সংবাদ প্রকাশ করলে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি
প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের ভিএস ডাঃ কবিরের বিরুদ্ধে ২টি গাড়ি ব্যবহার, ৩টি অফিস দখল নিজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা সহ বদলী বানিজ্যের অভিযোগ

ফ্যসিস্ট সরকারের প্রেতাত্না ডাঃ কবির এখনও প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের দখল, লুটপাট, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ব্যবসা সহ নানান কায়দায় চলছে রমরমা বদলী বানিজ্য। বর্তমান বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার লক্ষে বিএনপি পন্থী দাবী করে প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মরত সাধারণ কর্মকর্তা দের মাঝে মুর্তি মান আতংকে আরেক নাম ডাঃ কবির। সুত্রে জানা গেছে, প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থেকেএই কর্মকর্তা ৩ টি অফিস দখল ২ টি গাড়ি তাঁর আয়ত্তে নিয়ে সরকারের অতিরিক্ত জালানী,ড্রাইভার, গাড়ি মেরামত সংস্কার, কেনাকাটার নামে চলছে হরিলুট। ৯ র্ম গ্রেড কর্মকর্তা কি ভাবে এতগুলো অফিস, গাড়ি, চাকর বাকর পায়, কোন শক্তির বলে সেটা এখন প্রশ্ন বিদ্ধ সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দোহাই দিয়ে রামরাজত্ব চলছে ডাঃ কবির উদ্দীন এর। এ-ই কর্মকর্তার কাজ-কর্ম বা আচরনের কারণে বিএনপি সরকারের মৎস্য ও প্রানীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর ভাবমূতিকে ম্লান করে দিচ্ছে ডাঃ কবির।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে বর্তমান মহাপরিচালকের বন্ধু পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের সংবাদ কে জানান একাধিক কর্মকর্তারা। তাঁরা আরও জানান, ডিজি শাহা জামান (তুহিন) নিজেই ফ্যাসিস্ট এর দ্বারা নিযার্তিত। তিনি ডিজির দায়িত্ব নেয়ার পরে চেষ্টা করে যাচ্ছেন অধিদপ্তরকে ফ্যাসিস্টমুক্ত বা দূনীতি মূক্ত করতে। কিন্তু তার আশ পাশে সব সময় অবস্থান করে কথিত বিএনপি পন্থী দাবি করা কিছু কর্মকর্তা। বিশেষ করে আওয়ামী পরিবারের সদস্য ও ফ্যাসিস্ট এর সুবিধাভোগী কথিত বিএনপি পন্থী কর্মকর্তা/নেতা ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা নারায়নগঞ্জের ভেটিরিনারী সার্জন ডা: কবির আহম্মদ তাদের অন্যতম।
ডা: কবির বিএনপি পন্থী সংগঠন ভ্যাবের স্ব-ঘোষিত অনিবাচিত মহা সচিব। ডা: কবির ৫ই আগষ্ঠের পর পরই তৎকালীন মহা পরিচালক ডা: মো: রেয়াজুল হক জসিম এর উপর চাপ প্রয়্গো করে পরিচালক উৎপাদনের দপ্তরের ৬ষ্ঠ গ্রেডের সহকারী পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের আদেশের পদটি বাগীয়ে নিয়ে ভবনের নীচ তলায় একটি এসিযুক্ত রুম দখল করে নেয়। একই সাথে পাশের বিল্ডিং এর নীচ তলার ২টি রুম দখল করে সমিতির রুম হিসাবে ব্যবহার শুরু করে।
খোঁজ নিয়ে আরও যানা জায়, ডা: কবির আওয়ামী সরকারের আমলাদের মধ্যে নীতি নির্দ্ধারকদের অন্যতম সাবেক সচিব মো: নুরুল ইসলামের ভগ্নিপতি। ডা: কবিরের স্ত্রীও ছাত্রলীগের নেত্রী ছিলেন। সে সুবাধে ডা: কবির বিগত ১৫ বসর নারয়নগজ্ঞ ভেটিরিনারী হাসপাতালের ভিএস হিসাবে এক নাগাড়ে চাকুরী করেছে বা এখনও করছে। ডা: কবির ঐ ভেটিরিনারী হাসপাতালের জন্য এ যাবতকাল যে সকল সরকারী ঔষধপত্র এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে তার সবগুলোই নিজে ব্যক্তিগতভাবে আত্নসাৎ করে নিজের আখের গুছিয়ে লাগামহীন দুনীতি মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।
এছাড়া প্রাইভেট চেম্বার সহ ঠিকাদারী ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত। তার ফামের নাম “মেসাস এস কে ট্রেডার্স” এর নামের প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে চলছে ঠিকাদারি ব্যবসা। সুত্রমতে, ডা: কবির মহা পরিচালকের উপর চাপ সৃষ্ঠি করে একটি সরকারী গাড়ী(চালক সহ) নং ঢাকা মেট্রো-ঠ-১৩-২১২৮ নিজের অনুকূলে বরাদ্দ করে নিয়েছে এবং এই গাড়ী ব্যবহার করে প্রতিদিন নারায়নগঞ্জ যাতায়াত ও প্রাইভেট প্রাকটিস করে যাচ্ছেন। একজন ৯ম গ্রেডের ভেটিরিনারী সার্জন কিভাবে সার্বক্ষনিক গাড়ী বরাদ্দ পায় এবং সার্বক্ষনিক জ্বালানীসহ ব্যবহার করতে পারে সেটি অধিদপ্তরের সকলের প্রশ্ন। এছাড়া ডা: কবির প্রভাব খাটিয়ে পরিচালক উৎপাদনের দপ্তরের সকল দরপত্র কমিটির সভাপতি/সদস্যে হওয়ার আদেশ জারী করিয়েছেন। যদিও ডা: কবিরের পিপিআর সম্পর্কে কোন প্রশিক্ষন বা বিন্দু