নজিরবিহীন দুর্নীতির মহোৎসব চলছে
বিএডিসির সরকারি অর্থ লুটকারী দুনীতির মাস্টার মাইন্ড পিডি জাহাঙ্গীর এখনো সকল ধরাছোঁয়ার বাইরে

বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক এ কে এম জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে নজিরবিহীন দুনীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুত্রে যানা জায়, বাংলাদেশ টেকসই পুনরুদ্ধার, জরুরি প্রস্তুতি এবং প্রতিক্রিয়া প্রকল্পের আওতায় সরকারের যে সকল রুপরেখা ছিল তা বেহেস্তে গেছে শুধু মাত্র পিডির আর্থিক দুনীতি কারণে। মহা ক্ষমতা ধর লীগের সুবিধাভোগী পিডি জাহাঙ্গীর আলমের দুনীতির কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে প্রকল্পের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।
কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) যৌথভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও সেচ খাল পুনঃখননের কাজের বিপরীতে ঠিকাদার দের সাথে আতাত করে বরাদ্ধের বিপরীতে কমিশন বানিজ্য, কাজ না করে সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করে বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক পিডি জাহাঙ্গীর।
প্রকল্পটির বিশ্বব্যাংকের সংগ্রহ পরিকল্পনা (Procurement Plan) ও নথিপত্রে যাচাই বাঁচায় করে ব্যপক অসংগতি পুর্ন দেখা যায়। উক্ত প্রকল্পের কার্যক্রম এপ্রিল ২০২৫ শে শুরু এবং জুন-২০৩০ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো প্রকল্পের অগ্রগতি খুব একটা চোখে পড়তে দেখা যায় না।
বিএডিসির দুনীতিবাজ কর্মকর্তা এ. কে. এম. জাহাঙ্গীর আলম সংশ্লিষ্টের মাধ্যমে কমিশন বানিজ্য কারণে আলোর মুখ দেখছে না প্রকল্পের কার্যক্রম। নির্দিষ্টভাবে এই প্রকল্পটির অধীনে জাহাঙ্গীর আলমের নির্দিষ্ট দুর্নীতির বিবরণ বা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে বিএডিসির সাবেক চেয়ারম্যানের নিকট ভুক্তভোগী সাধারণ ঠিকাদারা লিখিতভাবে অভিযোগ করলেও সেই সকল অভিযোগ আজও পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি অদৃশ্য কোন এক শক্তির কারণে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC) প্রকল্পের অনিয়মের পাহাড় থাকলেও এখনো বহাল তবিয়তে আছেন ঘুষ দুনীতি মাস্টার মাইন্ড জাহাঙ্গীর।
বাংলাদেশ টেকসই পুনরুদ্ধার, জরুরি প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া প্রকল্প (B-STRONG) মূলত বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) যৌথ অংশীদারিত্বে সেচ ও কৃষি অবকাঠামো পুনর্বাসনের জন্য ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প। যেহেতু প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সময়কাল ২০২৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত, তাই এই নির্দিষ্ট প্রকল্পের বরাদ্দে বড় ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা অডিটের আপত্তি ছিল ভরি ভরি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া, এবং বিএডিসির উক্ত উন্নয়ন প্রকল্পে বেশ কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার ও প্রকল্প পরিচালকের (PD) বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষভাগে প্রকল্পির পিডি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিধি বহির্ভূতভাবে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং বিশেষ করে ২০২৫ সালের আহ্বান করা একটি বড় দরপত্র (Tender) প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বিগত কর্মস্থলগুলোতেও দুর্নীতি সংক্রান্ত পাহাড় সমান অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেদারসে বিএডিসিতে।
প্রকল্পের কার্যক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশ টেকসই পুনরুদ্ধার, জরুরি প্রস্তুতি এবং প্রতিক্রিয়া প্রকল্প (B-STRONG) হলো বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত বিএডিসির অধীনে এই প্রকল্পের মূল কার্যক্রম বেহেশতে যেতে বয়সে।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য প্রকল্পটি মূলত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্রগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কৃষি খাতের টেকসই পুনরুদ্ধার ও ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করার কথা থাকলেও নাম মাত্র কৃষক দের পুর্নবাসনের নামে ভুয়া বিল ভাওছার বানিয়ে প্রকল্পের টাকা তছরুপ করেছেন তিনি।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বন্যা-বিধ্বস্ত অঞ্চলের কৃষকদের পুনর্বাসন এবং কৃষি অবকাঠামো পুনরায় সচল করা কিন্তু কৃষকের পুর্ববাস কিংবা অবকাঠামো উন্নয়ন না হলেও পিডি জাহাঙ্গীর আলমের ব্যপক আর্থিক উন্নয়ন হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে আরও যানা গেছে, বিএডিসির প্রধান কার্যক্রম (উপাদান ৪.২) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)-এর সাথে একটি কৌশলগত চুক্তির (MoU) মাধ্যমে প্রাপ্ত অনুদান ব্যবহার করে বিএডিসি নিম্নোক্ত কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করার সর্তে প্রকলটি কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছিল।
