সাব রেজিস্টার শফিউল বারী সিন্ডিকেটে আবদ্ধ খিলগাঁও অফিস
জমির শ্রেণীর পরিবর্তনে কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় অবস্থিত রেজিস্ট্র্রেশন কমপ্লেক্সে মিরপুর অঞ্চল বাদে সব এলাকার ভূমি রেজিস্ট্রি হয়। প্রতিনিয়তি কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতাও চলে। সম্প্রতি খিলগাঁও সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্টার শফিউল বারীর বিরুদ্ধে ওমেদার শাহীন ও মেহেদীর মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এই অফিসের ওমেদার, পিয়ন ও এক্সট্রা মোহরার মিলে নানা অজুহাত ও খরচ বাবদ প্রতি দলিলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। এখানে টাকা দিলে জমির শ্রেণীর পরিবর্তন করা যায় খুব সহজে। এভাবেই সরকার প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। জমির শ্রেণী পরিবর্তনের ফলে রাজস্ব কমে যায় আর ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয় সাব রেজিস্টার ও সিন্ডকেট।
প্রায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে সেবা প্রত্যাশীদের নানা অজুহাতে নাজেহাল হতে হয়। মাঝে মাঝে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানের ফলে কিছুদিন বন্ধ থাকালেও পুরনো নিয়মে ফিরতে খুব বেশী সময় নেন না এই সিন্ডিকেটগুলো। শফিউল বারী’র বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশনে অনুসন্ধান চলমান থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি চাপা পরে আছে। তিনি অফিসের সবাইকে জানিয়েছেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে। এবিষয়ে তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।
শফিউল বারী’র অবৈধ পথের যাত্রাটা ব্যাপকতর হয় মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জে থাকাবস্থায়। এরপর ঢাকা জেলার কেরাণীগঞ্জ মডেল থেকে নারায়ণগঞ্জ পদায়ন পেয়ে শফিউল বারী নিজেকে নিয়ে গেছেন দুর্নীতির অন্যান্য উচ্চতায়। দুদকের অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, পুবালী ব্যাংকের পরিচালক জনৈক মোয়াজ্জেম হোসেনের নিকট থেকে ধানমন্ডিতে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন।
যার প্রকৃত মূল্য লুকিয়ে রেজিষ্ট্রি করায় সরকারি বিপুল পরিমান রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। সাব রেজিষ্ট্রার নিজেই রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে অভিযুক্ত। বিভিন্নভাবে সেবা প্রত্যাশীদের নাজেহাল করে অর্থ আদায় ও সারকরি রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে ভাটারা খন্দকার বাড়ি মোড়ে ৩ তলা বাড়ি ও বসুন্ধরায় রয়েছে কোটি কোটি টাকা মুল্যের সম্পদ।
এছাড়াও স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে প্রচুর সম্পদ বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। শেয়ার বাজারে বিপুল পরিমান অর্থ লগ্নি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এসব বিষয়ে শফিউল বারী’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায় নি।