মাত্র ধারনা নেই। এর ফলে তিনি প্রতিটি দরপত্রে ঠিকাদারের সাথে চুক্তি করে তাদের সুবিধামত শর্ত্ব আরোপ করে কাজ দেয়ার সুপারিশ করে যাচ্ছে আর বিনিময়ে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। দরপত্র কমিটির অন্য সদস্য/সভাপতিদেরকে ডা: কবির যেভাবে নিদেৃশনা দেয় সেভাবে কাজ করতে হয়। নতুবা তাদেরকে ফ্যাসিস্ট এর ট্যাগ লাগাইয়া তার গঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজস্ব বাহিনী দ্বারা হয়রানী করে থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া প্রতিটি বদলীতে কবিরের সুপারিশ থাকে আর প্রতিটি ভিএস/ইউএলও বদলীর সুপারিশের বিনিময়ে ২/৩ লক্ষ টাকা আদায় করে থাকেন মহা ধুর্ত্রবাজ কবির। টাকার বিনিময়ে অনেক ফ্যাসস্টি আওয়ামী পন্থী পদধারী অনেক কর্মকর্তাকে তাদের সুবিধা মত জায়গায় পোষ্টিং করিয়েছে।যা বর্তমান ডিজি জেনেও স্বাক্ষর করতে বাধ্য হলেন কোন সার্থে।
ডা: কবির ৭টি জেলা প্রকল্পের মেডিসিন সরবরাহের কাজটি তার প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদানের জন্য পিডি দেরকে বাধ্য করে। সে বিবেচনায় এমনভাবে সিডিউল তৈরী করা হয় যাতে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহন করতে না পারে। ঐ দরপত্র মাত্র ডা: কবিরের প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহন করতে পারেনি এতে করে সরকারের অতিরিক্ত কোটি কোটি টাকা গচ্চা গেছে। শুধু মাত্র তার আর্থিক দুনীতির কারনে। এ বিষয়ে মীর এসোসিয়েটস নামে একটি প্রতিষ্ঠান সুস্পষ্ঠ লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও তার কোন প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগী এখনো পর্যন্ত। অদৃশ শক্তির কারণে সেই সকল অভিযোগ ধামাচাপা পরে যায়।
দরপত্রে যে সকল ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছিল ডা: কবিরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসাস এস কে ট্রেডারস এর সে সকল ডকুমেন্ট/অভিজ্ঞতা ছিল না। ভূয়া কাগজ সৃষ্ঠি করে দরপত্রর সাথে জমা দিয়ে একক দরপত্রের উপর সিদ্ধান্ত গ্রহন করে পিডি ৯৮ লক্ষ টাকার কায্যাদেশ প্রদান করে। কার্য্যাদেশ প্রদানের পর ৪/৫ মাস অতিবাহিত হলেও অদ্য পর্যন্ত কোন মালামাল সরবরাহ করেনি। তার উদ্দেশ্য হল মালামাল সরবরাহ না করে বিল উত্তোলন করে সমূদয় টাকা আত্নসাৎ করার বলে একাধিক কর্মকর্তারা আজকের সংবাদ কে জানান। নিদিষ্ঠে সময়ে মালামাল সরবরাহ করা না হলেও পিডি ঐ ফার্মের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে সাহস পান নি। যদিও ঐ প্রকল্প পরিচালক বিএনপি পন্থী নিয্যাতিত একজন কর্মকর্তা। ৫ই আগষ্ঠের পর ডা: কবির আর্থিকভাবে ফুলে ফেফে উঠেছে।সরকারের উচ্চ পর্যায়ে গোয়েন্দা সংস্থা তার আর্থিক ব্যাংক ব্যালেন্স এবং এই সময়ে উপার্জিত সম্পদ খোঁজ খবর নিলে থোলের বিরাল বেরিয়ে আসবে।
ডা: কবির ভ্যাবের ব্যানারে বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে ব্যাপকহারে চাদা বাজী করে যাচ্ছে। তার এই অনেতিক কাজের জন্য সম্প্রতি কৃষিবিদদের সবচেয়ে বড় সংগঠন এ্যব (এগ্রিকালচারিষ্ঠ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) অবৈধ সংগঠন ভ্যাবের সকল কার্য্যক্রম স্থগিত ঘোষনা করেছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সুবিধাভোগী কর্মরত ফ্যাসিস্ট এর সহযোগী আওয়ামী পন্থী দাবীদার ডাঃ কবিরের জিম্মি দশায় থেকে বদলী বানিজ্য ভুয়া বিল ভাওছারের মাস্টার মাইন্ড চিহিৃত দুনীতিবাজ ডা: কবিরের বিধি বর্হিভূতভাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানের আদেশ বাতিল সহ বর্ণিত অভিযোগগুলি মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ে তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবি জানিয়েছেন সাধারণ কর্মকর্তারা।
উল্লেখীত অভিযোগের বিষয়ে ডাঃ কবিরের মোবাইলে ফোন দিয়ে একাধিক অফিস দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আজকের সংবাদ কে জানান অফিস দখলের বিষয় টি মহা পরিচালক বলতে পারবেন। তিনি আজকের সংবাদ কে আরও বলেন তাঁর বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রকাশিত করতে বুঝে শুনে করতে হবে, তার বাড়ী শোলকুপায় এই প্রতিবেদককে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি ধামকী দিয়ে লাইন টি কেটে দেন। মহা পরিচালকে ফোন দিলে ফোন রিসিভ না করায় তাঁর কোন মতামত পাওয়া যায়নি। হুমকির কল রেকর্ড সংরক্ষণ রয়েছে।
