ডিএই’র দুদকের চার্জশিট ভুক্ত আসামি অলিউল্লাহ প্রধান ও জাহিদ হাসান স্বপদে বহাল

মহাপরিচালক রহিমের আর্থিক দুনীতির কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড

শেখ নাজমুল
শেখ নাজমুল
প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬ ২০:৩০:২৭  আপডেট :  জুলাই ২, ২০২৬ ২০:৩৫:০১

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহা- পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব থাকা) স্বৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের দোসর, আব্দুর রহিমের ছত্র ছায়ায় দুদকের মামলার চার্জশিট ভুক্ত আসামিরা এখনো বহাল তরিয়াতে অফিস করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সুত্রে যানা জায়, দুদকের উপ সহকারী পরিচালক, এস,এম আনিসুজ্জামান, ডিএই”র” সাবেক সহকারী পরিচালক অর্থ সৈয়দ শরিফুল ইসলামকে( ১) আসামি সহ (৫) জনের নাম উল্লেখ করে দুদক মামলা করেন। এর মধ্যে একজন সাময়িক বরখাস্ত, আরেক জন অবসরে গেছেন। ২ নং আসামি বর্তমানে নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় কৃষি অফিসে কর্মরত উচ্চমান সহকারী মোঃ অলিউল্লাহ প্রধান, প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের ক্যাশিয়ার মোঃ জাহিদ হাসান সহ তাদের নাম উল্লেখ করে দুদক জি,আর মামলা নং ৯০/২০২২ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেন।মামলা সুত্রে যানা গেছে, বিগত ১৬-১৭, ১৭-১৮ অর্থ বছরে ভুয়া বিল ভাওচার দেখিয়ে কম্পিউটার সামগ্রী / সরঞ্জাম /যন্ত্রণাংশ ক্রয়, না করার সর্তে ও স্টক রেজিস্ট্রার এন্টি দেখিয়ে ৫৫.৯১,০০০ (পঞ্চান্ন লক্ষ একানব্বই হাজার টাকা) সহ বিভিন্ন ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন উল্লেখীত মামলার এজাহার ভুক্ত আসামিরা। এর মধ্যে ১ নং আসামি সৈয়দ শরিফুল ইসলাম কারাগারে কারা ভোগ করছেন। বাকী আসামি উচ্চমান সহকারী অলিউল্লাহ প্রধান ও জাহিদ হাসান ডিজি রহিমের সেল্টারে এখনো চাকরিতে বহাল থেকে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দের্দাচ্ছে। ডিএইতে প্রচার আছে ক্যাশিয়ার, জাহিদ হাসান নাকি মহাপরিচালক রহিম এর অবৈধ লেনদেনের ও ক্যাশিয়ার।

সুত্রে আরও জানা জায়, প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের ক্যাশিয়ার জাহিদ হাসানকে গত ১৯/৫/২৬  তারিখে ময়মনসিংহের উপ পরিচালকের কার্যালয়ে ক্যাশিয়ার হিসেবে বদলী করা হলেও (জুন ক্লোজিং) ঠিকাদার দের  বিল পরিশোধ  এর কমিশন বানিজ্যর কারণে এখন ডিএইতে রেখেছেন। শুরু মাত্র আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কারণে ডিজি রহিম। দুদকের চার্জশিট ভুক্ত আসামি এখন চাকরিতে বহাল থাকায় সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে চলছে চরম উত্তেজনা। ডিজির নিরব ভুমিকা এখন প্রশ্ন বিদ্ধ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে।

