ফ্যাসিস্ট এর দখলে এস এস বি বোর্ড, আওয়ামী পুনর্বাসন চলছেই, পদোন্নতি বঞ্চিত সরকার দলীয়রা

এসএসবি/SSB (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) এর অন্যতম সদস্য ফ্যাসিস্ট অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার ও ফ্যাসিস্ট অডিটর জেনারেল নুরুল ইসলাম। এসএসবি এর ৭ জন সদস্যের মধ্যে উল্লেখিত সদস্যগন বোর্ডের প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে চিহ্নিত।
অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার, পি আর এল পরবর্তী এক্সটেনশনের তোড়জোড় চলছে। চলতি মাসের ১২ তারিখ তার শেষ কর্মদিবস হলেও ইতোমধ্যে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সারাংশ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর গুঞ্জন উঠেছে। খায়রুজ্জামান মজুমদার ১৯৯৩ সালে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১১ ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি কাস্টমস এক্সসাইজ ও ভ্যাট ক্যাডারে ১৩ তম বিসিএস এ পদাবনমন করে যোগদান করেন।
২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের ৩ জানুয়ারি থেকে ২২ আগষ্ট পর্যন্ত তিনি জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ে নসরুল হামিদের সচিব পদে নিয়োগ লাভ করেন।শেখ হাসিনার অর্থ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং পলাতক গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার প্রত্যক্ষ ভাবে তিনি ২৮ আগস্ট ২০২৩ তারিখ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব হিসেবে পদায়ন করেন।
মুলত: সালমান এফ রহমানের নিকট আত্মীয় হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ও সালমান এফ রহমানের পরামর্শে শেখ হাসিনা তাকে অর্থ বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন। চলতি মাসের ১২ তারিখ তার পি আর এল শুরু হবার কথা থাকলেও গোপনে তার ১ বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের গুঞ্জন উঠেছে।
কট্টর আওয়ামী পন্থী এই সচিবের ইতোমধ্যে এস এস বি (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড)ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ করে দিয়েছেন। তাছাড়া তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের কারণে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাহিরের দেশে পাচার করেছেন।
ইতোমধ্যে খায়রুজ্জামান মজুমদার ও অডিটর জেনারেলের অগণিত বিতর্কিত পদোন্নতি সরকারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে পাশাপাশি স্বৈরাচার সরকারের আমলারা পদোন্নতি পাওয়ার সরকারদলীয় আমলারা পদোন্নতি বঞ্চিত হচ্ছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনার সচিব আব্দুল মালেকের পিএস আওয়ামী মতাদর্শী কর্মকর্তা গোলাম কবিরকে অর্থ সচিব ও অডিটর জেনারেল মো: নুরুল ইসলামের সুপারিশে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়।
এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অধিশাখা-২ এর এক আদেশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খুনের দায়ে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দণ্ড কার্যকর হওয়া কর্নেল নওয়াজেশের কন্যা নাশিদ নওয়াজেশকে পদোন্নতির সুপারিশ করেন এই অর্থ সচিব এবং অডিটর জেনারেল মো: নুরুল ইসলাম। যেখানে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডে এই কর্মকর্তার তথ্য গোপন রাখা হয়।
ঐ একই আদেশে অন্তত ৯ জন আওয়ামী পরিবারে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের পদধারী নেতারা পদোন্নতি পেয়েছে। যাদের পরিবারের অন্তত দুজন পুলিশ ক্যাডারের ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা সরকার কর্তৃক গত আগষ্ট মাসে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
এভাবে একদিকে অর্থ সচিব ও অডিটর জেনারেলের গোপনে পদোন্নতি সুপারিশ ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন করে অন্যদিকে রাষ্ট্রকে ভিতর থেকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। রাজনীতিবিদ ও সচেতন নাগরিক মনে করে এখনই উপযুক্ত সময়, এই সচিবের চুক্তিভিত্তিক সম্ভাবনাকে বাতিল করে এবং অডিটর জেনারেলকে পদত্যাগ করিয়ে বোর্ডকে ফ্যাসিস্ট মুক্ত করতে হবে।
