আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুদ্ধের প্রভাব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে এবার দেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার ও সংস্কার পরিকল্পনাকে প্রাধান্য দিতে চায় সরকার। নতুন ঋণ কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যাংক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের এসব পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে ঋণের পরিমাণ, শর্ত এবং সংস্কার বাস্তবায়নের সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসব বিষয়ে আগামী কয়েক মাসের আলোচনায় সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
নিজস্ব অগ্রাধিকারেই সংস্কার, পাশে উন্নয়ন সহযোগীরা
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদাররা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এতে দেশের প্রয়োজন ও পরিকল্পনা অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি জানান, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গেও উন্নয়ন সহযোগিতা ও অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সংস্কারের যেসব অঙ্গীকার রয়েছে, সেগুলো পরবর্তী সময়ে পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, পরিকল্পিতভাবে সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ ও অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। আইএমএফ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংক খাতের সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নতুন ঋণ ও সংস্কার কর্মসূচির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংক কোনো প্রশ্ন তুলেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি।
নতুন ঋণের পরিমাণ ও শর্ত নিয়ে আলোচনা চলমান
আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে বাংলাদেশ কী পরিমাণ অর্থ পাবে, ঋণের বিপরীতে কী ধরনের শর্ত থাকবে এবং কোন সংস্কার কত দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পুরো প্রক্রিয়া এখনো চলমান। ঋণের শর্ত, সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে।
ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. তিতুমীর বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে সরকার।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গ্রহণের পাশাপাশি সংস্কারের ধরন, গতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণে দেশের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে চায় সরকার।
প্রবৃদ্ধিতে সরকারের লক্ষ্য ৬.৫ শতাংশ, আইএমএফের পূর্বাভাস ৪.৭
অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সরকার। তবে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ও আইএমএফের পূর্বাভাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।
ড. তিতুমীর জানান, আইএমএফের আর্টিকেল ফোর মিশনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, চলতি বাজেটে সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ব্যাপারে আশাবাদী জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হলে অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সেই দৃষ্টিকোণ থেকেও আইএমএফের পূর্বাভাস বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। অতীতের তথ্য বিশ্লেষণে আইএমএফের প্রবৃদ্ধি-সংক্রান্ত প্রক্ষেপণ তুলনামূলকভাবে সংরক্ষণশীল হওয়ার প্রবণতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নির্ভর করবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা এবং সংস্কার কার্যক্রমের কার্যকারিতার ওপর। অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন নির্ভর করবে।
মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সামাজিক সুরক্ষায় গুরুত্ব
দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাব যুক্ত হয়ে অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে বলে মনে করেন ড. তিতুমীর।
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মূল্যস্ফীতিও বর্তমান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এ অবস্থায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে এসব কর্মসূচিতে উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা ছিল। প্রকৃত সহায়তাপ্রত্যাশীদের অনেকে তালিকার বাইরে থেকে গেছেন। অন্যদিকে, যাঁদের সহায়তা পাওয়ার কথা নয়, তাঁদের কেউ কেউ সুবিধা পেয়েছেন। কর্মসূচিগুলো বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় প্রত্যাশিত ফলও পাওয়া যায়নি।
ড. তিতুমীরের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে গত কয়েক বছরে কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে দারিদ্র্য বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করছে।
এসব কর্মসূচিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উপকারভোগী নির্বাচন এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়াতে ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সামাজিক খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনাকে উন্নয়ন সহযোগীরা ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানান তিনি। তবে এসব উদ্যোগের সুফল নিশ্চিত করতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি স্বচ্ছতা, সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।
২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ করার পরিকল্পনা
রাজস্ব আহরণে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে করব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ জনসেবামূলক খাতে অর্থায়নের সক্ষমতা বাড়াতে নিজস্ব রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি জরুরি বলে মনে করছে সরকার।
ড. তিতুমীর জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির অনুপাতে কর আহরণ ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে করব্যবস্থার সংস্কার এবং রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো গেলে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের সক্ষমতা বাড়বে। এতে উন্নয়ন কার্যক্রম ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে করের আওতা সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকি ও অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো ও আমানতকারীদের সুরক্ষায় জোর
অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে ব্যাংক খাতকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে সরকার। দুর্বল ব্যাংকের পুনর্মূলধনায়ন, ব্যাংকিং ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় এসেছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
ড. তিতুমীর বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক খাতে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর আর্থিক বিবরণী ও ব্যালান্স শিটের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যাংক খাতে অতীতের অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যাংকসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ লুটপাটের কারণে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার লুট করা হয়েছে।
তিতুমীর বলেন, এই অর্থ জনগণের। তাই আর্থিক খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। যারা অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং যারা এ কাজে সহায়তা করেছে, তারা দেশে কিংবা বিদেশে যেখানেই থাকুক, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, খেলাপি ঋণ ও আর্থিক অনিয়ম মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অর্থ আত্মসাৎকারীদের পাশাপাশি তাদের সহযোগীদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।
ব্যাংক খাতের সংস্কারে দুর্বল ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা, ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা এবং আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সংস্কারের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোই বড় পরীক্ষা
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন এবং সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ—সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় এসব বিষয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। একদিকে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে যে অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে, তা সংস্কার কর্মসূচির ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে নতুন ঋণ নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক হওয়া বা সংস্কারের পরিকল্পনা ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়। এসব উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে সংস্কার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, আর্থিক খাতে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষ কতটা সুফল পাচ্ছে তার ওপর।
আগামী কয়েক মাসে আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ব্যাংক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অগ্রগতিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
