আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধের পিটিশনে ২ কোটি ৩৩ লাখের বেশি স্বাক্ষর!

বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে না পারলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নানা বিতর্কে ছিল লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা। রেফারিং নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, খেলোয়াড়দের আচরণ এবং একাধিক বিতর্কের জেরে দলটিকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে করা একটি অনলাইন পিটিশনে ২ কোটিরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘Argentina Out’ শিরোনামের ওই পিটিশনে বিশ্বের প্রায় ১৭০টি দেশের ২ কোটি ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ১০৮ জন ডিজিটাল স্বাক্ষর করেছেন। শুরুতে পিটিশনের লক্ষ্য ছিল ৫০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ, তবে তা কয়েক গুণ ছাড়িয়ে যায়।
পিটিশনের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনা রেফারিংয়ে বিশেষ সুবিধা পেয়েছে। সেখানে বলা হয়, যদি আগেই বিজয়ী নির্ধারিত থাকে, তাহলে অন্য দলগুলো কেন খেলবে? আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিন এবং সবাইকে সমান সুযোগ দিন।
ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর পিটিশনের আয়োজকেরা এক বার্তায় লেখেন, ফিফা আমাদের কথা শোনেনি, কিন্তু স্পেন তাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছে... ধন্যবাদ, স্পেন। ফাইনালের পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলে পিটিশনে স্বাক্ষরের সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়ে বলে দাবি করা হয়।
ফাইনাল ম্যাচেও আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের আচরণ নিয়ে সমালোচনা ওঠে। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকে ঘুষি মারা এবং গাভিকে মাটিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবার্সির ওপর কঠোর ট্যাকলের জন্য এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে মনে করা হয়।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনা ছিল অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত দল। তবে দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে এত বিপুল সংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহ হলেও এ ধরনের অনলাইন পিটিশনের ভিত্তিতে ফিফা কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্বাক্ষরসংবলিত অনলাইন পিটিশনের রেকর্ড এখনও ‘জুবিলি ২০০০’ আন্দোলনের দখলে। সেই পিটিশনে ২ কোটি ৪৩ লাখ ১৯ হাজার ১৮১ জন স্বাক্ষর করেছিলেন। ফলে ‘Argentina Out’ পিটিশনটি অল্পের জন্য সেই রেকর্ড ভাঙতে পারেনি।
জেএএ
