চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের করেরহাটে বন্ধ হচ্ছে না আলাল উদ্দিনের চাঁদাবাজি ও বালু মহলের দৌরাত্ম্য

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬ ২০:২১:৪৫  আপডেট :  জুলাই ১১, ২০২৬ ২০:৪১:৩২

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের করেরহাট বিট কাম চেক স্টেশন কর্মকর্তা মো: আলাল উদ্দিনের প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও বনাঞ্চল ধ্বংসের মহোৎসব কোনো অংশেই কমে নাই। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, করেরহাট রেঞ্জ অফিসের ঠিক পেছনে সীতাকুণ্ড-রামগড় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অন্তর্গত বটতলী, ‘চিকন ছড়া’, কয়লা ও ঝিলতলী এলাকা থেকে এখনো সমানে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত আছে। বর্তমানে সেখানে ড্রেজার মেশিন চালিয়ে বালু তোলা হচ্ছে এবং প্রতিটি ড্রেজার থেকে আলাল উদ্দিন নিয়মিত ৫০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন। মিরসরাই উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক একাধিকবার অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হলেও, আলালের দুর্নীতির কারণে অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে পুনরায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বালু উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছে। বনের বুক চিরে তোলা এই অবৈধ বালুগুলো করেরহাট চেক স্টেশন পার করার সময়ও স্টেশনে কর্মরত কর্মচারীদের নির্দিষ্ট হারে টাকা দিতে হচ্ছে।

আলাল উদ্দিনের এই লাগামহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে করেরহাট রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো: মাহদী হাসান সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ পাচার, অবৈধভাবে বনের জায়গা বিক্রি ও বালু উত্তোলনসহ নানান সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত তাকে ৭ বার কৈফিয়ত তলব (শোকজ) করেছেন। কিন্তু এতবার কৈফিয়ত তলব করার পরও আলালের দুর্নীতি থামানো তো দূরের কথা, তা আরও দ্বিগুণ গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসিএফ এর শোকজ লেটার পাওয়ার পর এই কর্মকর্তা উপস্থিত সহকর্মীদের সম্মূখে দম্ব করে বলেন এই এসিএফ আমার লোম ছেড়ার যোগ্যতা রাখেনা। এর মূল কারণ হিসেবে জানা যায়, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেন নাই।

করেরহাট এলাকায় বসবাসকারী একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, করেরহাট স্টেশন থেকে যে পরিমাণ বিপুল টাকা অবৈধ ইনকাম হয়, তার ভাগ ঊর্ধ্বতন মহল থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবার পকেটে পৌঁছে যায়। ফলে করেরহাট স্টেশনে কর্মরত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ফিল্ড পর্যায়ে কোনো দায়িত্ব পালন করেন না; তারা ডিউটি না করে রেঞ্জ অফিস বা বাসায় বসেই আয়েশি দিন কাটান। আর সংরক্ষিত বনাঞ্চল পাহারা দেওয়ার নামে মাঠ পর্যায়ে রেখে দেওয়া হয়েছে মাসভিত্তিক চাঁদা আদায়কারী কিছু দালাল, যাদের ফরেস্টের ভাষায় ‘ফ্রিম্যান’ বলা হয়। এই ফ্রিম্যানরা বনের পাহারাদার সেজে নিজেদের ইচ্ছেমতো সংরক্ষিত বনের জায়গা ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করছে এবং বনের মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করে সেই অবৈধ টাকা অফিসে এসে জমা দিচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এভাবে প্রতি মাসে মাসোহারা দিয়ে ম্যানেজ করার কারণেই আলাউদ্দিন কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বনাঞ্চল ধ্বংসের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছেন। পর্যবেক্ষক মহলের মতে করেরহাট স্টেশন এলাকার অবশিষ্ট বন ভূমি ও বনজ সম্পদ রক্ষার্থে অবিলম্বে দুর্নীতিতে রেকর্ড সৃষ্টিকারী বন কর্মকর্তা আলাল উদ্দিনকে অপসারন করা প্রয়োজন।