টেন্ডারের কারসাজির অভিযোগ দুদক সহ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে

বিএডিসি’র দুর্নীতিবাজ পিডি ইব্রাহিম খলিলর নেতৃত্বে চলছে হরিলুট

শেখ নাজমুল
শেখ নাজমুল
প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৮:৫৭:৫০

বিএসসি“র দুনীতির বর পুত্র পিডি ইব্রাহিম খলিল কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্তা ব্যাক্তীদের দোহাই দিয়ে সরকারের বরাদ্ধকৃত অর্থ লুটপাটের মহোৎসব চালাচ্ছেন মহা ধুম-ধামে। বিএডিসির দুনীতিবাজ প্রকল্প পরিচালক মোঃ ইব্রাহিম খলিলের নেতৃত্বে গিলে খাচ্ছেন বরাদ্ধের সিংহভাগ টাকা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি প্রকল্পের আওতায় আর্থিক অনিয়ম দুনীতি অভিযোগ এনে প্রধান মন্ত্রী, দুনীতি দমন কমিশন দুদক ও বিএডিসি’র চেয়ারম্যানে নিকট এক ভুক্তভোগী টেন্ডারের কারসাজি করার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছে।

অভিযোগ সুত্রে যানা জায়, বিএডিসি” র” অধিনে বিদ্যমান বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজতকরন বিতরণ ও ব্যবসায়িদের আধুনিকীকরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পিডির মনোনীত ঠিকাদার দের কাজ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য তিনি এমন ভাবে দরপত্রের বিপরীতে ঠিকাদার কতৃক কাগজ পত্র চাওয়া হয়,শুধু মাত্র তাঁর মনোনীত ঠিকাদার ছাড়া অন্য কোন ঠিকাদার দরপত্রে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না। সম্পূর্ন এক তরফা ভাবে একচেটিয়া পিডির মনোনীত ঠিকাদারদের কার্যাদেশ প্রদান করে কমিশন বানিজ্য করে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা বলে জানাগেছে।

অভিযোগ সুত্রে আরও যানা জায়, সম্প্রতি প্রকল্পের আওতায় সীড ড্রায়ার সরবরাহ সংক্রান্ত দরপত্রে অনিয়ম ও কার্যাদেশের বিপরীতে ব্যপক কারচুপির করা হয়েছে বলে উক্ত দরপত্রের কার্যাদেশ বাতিলের দাবিতে লিখত অভিযোগ করেছেন সাধারণ ঠিকাদাররা। পিডি ইব্রাহিম খলিলের নেতৃত্বে চলছে হরিলুট। তাঁর আর্থিক দুনীতির কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে প্রকল্পের আওতায় সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। প্রকল্পের আওতায় কারসাজির মাধ্যমে আহবান কৃত টেন্ডারের Tender ID: 1178841 (MIEF/GD-19.01) এবং Tender ID: 1178840 (MIEF/GD-19.02) মাধ্যমে তাঁর মনোনীত ঠিকাদার দের কাজ পাইয়ে দিতে গোপন দর প্রদান করে কমিশন বানিজ্য মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দিয়ে মোটা অংকের কমিশন বানিজ্য করছেন দুনীতির মাস্টার মাইন্ড পিডি ইব্রাহিম খলিল। প্রকল্পের দুনীতি কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না, তাঁর আর্থিক দুনীতির কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রকল্পের আওতায় সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।

দুর্নীতিবাজ পিডি কোন পরোয়া করেন না মন্ত্রণালয়ের কর্তা ব্যক্তীদেরকে, কোন ক্ষমতা বলে টেন্ডার (প্রকিউরমেন্ট) আইন কে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ। এ যেন দেখা’র কেউ নেই, (বিএডিসি)-এর ‘সিড ড্রায়ার’ ক্রয় সংক্রান্ত উপরোক্ত দরপত্রসমূহের কারসাজি কারণে সরকারের অতিরিক্ত কয়েক কোটি টাকা গচ্চা গেছে। শুধু মাত্র পিডির আর্থিক দুনীতির কারনে। উল্লেখীত দরপত্রদুটিতে টেকনিক্যালি সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন অফার প্রদান করেছে কেবলমাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান।

এসব যোগ্য প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবকে টেকনিক্যালি “নন-রেসপন্সিভ” দেখিয়ে Consent Merchant নামক একটি প্রতিষ্ঠান-কে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে-যাদের প্রস্তাবিত যন্ত্রপাতির টেকনিক্যাল প্যারামিটার ৭০-৮০% পর্যন্ত নির্ধারিত স্পেসিফিকেশনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যাদের এ ধরনের ড্রায়ার সরবরাহের বাস্তব অভিজ্ঞতারও না থাকার শর্তে এই ধরনের কারসাজির মাধ্যমে তাদের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। তাও আবার  সম্পূর্ণ ভূয়া অভিজ্ঞতার সনদপত্র প্রদান করে এই কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কার্যাদেশ প্রাপ্ত প্রস্তাবিত Master Climate Solutions প্রস্তুতকৃত হিট এক্সচেঞ্জার মডেল BV 691TR টি বিএডিসি’র টেকনিক্যাল চাহিদা পূরণ করে না। যন্ত্রটিতে অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ জ্বালানি খরচ, অতিরিক্ত ক্ষমতাসম্পন্ন হিটার (উচ্চ kW) এবং তুলনা মূলকভাবে কম ক্ষমতার ব্লোয়ার (নিম্ন kW) সংযোজন করা হয়েছে কোন সার্থে। এই ভারসাম্যহীনতা পুরো সিস্টেমকে কার্যত অকার্যকর করে তোলে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

