সরকার ও দাতা সংস্থার নিকট ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে

এলজিইডি’র জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়ে মনগড়া তথ্য পরিবেশন

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫ ১৭:৪৫:০৫  আপডেট :  ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫ ১৯:৩২:১৯

সম্প্রতি কয়েকটি মিডিয়ায় এলজিইডির আওতায় বাস্তবায়নাধীন জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়ে সীমাহীন দুর্নীতির খবর প্রচারে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, প্রকাশিত সংবাদসমূহ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। বর্ণিত প্রকল্পটির ব্যয় ২৪৬১.৬১ কোটি টাকা যার অধিকাংশ অর্থ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ইফাদ ও নেদারল্যান্ড সরকার প্রদান করবেন। প্রকল্পটি ৪২টি জেলায় বাস্তবায়ন হবে, প্রকল্পের আওতায় রাবার ড্যাম, রেগুলেটর, সুইস গেট নির্মাণ, বারিড পাইপ স্থাপন এবং খাল পুনঃখননসহ ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থত পানি (Surface Water) ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি গ্রামগঞ্জের কৃষিজীবী মানুষের দারিদ্র বিমোচন হবে। এছাড়া আয়বর্ধক বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া নারী জনগোষ্ঠীকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা হবে।

প্রকল্পটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হলেও, পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে জুলাই ২০২৫ হতে এর মূল কাজ শুরু হয়েছে। কাজের গতি ত্বরান্বিত করতে অক্টোবর, ২০২৫ এ ২৫৫জন আউটসোর্স স্টাফ মাঠ পর্যায়ে পদায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কাজ বাস্তবায়নের জন্য খাল, বাঁধ, রেগুলেটর, রাবার ড্যাম ইত্যাদির পরিকল্পনা, ডিজাইন ড্রয়িং ও প্রাক্কলন প্রণয়ণের কাজ চলমান আছে। খুব শীঘ্রই মাঠ পর্যায়ে পূর্ত কাজ বাস্তবায়ন শুরু হবে।

বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, প্রকল্প পরিচালক জানান যে, বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় জনবল নিয়োগ ও অফিস স্পেস ভাড়া নিয়ে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্য প্রচার করছেন। প্রকৃতপক্ষে এলজিইডি’র সদর দপ্তরে প্রায় ৮০-৯০জন জনবল ও পরমর্শকগণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে এলজিইডি’র অন্যান্য প্রকল্পের ন্যায় অফিস ভাড়া নেয়া হয় এবং এর চুক্তি হয়-যা বর্তমান প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বভার গ্রহন করার পূর্বেই সম্পাদিত হয়। বর্তমানে এখানে সুন্দর কর্মপরিবেশ বিরাজ করছে। প্রকল্পের মূল কার্যক্রম শুরু করতে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় ২৫৫জন মেধাবী দক্ষ জনবল নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যোগ্য জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নানা ধরনের তদবীর অগ্রাহ্য করে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগ করায় স্বার্থান্বেষীমহলের প্ররোচনায় বিভিন্ন রকম অপপ্রচার করছে। প্রকল্পে জনবলের বেতন ও অন্যান্য খাতে গত ২ বছরে সর্বমোট ২১ কোটি টাকা ব্যয় হলেও- হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে। অপরদিকে বর্তমান প্রকল্প পরিচালক মাত্র ১০ মাস পূর্বে দায়িত্ব নিয়েছেন। ফলে এ ধরনের অপপ্রচার সরকার ও দাতা সংস্থার নিকট ভাবমূর্তী খুন্ন হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর ঘুরে দেখা যায় অফিসে সুন্দর কর্মপরিবেশ তৈরী হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকের জনবল ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান একই ফ্লোরে কাজ করায় পারস্পারিক বোঝাপড়া ভালো হচ্ছে এছাড়া মনিটরিং করাও সহজ হচ্ছে। আউটসোর্স প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কয়েকজনের কথা বলে জানা যায় তারা সকলেই পরীক্ষার মাধ্যমে চাকুরী পেয়ছেন-কোনো প্রকার তদবীর এর প্রয়োজন হয়নি। প্রকল্প পরিচালকের দক্ষ নেতৃত্বে পরিকল্পনা মাফিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান আছে।