পিডি নাইমা নাজনীন ধরা ছোয়ার বাইরে

এলজিইডি জামালপুর জেলার ৮টি পৌরসভার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে হরিলুট

এস এম সাইফ আলী
এস এম সাইফ আলী
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৪, ২০২২ ২১:২১:০২  আপডেট :  নভেম্বর ১৪, ২০২২ ২১:২৫:২৩

জামালপুর জেলার ৮টি পৌরসভার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নাইমা নাজনীন নাজ ও ওই প্রকল্পের হিসাব রক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এচাড়া কেনা-কাটা, নিয়োগ ও প্রকল্পের টেন্ডারসহ সবক্ষেত্রেই তিনি অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন- এমন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে তুলেছেন তারই প্রকল্পের সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী রিয়াদুল কুদ্দুস।

ওই প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী রিয়াদুল কুদ্দুস চলতি বছরের ১২ মার্চ প্রধান প্রকৌশলী বরাবর প্রকল্প পরিচালক ও হিসাব রক্ষকের বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা লুটপাটের বিষয়ে একটি অভিযোগ দেন। যার প্রেক্ষিতে এই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এলজিইডি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (অডিট) পবর্তীতে এই বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা চাইলে চলতি বছরের ২৬ জুন লিখিতভাবে একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেন অভিযোগকারী রিয়াদুল কুদ্দুস। ব্যাখ্যার কপিটি আজকের সংবাদের কাছে রয়েছে। তিনি এই চিঠিতে ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে উল্লেখ করেন কী কী উপায়ে এসব খাতে অনিয়ম করা হয় এবং এসব খাত থেকে প্রকল্পের টাকা কীভাবে লুটপাট করা হয়।

তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর অফিস আদেশের ২টি স্মারক নম্বর উল্লেখ করে জানান, এই স্মারক অসুসারে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে দরপত্র উন্মুক্তকরণ ও দরপত্র মূল্যায়ণ কমিটিতে (পণ্য কমিটি-১) সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন  করার কথা থাকলেও এবং প্রকল্প অফিসের পণ্য সরাসরি নগদে ক্রয় করা হলেও শুধুমাত্র প্রকল্প পরিচালক ও হিসাব রক্ষক অবগত থাকতেন। পিপিআর ২০০৮ এর বিধি ৮১(২) অনুসারেও অনধিক ৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির মাধ্যমে ক্রয়কার্য সম্পণ্ন করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

যেহেতু প্রকল্পটিতে প্রতি মাসেই ভূয়া বিল-বাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হতো। সেহেতু বিধি মোতাবেক গঠিত কমিটির মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পণ্ন করা হতো না। এক্ষেত্রে প্রতিমাসেই কন্টিঞ্জেসি খাত থেকে বিবিধ পণ্য ও সেবা আইটেম কোড (৩২১১১০৯-৩২৫৫১০৪) থেকে গাড়ি মেরামত, কাগজ ক্রয়, অফিম সরঞ্জামাদী ক্রয়, ফটোকপি মেশিন, রিপেয়ার, টোনার ক্রয়সহ বিভিন্ন ধরনের ভূয়া ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে যা গত ৬ মাসের অগ্রগতি প্রতিবেদনে পরিলক্ষিত হয়েছে এবং নথিতে দৃশ্যমান রয়েছে। এছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে ড্রাইভার নিয়োগের জন্য টেন্ডার মূল্যায়ণ কমিটির নিকট মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন এবং ডকুমেন্টস প্রস্তুত করে দেয়ার জন্য রিয়াদুল কুদ্দুসকে চাপ প্রয়োগ করেন পরিচালক নাইমা নাজনীন। এক্ষেত্রে রফিকুল ইসলাম নামের একজন ড্রাইভার যিনি মূলত ৮ম শ্রেণি পাস। ডিপিপিতে ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে এসএসসি সমমান থাকলেও আউটসোর্সিং ভিত্তিতে ড্রাইভার নিয়োগের জন্য টেন্ডার মূল্যায়ণ কমিটির কাছে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় এই সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীকে।

আরেকটি অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়, অতিরিক্ত অর্থ রেখে বিধিবহির্ভূতভাবে এস্টিমেট অনুমোদন সত্ত্বেও টেন্ডার অ্যাপ্রুভাল (টেন্ডার আইডি নম্বর-৬৫৩৯৮৮) নথি উপস্থাপনের জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করা হয়।

এছাড়া, প্যাকেজ নম্বর জেইটিআইপি/এসআরবি/২১/২১/২৮ অনুমোদিত প্রাক্কলণে গাণিতিক ভুলের কারণে ১০ লাখ টাকা বেশি রয়েছে এবং এক্ষেত্রে াতান দরপত্র প্রস্তÍুত করার উপায় সম্বন্ধে প্রশ্ন তোলেন। এই ভূল সংশোধন না করেই প্রাক্কলণ নথি উপস্থাপনের জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করেন প্রকল্প পরিচালক। পছন্দ মতো কনসাল্টিং ফার্ম নিয়োগের জন্য পিইসি’র নিকট মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের জন্যেও তিনি সংশ্লিষ্ট অধস্থনদের চাপ প্রয়োগ করেন।

এই প্রকল্পের ওয়েব বেইজড পৌরসভা রোড, ড্রেইন এবং অন্যান্য ইনফ্রাসট্রাকচার ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার প্রস্তুতের জন্য ইওআই আহ্বান করা হয় এবং ১৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে ইওআই জমা হয়। ওই ১৯টি ইওআই যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রথম থেকেই প্রকল্প পরিচালক পছন্দ মতো ফার্মকে সর্ট লিস্টিংয়ে রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন রিয়াদুল কুদ্দুসকে। তিনি ১৯টি ইওআই এবং পিইসি মিনিটস পর্যালোচনা করলে সেই প্রমাণ পাওয়া যাবে বলেও রিয়াদুল করিম উল্লেখ করেন ব্যাখ্যা প্রদানের এই চিঠিতে।

এসব বিষয়ে সেলফোনে জানতে চাইলে নাইমা নাজনীন নাজ বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না।’ এরপর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।