একাধিক সুত্রে যায় জায়,পতিত লীগ সরকারের দোসর দুনীতি পরায়ন মহা ঘুষখোর ডিজি রহিম, মহা পরিচালক পদে পদায়ন পাওয়ার পরে তাঁর নেতৃত্বে গঠিত সিন্ডিকেট বাহীনির নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যাপক ঘুষ, দুনীতি, বদলী বানিজ্যর কারণে হিম শিম খাচ্ছেন সাধারণ নিরীহ কর্মকর্তা কর্মচারীরা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়ম ভেঙে নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের ৬ষ্ঠ গ্রেডের পদে বিধিমালা লঙ্ঘন করে ক্ষমতা বহির্ভূত পদায়ন করে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বিগত সময়ে মহাপরিচালকের দপ্তরে বিতর্কিত পদোন্নতি কার্যক্রম নিয়ে জটিলতা তৈরি হলেও তা সমাধান হয়নি। বর্তমানে মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) মোঃ আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে  নন ক্যাডার কর্মকর্তাদের জটিল ফাইলগুলো পুনরায় সচল করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে । উন্নয়ন প্রকল্প হতে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত নন-ক্যাডার ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ৬ষ্ঠ গ্রেডে পদায়নের জন্য তড়িঘড়ি উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে। অথচ নন-ক্যাডার কর্মকর্তা/ কর্মচারী চাকুরি ও পদোন্নতি বিধিমালা ২০১১ এবং ডিজির প্রশাসনিক ক্ষমতা  অনুযায়ী একই সঙ্গে দুটি পৃথক নিয়োগ যোগ্যতার পদ বা কর্মস্থল ধরে পদোন্নতি বা পদায়নের কোনো সুযোগ নেই।

সূত্র আরো জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে উন্নয়ন প্রকল্প হতে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পাঁচজন সহকারী উদ্যান উন্নয়ন কর্মকর্তাকে ৯ম গ্রেড থেকে ৬ষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতির আদেশ জারি করা হয়। তবে তাদের মধ্যে অন্তত তিনজন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। একজন ইতোমধ্যে বিধিবহির্ভূতভাবে পদবী পরিবর্তন করে ভিন্ন নিয়োগ যোগ্যতার পদে খামারবাড়িতে যোগদান করেছেন। আরেকজন দীর্ঘদিন ধরে পদবী পরিবর্তন করে অন্য পদে কর্মরত থেকেও পদোন্নতির সুবিধা নিয়েছেন।  সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা, ইমরান কবির,  হর্টিকালচার সেন্টার, নাইক্ষ্যংছড়ি, বান্দরবনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরও ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে, মোঃ শাহিন সালে উদ্দিন, সহকারী উদ্যান উন্নয়ন কর্মকর্তা পদোন্নতি পাওয়ার আগেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদবী পরিবর্তন করে অন্য নিয়োগ যোগ্যতার পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পদে খামারবাড়িতে যোগদান করেন। একইভাবে আরেক কর্মকর্তা ছাত্র সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে লাভজনক পদে পদায়ন নিয়েও পদোন্নতি সুবিধা গ্রহণ করেন। মোসাঃ জান্নাত মাহাবুবা খাতুন, সহকারী উদ্যান উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কর্মস্থলে একক কর্তৃত্বে দায়িত্ব পালন করে ব্যাপক দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকা স্বত্বেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। এসব কারণে তাদের পদোন্নতি কার্যকর করতে গিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পদায়নের বিষয়টি অবগতকরে প্রস্তাব পাঠানো হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান না পেয়ে ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় ‘ভূতাপেক্ষভাবে’ পদায়নের প্রস্তাব পাঠানো হয়। অথচ অধিদপ্তর প্রধানের প্রশাসনিক ক্ষমতা ও সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী এ ধরনের ভূতাপেক্ষ বদলি বা পদনাম পরিবর্তন বা পদোন্নতির ক্ষমতা কেবল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হাতে। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের প্রস্তাব না পাঠানোর জন্য মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তা উপেক্ষা করে পুনরায় তৎপরতা চালিয়ে ৩০ এপ্রিল,২৬ যোগদানের তারিখ উল্লেখ করে ৬ষ্ঠ গ্রেডের পদোন্নতি পদে মহাপরিচালক মোঃ আব্দুর রহিম রুটিন দায়িত্বে থাকার পরও প্রশাসনিক ক্ষমতা বহির্ভূত বিধিবহির্ভূতভাবে ভিন্ন দুইটি পদ ও দুটি কর্মস্থল উল্লেখ করে ৬ষ্ঠ গ্রেড পদে পদায়ন আদেশ জারী করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে।

