বেনাপোল কাস্টমস ইমিগ্রেশনে চলছে নগ্ন দেহতল্লাসীসহ বেরোয়া ঘুষ বানিজ্য

রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে যাত্রীদের নগ্নভাবে দেহ তল্লাসীসহ অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ 

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ২১:১৩:৪৫

যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট কাস্টমস ইমিগ্রেশনের স্ক্যানিং পয়েন্টে দায়িত্বে নিয়োজিত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট যাত্রীদের হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। দেশি-বিদেশি যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে আটকে রাখা, ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্ন করা এবং ব্যাগেজ তল্লাশির সময় অসহযোগিতাসহ মহিলা যাত্রীদের গোপনাঙ্গে তল্লাসীর ও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন যাত্রী। অভিযোগকারী যাত্রীদের দাবি, সম্প্রতি স্ক্যানিং পয়েন্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ওই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শুধুমাত্র ঘুষ বানিজ্য চালানোর কারনে যাত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

পাসপোর্ট যাত্রীদের অভিযোগ, কাস্টমস স্ক্যানারে ব্যাগেজ পরীক্ষার পরও কোনো কোনো যাত্রীকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হচ্ছে। এ সময় তাদের কাছে ভ্রমণ ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্ন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। রহিমা বেগম (৩৫) নামে খুলনা শহরের বাসিন্দা জানান বৈধ ভিসায় ভরতে চিকিৎসার শেষে ফেরার সময় এই রাজস্ব কর্মকর্তা মিজান তার গোপনাঙ্গে হাত ঢুকিয়ে তল্লাসী করেন। কিছু না পেলেও তল্লাসী শেষে সরি টুকুনও বলেন নি। যশোর শহরের বাসিন্ধা কুলসুম বেগমের বুকের ভিতরে হাত দিয়ে তল্লাসী চালিয়েছেন এআরও মিজান বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, স্ক্যানিংয়ের পর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে কারও কারও ব্যাগ টেনে ধরে ভেতরের মালামাল ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র টেবিলে বের করে দেওয়া হয়। পরে সেগুলো পুনরায় গুছিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অসুস্থ, বয়স্ক কিংবা শারীরিকভাবে দুর্বল যাত্রীদেরও কোনো সহায়তা করা হয় না বলে অভিযোগ। আবার ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার সময় এমন আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন যাত্রী। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কাস্টমস স্ক্যানিং পয়েন্ট পার হওয়ার সময় এআরও মিজানুর রহমান যাত্রীদের ব্যাগ টেনে ধরেন। এরপর তাদের দৗর্ঘ সময় আটকে রেখে ভারতে চিকিৎসা নেওয়া নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করে থাকেন। তিনি রাগান্বিত স্বরে জিজ্ঞাসাবাদ করে বলেন “কেন ভারতে চিকিৎসা করাতে গেলেন, এ দেশে কি চিকিৎসা হয় না, অন্য দেশে কেন টাকা খরচ করলেন—এ ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে। অনেক অসুস্থ ও সাধারণ যাত্রীকে একইভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।” এসকল ঘটনা কাস্টমসের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হবে।

অভিযোগ রয়েছে, স্ক্যানিং পয়েন্টে যাত্রীদের সঙ্গে কথোপকথন ও আচরণ নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কাস্টমস কর্মীর মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, মিজানুর রহমান যে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই তার আচরণ ও কাজের ধরন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ও নির্দিষ্ট নথিপত্র ছাড়া স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে আরও কয়েকজন যাত্রী একই ধরনের হয়রানি ও মৌখিক লাঞ্ছনার অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগের বিষয়ে এআরও মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি যাত্রী যাতায়াত করেন। বিশেষ করে চিকিৎসা, ব্যবসা ও পারিবারিক প্রয়োজনে সীমান্ত পার হওয়া যাত্রীদের একটি অংশ শারীরিকভাবে অসুস্থ বা বয়স্ক। তাই কাস্টমসের নিয়মিত তল্লাশি ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি যাত্রীদের সঙ্গে পেশাদার ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঘুষখোর, লম্পট এআরও মিজানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে যাত্রীসেবার পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।