কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের পিএমখালী রেঞ্জে চলছে সংরক্ষিত পাহাড় বিক্রির ধুম

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২২ ২১:০৮:৪৮

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের পিএমখালী রেঞ্জে সংরক্ষিত পাহাড় বিক্রির ধুম পড়েছে। অভিযোগ আছে বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে একটি প্রভাবশালী চক্র বনবিভাগের শত শত একর সরকারি পাহাড় দখল করে বনায়ন ধ্বংস করে এবং পাহাড় কেটে প্লট বানিয়ে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

গণ্ডায় পাহাড় বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ হাজার থেকে লাখ টাকা দামে। অভিযোগ রয়েছে, খুরুশকুল বনবিট এলাকার পিএমখালী রেঞ্জে পাহাড়ের জায়গা বনবিভাগের দখলে নেই। সম্প্রতি খুরুশকুল পূর্ব হামজার ডেইল পুলিশ্যাঘোনা এলাকায় শত শত একর সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে,গাছ পালা কেটে বাঁশের বেড়া দিয়ে কাঁচা ঘর নির্মাণ করে প্লট বানিয়ে বিক্রি করছেন একটি সিন্ডিকেট।

স্থানীয় আরও কিছু প্রভাবশালী এবং বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব বনাঞ্চলের জায়গা দখল করে বিক্রি করলেও বন বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তাব্যক্তিরা কিছুই জানেন না। জানা যায়,খুরুশকুলের শত শত হেক্টর বনভূমি ভূমিদস্যুরা দখল করে গাছ পালা উজাড় করে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে সেই সব জায়গা চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে।

কিন্তু দখলকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলো এসব দখলদারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।এসব পাহাড় ও বন উজাড় বন্ধ করা না হলে আগামী প্রজন্মের জন্য অত্র এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এসব পরিবেশ রক্ষাকারী পাহাড় ও বন উজাড় কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না দিলে খুরুশকুলে আগামী কয়েকবছর পরে দেখবেন পাহাড় ও বন উধাও হয়ে গেছে। তাই দ্রুত পাহাড় ও বন রক্ষায় প্রশাসনের কাছে জরুরি পদক্ষেপ নিতে জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।

স্থানীয় পরিবেশ প্রেমীরা বলেন, বনভূমি রক্ষায় বনবিভাগের কর্তাব্যক্তিরা কোন ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারনে ভূমিদস্যুরা বেপরোয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কেন বনভূমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ সেটা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত। এইভাবে বন আর পাহাড় উজাড় করা হলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মানুষ আর জীববৈচিত্র্য চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

তাই বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত এসব পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। খুরুশকুল বিট অফিসার মোঃ মানিক বলেন,বিভিন্ন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযুক্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। কারা এসব কাজে জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। সিনিয়র স্যারদের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত সময়ে এসব দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং উক্ত জায়গা দখল মুক্ত করে বনায়নের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

বনভূমি দখল ও বিক্রির বিষয়ে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন পিএমখালী রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল জব্বার বলেন, সরকারী পাহাড় দখল সহ বনায়ন ধ্বংশ করে প্লট বিক্রির বিষয়টি দীর্ঘদিনের। আমার এই সল্প জনবল নিয়ে অবৈধ দখলদার প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে সক্ষতা রেখেই পাহাড় ও বনভূমি জবর দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করছে। তারা আমাদের পাত্তাই দেয় না।