যুদ্ধবাজ পৃথিবীতে আবহাওয়া ও জলবায়ুর চরম বৈরিতা ভয়াবহ অবক্ষয়ের দিকে এগুচ্ছে পৃথিবী 

রফিকুল ইসলাম কচি
রফিকুল ইসলাম কচি
প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:৪৯:০৬

আধুনিক সভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী এক ভয়াবহ অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে এবং বিশ্ব এখন নীরব কিন্তু ভয়ংকর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং শিল্পায়নের যান্ত্রিক জয়রথে ভর করে মানবজাতি এগিয়ে গেলেও এর মাশুল দিতে হচ্ছে প্রকৃতিকে। বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুর অস্বাভাবিক আচরণ আজ আর কোনো ভবিষ্যৎ আশঙ্কা নয়, বরং প্রতিদিনের নির্মম বাস্তবতা। অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ, নির্বিচারে বন উজাড় এবং জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পৃথিবী আজ ভয়াবহ অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। এই যান্ত্রিক পৃথিবীতে উষ্ণায়নের চরম প্রভাবে বদলে যাচ্ছে ঋতুচক্র, বারবার ভয়াবহ তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে এই বিশ্বকে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনগুলোতে এক মহাবিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে বিশ্ব।

গত কয়েক বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার ফলে প্রকৃতিতে বহুমুখী বিরূপ প্রতিক্রিয়া কার্যত দৃশ্যমান । বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। যার ফলে ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকার বড় বড় শহরগুলোতে দাবদাহের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। অপরদিকে বৃষ্টিপাতের অভাবে দীর্ঘমেয়াদী খরায় শুকিয়ে যাচ্ছে উর্বর আবাদী জমি। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকার বড় বড় শহরগুলোতে দাবদাহের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে বৃষ্টিপাতের অভাবে দীর্ঘমেয়াদী খরায় শুকিয়ে যাচ্ছে উর্বর আবাদী জমি গত কয়েক বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে সাগরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের বুকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। অন্যদিকে, আকস্মিক ও অস্বাভাবিক বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে, যা শহুরে জলাবদ্ধতা এবং গ্রামীণ জনপদে স্থায়ী বন্যার সৃষ্টি করছে।উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বরফ গলিত হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে উপকূলীয় নিচু দেশ ও দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের বুকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। অন্যদিকে, আকস্মিক ও অস্বাভাবিক বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে, যা শহুরে জলাবদ্ধতা এবং গ্রামীণ জনপদে স্থায়ী বন্যার সৃষ্টি করছে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘায়িত খরা ও অনাবৃষ্টির ফলে শুকিয়ে যাচ্ছে নদ-নদী ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা দিচ্ছে তীব্র খরা, আবার কোথাও হুট করে নামছে মুষলধারে বৃষ্টি; যার ফলে দেখা দিচ্ছে ভয়ংকর বন্যা ও ভূমিধস। বঙ্গোপসাগরসহ বিশ্বের বিভিন্ন মহাসাগরে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শক্তি সঞ্চয় করছে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়গুলো। উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বরফ এবং পাহাড়ের হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। জলবায়ু গবেষকদের মতে, বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দিনে বিশ্ব এক গভীর পরিবেশগত ও সামাজিক অবক্ষয়ের শিকার হবে।

পরিবেশ বিজ্ঞানী ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার World Health Organization (WHO) প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনই লাগাম টেনে ধরতে না পারলে আগামী কয়েক দশকে পৃথিবী যে ধরনের ধ্বংসাত্মক অবক্ষয়ের শিকার হবে, তা হলো…….

#অনিয়মিত আবহাওয়া, উর্বর জমির লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং পানির সংকটে বিশ্বজুড়ে প্রধান ফসলগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। এর জেরে বিশ্বজুড়ে তীব্র খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। #সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার কারণে নিচু দ্বীপরাষ্ট্রগুলো (যেমন—মালদ্বীপ) এবং উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ বাস্তুহারা হবে। বাংলাদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও নদীভাঙনে বিশাল জনগোষ্ঠী গৃহহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। # নদী ও হিমবাহ শুকিয়ে যাওয়া এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লোনাজল প্রবেশ করার ফলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট তৈরি হবে যা কার্যত দৃশ্যমান।# উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগসহ বিভিন্ন অজানা ভাইরাসের বিস্তার অতিমাত্রায় বাড়বে। স্বাস্থ্যব্যবস্থা এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে ব্যর্থ হবে এবং হচ্ছে। # বনাঞ্চলে ঘন ঘন দাবানল এবং মহাসাগরের অম্লতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বহু উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি চিরতরে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে। # প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি সামাল দিতে গিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ধসের মুখে পড়বে। পাশাপাশি নিরাপদ পানি, খাদ্য ও বাসস্থানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংঘাত বা ‘জলবায়ু যুদ্ধ” সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

পৃথিবী আমাদের একমাত্র বাসযোগ্য গ্রহ। জলবায়ুর এই নীরব অথচ ধ্বংসাত্মক আক্রমণ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে হলে কেবল আলোচনা নয়, প্রয়োজন জরুরি ও সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি বাসযোগ্য পৃথিবী উপহার দিতে আজই সচেতন হওয়ার সময়। এই অবক্ষয় থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে আন্তর্জাতিক স্তরে শুধু কাগজে-কলমে প্রতিশ্রুতি দিলে চলবে না; কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং বনভূমি রক্ষায় কঠোর বৈশ্বিক আইন প্রণয়ন করতে হবে। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই মানবসভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষায় সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।