বিএডিসি’র পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, উচ্চ ক্ষমতার হিটারের সাথে নিম্ন ক্ষমতার ব্লোয়ার গ্রহণযোগ্য পারফরম্যান্স দিতে পারে না; ফলে ড্রায়িং দক্ষতা কমে যায়, অপারেটিং খরচ বৃদ্ধি পায় এবং ঘন ঘন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যে-ড্রায়ারের এমন ত্রুটিপূর্ণ অপারেশনে বীজের ক্ষতি হওয়ার নিশ্চিত সম্ভাবনা থাকে।

বিষয়টি যদি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়  (বুয়েটে)-এ পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়, তাহলে প্রকৃত টেকনিক্যাল অসামঞ্জস্যতা সহজেই প্রমাণিত হবে। থলের বিরাল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।

উক্ত দরপত্রে Consent Merchant ইউরোপের একটি প্রতিষ্ঠানের অফার প্রদানের মাধ্যমে এই অর্ডার লাভ করেছে। কিন্তু সাধারণ ঠিকাদার দের  জানামতে, তাদের ব্লোয়ার সরবরাহের জন্য কোনো স্বনামধন্য বা নির্ভরযোগ্য প্রস্তুতকারকের অভিজ্ঞতা ঘাটতি ছিল। কার্যাদেশ প্রাপ্তি Consent Merchant -এর সাথে গোপনে আঁতাত করে এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন পিডি ইব্রাহিম।

(বিএডিসি) আওতাধীন “বিদ্যমান বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও উন্নয়ন” প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়াই পরিনত করেছে পিডি। বিগত সময়ে  ২৯২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্ধের এই প্রকল্পে মূলত টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়া, প্রকল্প পরিচালক পিডি কেনাকাটা সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ থাকলেও অদৃশ্য শক্তি কারণে সেই সকল অভিযোগ আজও পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। গুরুতর দুর্নীতির অভিযুক্ত পিডি এখনো বহাল তবিয়তে ঘুষ, কমিশন বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন কোন শক্তির বলে। প্রকল্পের আর্থিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতি বেসামাল হয়ে টেন্ডারের কারসাজি করে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ পিডি ইব্রাহিম খলিল।

পিডি ইব্রাহিম খলিলের নেতৃত্বে টেন্ডার সিন্ডিকেট ও দরপত্র জালিয়াতি, প্রকল্পের মোট বাজেটের মধ্যে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ২০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের শতাধিক দরপত্র (টেন্ডার) লাইভ রাখা হয়েছে মোটা অংকের অগ্রীম কমিশন বানিজ্যর মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুট করার সার্থে।  অভিযোগ রয়েছে, একযোগে এত বেশি সংখ্যক টেন্ডার চলমান রাখায় সাধারণ ও যোগ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা বাস্তবসম্মত ছিল না। তিনি নির্দিষ্ট ঠীকাদাদের কে সুবিধা প্রদান: সুনির্দিষ্ট কয়েকটি চক্র বা পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে টেন্ডার সিন্ডিকেট গঠন করা হয় বলে ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন।

প্রকল্প পরিচালকের (ইব্রাহিম খলিলের) বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি দুনীতি থামাবে কে? প্রকল্পটির পরিচালক পিডি ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম এবং কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কর্তৃপক্ষে নিরব ভুমিকা এখন প্রশ্ন বিদ্ধ সাধারণ কর্মকর্তা ও ঠিকাদার দের মাঝে। তার বিরুদ্ধে আরও অর্থাপত্তি অভিযোগ টেন্টডারের বিধি ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে এই লাভজনক প্রকল্পে পদায়ন করার পাশাপাশি কেনাকাটা এবং অবকাঠামোগত সংস্কারের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। কাগজে কলমে সংস্কার নির্মাণ, নামে কাজ না করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করছে ভুয়া বিল ভাওছার বানিয়ে।

এই মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি বিএডিসির আঞ্চলিক বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রগুলোতেও অসাধু কিছু  কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে আর্থিক ক্ষতি ও বীজ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। পিডি ইব্রাহিম খলিলের প্রতক্ষ মদর্দে ও যোগসাজসে কৃষকের বীজ আত্মসাৎ কান্ডে বিএডিসির যশোর, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের ৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার হাইব্রিড ধান ও গম বীজ আত্মসাতের অভিযোগে আছে। কমিশন বাণিজ্য: বিএডিসির আলু, ডাল ও তৈলবীজ বিভাগেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘বীজ সিন্ডিকেট’ এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ কমিশন বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য সামনে এসেছে। এই প্রকল্পের নির্দিষ্ট অর্থবছরের অডিট রিপোর্ট কিংবা সুনির্দিষ্ট টেন্ডার নম্বরের জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ধুর্তবাজ ইব্রাহিম খলিল।

(বিএডিসি) বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (২০২৬-২৭) ‘বিএডিসি’র বিদ্যমান বীজ উৎপাদন বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (২০২৬-২৭) ‘বিএডিসি’র বিদ্যমান বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরনের ব্যাপক দুনীতি হয়েছে। পিডি ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে না সংসৃষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্ধতন কর্মকর্তা দের। উল্লেখীত অভিযোগের বিষয়ে পিডি ইব্রাহিম খলিলের মোবাইলে ফোন দিলে ফোন রিসিভ না করায় তাঁর কোন মতামত পাওয়া যায়নি।