত পরিচালক।

কিন্তু তিনি ঐ পদে পদোন্নতি না নিয়ে সরাসরি পরিচালক পদে পদোন্নতি নেয়ার জন্য উচ্চ মহলে দেনদরবার অব্যাহত রেখেছেন। এমনকি মহাপরিচালক ও সচিবের উপরও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের দিয়ে তদবির চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এহেন দু’ধাপ উপরের পদে পদোন্নতির বিষয়টি সম্পূর্ন অনিয়মতান্ত্রিক বলেও একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে এই অনিয়মতান্ত্রিক পদোন্নতি দিলে অধিদপ্তরের চেইন অফ কমান্ড ভেঙ্গে পড়বে।

সূত্র মতে এই উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে দুদকে অভিযোগ দায়ের হলেও তিনি মোটা অংকের বিনিময়ে অব্যাহতি পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সমূহের মধ্যে রয়েছে অফিসিয়াল পাসপোর্ট কেলেঙ্কারি করে টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট প্রদান, উত্তরা অফিসের দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের মাধ্যমে পাসপোর্ট প্রদান করে প্রতিদিনই ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা হারে ঘুষ আদায়, প্রতাপশালী বর্তমান ভিসা শাখায় যোগদানের পর এনভিআর প্রতি ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা হারে ঘুষ প্রবর্তন।

প্রতিমাসে আফ্রিকান মাদক চোরাকারবারীদেরকে এনভিআর এর মাধ্যমে থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন এবং এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে প্রচার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তিনি ইতোপূর্বে কলেজ শিক্ষক স্বামীর কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত বলে চিকিৎসার নামে পাসপোর্ট অফিস থেকে ৩ (তিন) কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে দীর্ঘ ৯ (নয়) মাস ভারত ও সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেন।

বৈশ্বিক মান্দার সময় অধিদপ্তরের কেউ বিদেশ যেতে না পারলেও তিনি ২বার সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেন। মালয়েশিয়াতে তিনি সেকেন্ডহোম করেছেন। দুর্নীতিতে রেকর্ড সৃষ্টিকারী এই উপপরিচালক এত কিছুর পরও ভিসা শাখায় পোস্টিং নিয়ে এনভিআর’র নামে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা অবৈধ উপার্জন করেও থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

অবৈধ অর্থের জোরে দোর্দান্ত প্রভাবশালী এই উপপরিচালক দু’ ধাপ উপরের পদে পদোন্নতির বিষয়টি গোটা অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচ্য বিষয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে।