বিএডিসিতে নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ

দুর্নীতির ডন টেন্ডার কারসাজির মাস্টারমাইন্ড ইব্রাহিম খলিল এখনো বহাল তবিয়তে

শেখ নাজমুল
শেখ নাজমুল
প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৮:১০:২৫

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধিনে বিএডিসির দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড, মাফিয়া খ্যাত প্রকল্প পরিচালক ইব্রাহিম খলিল বেসামাল হয়ে টেন্ডার কারসাজি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিগত স্বৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের আমলে কৃষিবীদ বাহার উদ্দিন নাসিম আস্থাভাজন হওয়ার কারণে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য ও অবৈধ ক্ষমতা দাপট দেখিয়ে চাকরির সিংহ ভাগ সময় বিএডিসি”র প্রধান কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ আগলে রেখে দাপিয়ে বেড়িয়েছি মহা ধুমধামে দুনীতি পরায়ন লীগের দোসর পিডি ইব্রাহিম খলিল। এখন আবার বনে গেছেন রাতারাতি ভোল পাল্টে বিএনপি পন্থী তিনি। দুনীতির দৌরাত্ব চরমভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন কোন ক্ষমতা বলে পিডি ইব্রাহিম খলিল। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে তুলেছেন সু বিশাল সিন্ডিকেট বাহীনি, সেই বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ বলে একাধিক সুত্রে আরও জানা গেছে।

সুত্রে আরও জানা গেছ, প্রকল্পের সুফল না,হলেও পিডি ইব্রাহিম খলিলের আর্থিক সুফল মিলেছে হরহামেশাই বলে একাধিক কর্মকর্তারা আজকের সংবাদ কে জানান। একাধিক ভুক্তভোগী সাধারণ ঠিকাদার কতৃক সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পিডি ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে দরপত্রের বিপরীতে তাঁর মনোনীত  ঠিকাদার দের  কার্যাদেশ প্রদান করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা বলে অভিযোগ করে ও এখনো তাঁরা কোন পতিকার পায়নি বলে একাধিক ঠিকাদার সুত্রে যানা গেছে। তাঁর অবৈধ টাকার প্রভাবে সেই সকল অভিযোগ ধামাচাপা পরে যাচ্ছে, কোন অদৃশ্য শক্তির বলে।

সুত্রে যানা জায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর বিদ্যমান ”বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণ ব্যবস্থাদির আধুনিকীকরণ এবং উন্নয়ন (২য় পর্যায়)” শীর্ষক প্রকল্পে নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের অভিযোগে সংস্থার সাধারণ কর্মকর্তাদের মধ্যে চাপান-উতোর বিরাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংস্থার কয়েক জন কর্মকর্তা আজকের সংবাদ কে জানান, কেবল উর্ধবতন এক কর্তার আশীর্বাদে নিয়মনীতি শিথিল করে অনেক যোগ্য ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে বিশেষ বিবেচনায় প্রকল্প পরিচালক হিসাবে একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মোটা অংকের  আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে  বিযয় কানাঘুষা শোনা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উক্ত প্রকল্পের মেয়াদ মার্চ, ২০২৫ হতে ফেব্রুয়ারী ২০২৮ ইং পর্যন্ত। পিডি নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ০৯/০২/২০১৬ তারিখে, ২০.৮০৪.০২২.০০.০০.০০৬.২০১০/৪ স্মারকে জারিকৃত অবশ্য পালনীয় নির্দেশাবলীর ৩.২ (ঙ) অনুযায়ী “প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাস চাকুরীর মেয়াদ থাকতে হবে” মমে উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু ইব্রাহীম খলিলের চাকুরির মেয়াদ প্রকল্প শেষ হওয়ার ছয় মাসের আগেই শেষ হয়ে যাবে। তাছাড়া ৩.২(খ) অনুযায়ী যে প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা এবং প্রকিউরমেন্ট সংক্রান্ত প্রশিক্ষনের আবশ্যকতা রয়েছে তাতেও তার ঘাটতি রয়েছে।মহা ঘুষখোর দুর্নীতির বর পুত্র,  তদবীরবাজ এই কর্মকর্তা আওয়ামী সরকারের পুরোটা সময় ঢাকায় পোস্টিং নিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন।

“মুজিব বর্ষে বিএডিসি, কৃষি সেবায় দিবানিশি” স্লোগান খুব গর্বভরে প্রচার করতেন তত্বকালীন এই পরিচালক। বাহাউদ্দিন নাসিমের সাথে সক্ষতার কারনে একাধিক কর্মকর্তা দের ডিঙিয়ে উপ- পরিচালক থেকে পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন সু- চতুর ইব্রাহিম খলিল। এখন আবার ভোলপাল্টে নিজেকে বঞ্চিত প্রমান করতে চাইছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্তা ব্যাক্তীদের নিকট। কোন এক যাদুমন্ত্র বলে সবাইকে ম্যানেজও করে ফেলেছেন তিনি । কৃষি মন্ত্রণালয়ের ১৭ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে জারীকৃত আদেশে উক্ত প্রকল্পে পিডি হিসেবে ড. মো: ইব্রাহিম খলিল’কে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই, ২০২৫ তারিখে বিএডিসি’র চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত পত্রে পিডি হিসেবে তিনজন কর্মকর্তার নাম প্রস্তাবের পরপরই অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও নানাবিধ অভিযোগ উত্থাপন করে ‘বেশ কিছু পত্রিকাতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

উক্ত প্রতিবেদনে নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সুরাহা করার কথাও বলা হয়েছিল। প্রতিবেদক এই অনিয়মের বিষয়ে অন্ত বর্তী সরকারের সাবেক কৃষি উপদেষ্টা ও কৃষি সচিবের সাথে দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী সাধারণ ঠিকাদার রা, সাক্ষাৎ করে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার স্বার্থে নিয়ম লঙ্খন না করার বিষয়টি আমলে আনার দাবি জানিয়েছিলেন।

কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়লে আমদানি ব্যয় কমবে, কাজেই কৃষি অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ন ভিত্তি। সেখানে এমন কারিগরি পদে যোগ্য লোককে নিয়োগ না দিয়ে পছন্দ মাফিক তাবেদার নিয়োগ দিয়ে প্রকল্পের সাফল্য ঝুকির মুখে পড়েছে। সে জন্য ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধে উঠে এবং স্বেচ্ছাচারিতা পরিহার করে যোগ্যলোক নিয়োগ দিলে হয়তো সরকারের আর্থিক ক্ষতি হতোনা বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের সংবাদ কে জানান একাধিক কর্মকর্তারা।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প পরিচালক বিধি লঙ্ঘন করে নিয়োগ করায় উক্ত প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীরা। লীগের সুবিধাভোগী পিডি ইব্রাহিম খলিলের নেতৃত্বে চলছে রমরমা কমিশন বানিজ্য বলে তাঁরা আরও জানান। উক্ত অভিযোগের বিষয়ে পিডি ইব্রাহিম খলিলের মোবাইলে ফোন দিলে ফোন রিসিভ না করায় তাঁর কোন মতামত পাওয়া যায়নি।