দুদকে অভিযোগ দায়ের

টাঙ্গাইল বন বিভাগের দোখলা রেঞ্জে ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ অফিসারের তত্ত্বাবধায়নে চলছে হরিলুট

মধুপুর (টাংগাইল) থেকে জামাল উদ্দিন
মধুপুর (টাংগাইল) থেকে জামাল উদ্দিন
প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৩ ২১:২৭:০৩

টাংগাইল বন বিভাগের দোখলা রেঞ্জে চলছে হরিলুট। ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ অফিসার ফরেস্টার হামিদুল হক একাধারে বনজ সম্পদ উজাড়, সুফল বাগান মেইনটেনেন্স, নতুন বাগান সৃজন ও সামাজিক বনায়নের সরকারি বরাদ্দকৃত টাকার সিংহভাগ আত্মসাৎ করলেও থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই কর্মকর্তা যোগদানের পর গত ৭ মাসে প্রায় এক কোটি টাকা সরকারি অর্থ তসরুপ করেছেন বলে দুদকে এক লিখিত অভিযোগে দায়ের করেছেন মধুপুরের মুন্সী আনোয়ার নামের এক ব্যক্তি।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বিগত ২১ জুলাই তিলের টাল নামক জায়গায় করুনা বিধির সামাজিক বনায়নের প্লট থেকে ৫ফুট বেড়ের ৬টি গজারী গাছ বিক্রি করেন ১ লাখ টাকায় ফরেস্টার হামিদুল হক। গাছগুলি বাছতুল্লাহর সমিলে চেরাই করা হয়। রাতের আধারে ফরেস্টার সাহেব নিজে দাঁড়িয়ে থেকে উক্ত গাছ পাচার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় জনগণ সংশ্লিষ্ট এসিএফকে ফোন করলেও তিনি কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এ মূহুর্তে সরেজমিন পরিদর্শন করলে এখনও গাছের মোথা পাওয়া যাবে।

এই কর্মকর্তা গত ২০ ডিসেম্বর এই রেঞ্জে যোগদানের পর সুফল বাগানের  মেইনটেনেন্স বাবদ ডিসেম্বর ২০২২ মাসেই ১৯ লাখ ৮৫ হাজার ৫শ টাকা তুলে কোন কাজ না করেই আত্মসাৎ করেন। নতুন বাগান সৃজন বাবদ জানুয়ারি ২৩ মাসে ৩০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে কোন বাগান না করে ভুয়া ভাউচার, টিপসই জাল করে মাস্টার রোল দাখিল করেন। সম্প্রতি সামাজিক বনায়নে নামে টিএফএফ থেকে ৫২ লাখ টাকা উঠিয়ে সামাজিক বনায়নে অংশগ্রহণকারীদের কোন টাকা পয়সা না দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

সামাজিক বনায়নে অংশ নেয়া সদস্যগণ টাকা চাইলে তিনি উপরি কর্মকর্তাদের নাম বলেন এবং গাছ চুরি  মামলায় জড়িয়ে দেবেন বলে হুমকি দেন। দোখলা রেঞ্জে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান রেঞ্জ অফিসারকে টাকা দিলেই মেলে সামাজিক বনায়নের প্লট। তিনি সুফল বনায়নের নামে বাগান করতে গিয়ে মূল্যবান গজারী গাছ কেটে বিক্রি করে জায়গা খালি করে সেখানে চারা লাগানোর নামে প্লট বানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্লট দিচ্ছেন। আবার বনভূমি জবর দখলের সহায়তা করছেন। একদিকে বনের গাছ বিক্রি অন্যদিকে বাগান করার টাকা আত্মসাত ও জনগনকে প্লট করে বনের জায়গাহ দিয়ে দেয়া হচ্ছে তার অন্যতম কাজ। তিনি জানান ফরেস্টার হামিদুল ইসলাম ২০০৫সালে সহকারী ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি হিসেবে ২০০৫ সালে বন বিভাগে যোগদান করেন। ২০১০ সালে তদবির করে ফরেস্টার পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। রেঞ্জের কর্মকান্ড সম্পর্কে অজ্ঞ হলেও বনজ সম্পদ উজাড় করে অবৈধ উপার্জনে সিদ্বহস্ত। তার বাড়ী দোখলা রেঞ্জের শেষ সীমানা জামালপুর হবার সুবাদে এই এলাকার লোকজন তাকে বেয়াই বলেই ডাকে।

তার এই বন নিধন সহ সকল অপকর্মে সহায়তা করেন বুটিয়ার টাক্কু আনিস, ডাক্তার আনিছ, জাহাঙ্গীর, মহর, মালেক, কালাম। এর সবকজনের নামেই ইতিপূর্বে বন মামলা হয়। যা এখনো বিচারাধীন। তাছাড়া ফিলিপ কবি গারো মেম্বার এই ফরেস্টারকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে বনের গজারী গাছ কেটে প্রায় ৫০ একর জায়গাহ দখলে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।

শুধু তাই নয় পার্শ্ববর্তী ইট ভাটা গুলিতেও এই রেঞ্জের গজারী গাছ পোড়ানো হচ্ছে। যা এই কর্মকর্তা যোগদানের পর উজাড় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। এখান থেকেও লাখ লাখ টাকা নিয়ে গজারী বাগান উজাড়ের সুযোগ দিচ্ছেন তিনি। এই রেঞ্জের মধুপুরের কয়েকশ একর প্রাকৃতিক বন বাগান উজাড় করে তৈরি করা হয়েছে আনারস বাগান। বিনিময়ে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক লাখ টাকা।এহেন অবৈধ উপার্জনের অর্থ দিয়ে তিনি সম্প্রতি তার গ্রামের বাড়ীতে ৩ তলা বাড়ী নির্মানের কাজ শুরু করেছেন।

দুদুকে দাখিলকৃত আবেদনে গত ৭ মাসে এই রেঞ্জে বরাদ্দকৃত অর্থ খরচের ভাউচার ও ভুয়া টিপসই সম্বলিত মাস্টার রোল গুলি সরেজমিন অনুসন্ধান চালালে বেরিয়ে আসবে আরো অনেক অজানা দুর্নীতির তথ্য। এ ব্যাপারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সাথে আলাপকালে তিনি জানান এই কর্মকর্তা গেছেন মাত্র কয়েক মাস তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।