সেচ ও নিষ্কাশন অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেচ নালা, সেচ অবকাঠামো এবং ওয়াটার পাস পুনর্নির্মাণের বিপরীতে ঠিকাদার দের সাথে গোপনে আঁতাত করে পিডির একান্ত ঠিকাদার দের গোপন দর প্রদান করে কাজ পাইয়ে দিয়ে বরাদ্ধের সিংহ ভাগ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ টাকা পিডি জাহাঙ্গীর।
প্রকল্পের আওতায় জলাশয় পুনঃখননের বিপরীতে চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় খাল খননের নাম মাত্র দুই পাশের খনন করে বরাদ্দের ৩০% আরার কোথাও খাল খনন না করে কাগজে কলমে সংস্কার দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছেন তিনি। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির প্রাপ্যতা বাড়াতে বিভিন্ন খাল ও জলাশয় পুনরায় খননের নামে করেছে হরিলুট। ইনপুট সংরক্ষণাগার সংস্কার: কৃষকদের মানসম্মত বীজ ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিএডিসির ক্ষতিগ্রস্ত বীজ ও সার গোডাউনগুলো (Godowns) আধুনিকায়ন ও সংস্কার করার বিপরীতে ঠিকাদার কতৃক গোপন দর প্রদান করে করেছেন কমিশন বানিজ্য।
বাস্তবায়নকারী ইউনিট (PIU): প্রকল্প ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) এবং বিএডিসি যৌথভাবে একটি একক প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিট (PIU) গঠন করার কথা থাকলেও পিডি তাঁর অবৈধ ক্ষমতা দাপট দেখিয়ে কোন কিছু তোয়াক্কা করতেন না বলে একাধিক কর্মকর্তারা আজকের সংবাদ কে জানান। ,তার নেতৃত্বে রয়েছে নাকি সু বিশাল সিন্ডিকেট বাহীনি।
প্রকল্পের অর্থায়ন ও মেয়াদ: বিশ্বব্যাংকের মোট ২৭০ মিলিয়ন ডলারের সহজ শর্তের ঋণে প্রকল্পটি জুলাই ২০২৫ থেকে ডিসেম্বর ২০৩০ পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬৫,০০০-এর বেশি কৃষক পরিবার জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও উন্নত সেচ সুবিধার আওতায় আসবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে খাদ্য উৎপাদন পুনরায় নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ হাতে নিলেও কৃষিদের তেমন কোন সুফল মিলছেনা বলে চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায় একাধিক কৃষক আজকের সংবাদ কে জানান।
অবকাঠামো ও এই প্রকল্পের অন্যতম মূল উপাদান হলো বিএডিসির বীজ ও এবং সেচ অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদার সিন্ডিকেটের অনুকূলে টেন্ডার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা এই খাতের সামগ্রিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিএডিসির সামগ্রিক সেচ প্রকল্পের দুর্নীতি চিত্র বিএডিসির অতি নিম্নমানের সেচ ও অবকাঠামো খাতের দুনীতির আর্শ্রয় নেওয়া হয়েছে। সেচ উন্নয়ন কাগুজে অগ্রগতি দেখিয়ে ফিল্ডে কাজ না করেই কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কে তদন্ত করার আহবান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ কৃষকরা।
প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের কঠোর সংগ্রহ বা প্রকিউরমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক (STEP এবং e-GP) মেনে পরিচালিত হওয়ায় প্রতিটি বড় প্যাকেজেই এখন বাড়তি নজরদারি না থাকায় দুনীতি সর্গরাজ্যে পরিনত করেছে পিডি জাহাঙ্গীর। এক কথায় লুটপাটের মহোৎসব চলছে দুনীতিবাজ পিডির নেতৃত্বে।
বিএডিসি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ টাকার সিংহভাগই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পিডির আর্থিক অনিয়মকে নিয়ম বানিয়ে সরকারী অর্থ তছরুপ করেছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের সংবাদ কে জানান একাধিক কর্মকর্তারা।
বিএডিসিতে বহাল তবিয়তে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাস্টার মাইন্ড এখনো ধরাছোয়ার বাইরে। উল্লেখীত অভিযোগের বিষয়ে পিডি জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইলে ফোন দিয়ে তার উপরে অর্থাপত্তি আর্থিক দুনীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আজকের সংবাদ কে তাঁর অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন বলে লাইন টি কেটে দেন।