খোঁজ নিয়ে আরও যানা যায়, কৃষিবিদ নাজিম উর রউফ খান, প্রাক্তনঃ অতিরিক্ত উপপরিচালক (প্রশাসন-১), প্রশাসন ও অর্থ উইং, বর্তমানেঃ অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) উপপরিচালকের কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কৃষিবিদ মোঃ শরীফুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শাস্য), উপপরিচালকের কার্যালয়, ঢাকা, কৃষিবিদ মোঃ আহসান হাবীব, অতিরিক্ত উপপরিচালক (বালাইনাশক মাননিয়ন্ত্রণ), উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং, কৃষিবিদ কাজী আনোয়ার হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার (এল.আর) বর্তমানেঃ অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রটোকল অফিসার, প্রশাসন ও অর্থ উইং ও কৃষিবিদ এবিএম শাহ সহ, গত ১০/০৬/১০২৬ তারিখ মৃত্তিকা ভবনের সামনে মন্ত্রীর সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে উচ্চবাচ্য করতে থাকলে তাদেরকে থামানোর জন্য এমদাদুল হক চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার করা হচ্ছে। মোঃ শরীফুল ইসলামকে ইতিপূর্বে খামারবাড়িতে অন্তবর্তী সরকারের আমলে সাবেক কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এর সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ করার কারণে লৌহজং, মুন্সিগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জে বদলি করা হলেও বর্মমানে তিনি ঢাকায় কর্মরত। আরো অভিযোগ পাওয়া যায়, আব্দুর রহিমের গোপন তৎপরতায় খামারবাড়ির প্রশাসন ও অর্থ উইং এর অতিরিক্ত উপপরিচালক (প্রশাসন-১) হিসেবে কচুয়া, চাঁদপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন আর্থিক অনিয়ম, কর্মচারীদের সাথে অসদাচরণ, দুর্নীতি ও দাঙ্গাবাজ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত উপপরিচালকের কার্যালয় ফেনীর ২৯ ব্যাচের বিসিএস (কৃষি) কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোফায়েল হোসেন, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) কে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে পদায়নের পায়তারা চলছে।

দুনীতিবাজ রহিম চাকুরি জীবনে যেখানে কর্মরত ছিলেন সেখানে তাঁর নেতৃত্বে একটি সু বিশাল সিন্ডিকেট বাহীনি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে সেই সকল  কর্মস্থলে করেছেন নানা অনিয়মঃ খামারবাড়ির বাহিরে কর্মরত থাকাকালীন করেছেন আর্থিক অনিয়ম উঠেছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে খামারবাড়িতে পরিচালক (গ্রেড-২) পদে উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ে যোগদানের পূর্বে ১৪/০২/২০২৩খ্রি. তারিখ হতে ২৩/০২/২০২৫খ্রি. পর্যন্ত জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (নাটা), গাজীপুরে পরিচালক ও মহাপরিচালক পদে কর্মরত থাকাকালীন সময়েও তার বিরুদ্ধে উঠেছিল আর্থিক কেলেংকারীসহ প্রশাসনিক ক্ষমতা অপব্যবহারের বিশদ অভিযোগ। ১২/০২/২০২৩ তারিখ হতে ১৬/০১/২০১৭খ্রি. তারিখ পর্যন্ত হর্টিকালচার সেন্টার, বনানী বগুড়াতে কর্মরত থাকাকালীন সময়েও করেছেন অর্থনেতিক লুটপাটসহ হর্টিকালচার সেন্টারের বিভিন্ন ধরণের চারা গাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাঘারে জমা না দিয়ে লোপাটের অভিযোগ। উপজেলা কৃষি অফিসার পদে ২৩/১২/২০০৯খ্রি. তারিখ হতে ০২/০২/২০১৬খ্রি. তারিখ পর্যন্ত উপজেলা কৃষি অফিস, ধুনট ও শেরপুর, বগুড়াতে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে মোঃ আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকার সুবাধে কৃষি প্রনোদনা, উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ কৃষক পর্যায়ে বাস্তবায়ন না করেই টাকা আত্মসাৎ করে রাজধানী ঢাকার উত্তরাতে করেছেন আলিশান ফ্ল্যাট ও বাড়ী। দেশ ছাডিয়ে বিদেশেও অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তার স্ত্রী সন্তানের নামে। নাম প্রকাশ না করার সর্তে একাধিক কর্মকর্তার আজকের সংবাদ কে বলেন, খামারবাড়িকে  ফ্যাসিস্ট সরকারের গোপন মিশন বাস্তবায়নে আব্দুর রহিমের গোপন নির্দেশনায় সদর দপ্তর খামারবাড়িসহ কেআইবি’র বিদ্যমান দুইটি গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে যে কোন সময়ে ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্কিত ঘটনা।