বন কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটে ঢাকা পৌঁছাল অবৈধ কাঠের ট্রাক: ভাগ পাওয়ার অভিযোগ খোদ ডিএফওর বিরুদ্ধেও

চট্টগ্রাম থেকে মো: আলমগীর
চট্টগ্রাম থেকে মো: আলমগীর
প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ২০:১৯:৪১  আপডেট :  অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ২০:২৩:৪৯

সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে কাঠ কেটে পাচারে সহযোগিতা ও লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বান্দরবান ও চট্টগ্রামের একাধিক বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বান্দরবান বন বিভাগের সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী সাইফুলের নেতৃত্বে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে আহরিত কাঠ মহিউদ্দিন ও কায়সার নামের দুই ব্যবসায়ী পিরোজপুর-ট ১১-০১৮৬ এবং চট্ট মেট্রো-ট ১২-০৬৭৯ নম্বরের দুটি ট্রাকে বোঝাই করেন।

সেখানে কাঠের সঠিক জাত ও পরিমাপ যাচাই না করেই রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী সাইফুল নিজেই লোডিং চেক ও বৈধতার ছাড়পত্র দিয়ে চলাচলের ট্রানজিট পাস (টিপি) প্রদান করেন। বিষয়টি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো এবং চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাসের মোহাম্মদ মহাসিনকে সোর্সের মাধ্যমে গোপন সূত্রে জানিয়ে ট্রাক দুটি আটকের অনুরোধ জানানো হয়।

ডিএফও মহাসিন সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে গাড়ি দুটি আটকের নির্দেশ দিলেও তিনি লোকদেখানো রাত ১টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের নাটক করেন এবং গোপনে ট্রাক মালিকদের সঙ্গে আঁতাত গড়ে তোলেন। এরপর চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের অধীন ফৌজদারহাট ও ধূমঘাট চেক স্টেশনের দুই স্টেশন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম ও শামীম রেজাকে সঙ্গে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের সিন্ডিকেট ২ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে ভোর ৩টার দিকে বিশেষ ব্যবস্থায় গাড়ি দুটি নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। একই প্রক্রিয়ায় গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সোহেল কেরানির মালিকানাধীন চট্ট মেট্রো-ট ১১-০৫৩৮ নম্বরের অপর একটি ট্রাকে (টিপি নং ০৩/০০৩৫৩৭, তারিখ: ১১/১০/২০২৬) অবৈধ কাঠ বোঝাই করে রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী সাইফুলের কাছ থেকে অবৈধ পাস নিয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে সোর্সের মাধ্যমে আবারও সিএফ ও ডিএফওকে জানানো হয়। এবার ডিএফও ফৌজদারহাট স্টেশন কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে গাড়িটি আটকের নির্দেশ দিলে তিনি গাড়িটি আটক করেন ঠিকই, তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়ে ধুমঘাট স্টেশন কর্মকর্তা ও বান্দরবান সদর রেঞ্জার কাজী সাইফুলের সঙ্গে যোগসাজশ করে ২ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে রাতের আঁধারে কাঠের বৈধতা যাচাইয়ের মিথ্যা নাটক সাজান। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার নাম করে আরও ১ লাখ টাকার মিথ্যা নাটক সাজিয়ে সর্বমোট ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ট্রাকটি নিরাপদে ঢাকা পাঠানোর পথ সুগম করে দেন।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে স্টেশন কর্মকর্তা মিডিয়া ধামাচাপা দেওয়ার কথা বলে কাজী সাইফুলের কাছ থেকে আরও ১ লাখ টাকা আদায় করেন। এ বিষয়ে ডিএফও আবু নাসের মোহাম্মদ মহাসিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন এবং পরবর্তীতে আর কোনো যোগাযোগ করেননি, তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফরেস্টার দাবি করেছেন যে এই ঘুষ বাণিজ্যের টাকার ভাগ ডিএফও নিজেও গ্রহণ করেছেন।