বিপর্যয়ের মুখে চট্টগ্রাম বন সার্কেল-৪
বন কর্মকর্তাদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে সিএফ রেজাউল করিমের ফেসবুকে পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে বন বিভাগে চলছে চরম অসন্তোষ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফরেস্টার সহ বন বিভাগের সকল কর্মকর্তাদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিমের পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে বন বিভাগে চলছে চরম অসন্তোষ।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুক ব্যবহার সম্পর্কিত বিষয়ে নির্দেশিকা ২০১৯ পালনের জন্য জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিজ্ঞপ্তি জারি থাকা সত্বেও সিএফ মোল্যা রেজাউল করিম এর কাছে নিয়মে পরিনত হয়েছে। ২৩ জানুয়ারী ২০২৫ MA Kalam নামক এক আইডি থেকে বন বিভাগে কর্মরত ১৫ গ্রেডের ফরেস্টার নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ফেইসবুকে পোস্ট করলে সিএফ মোল্লা সেই পোস্টে ফরেস্টারদের উদ্দেশ্যে “এসব হারামজাদা ও বেজন্মারা টুকলি মারার ওস্তাদ” এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য প্রদান করেন। যা চট্টগ্রাম অঞ্চলের সকল ফরেস্টারদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরেস্টাররা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এর দায়িত্ব থাকা উপদেষ্টার সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এছাড়াও MA Kalam ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ অপারেশন ডেভিল হান্ট এবং ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ স্বৈরাচারী হাসিনার দোসর ডিসিদের অপসারণ ও বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া নিয়ে বন বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিয়ে উস্কানীমূলক ফেইসবুকে পোস্ট করলে সিএফ মোল্লা রেজাউল সেই সকল পোস্টে বন বিভাগের “পনের বছরের দরবেশ বাবাদের কি হবে??” এবং “ খেল শুরু সম্ভবত” ও “বারবার তো শুনতাম খেলা শুরু হবে, সেই খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে সম্ভবত” বলে সে বন বিভাগের সকল অফিসারদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য প্রদান করেন। অথচ মোল্লা রেজাউল করিম সিএফ স্বৈরাচারী হাসিনার দোসর হিসাবে বন বিভাগে এসিএফ থেকে সিএফ পর্যন্ত পদোন্নতি পেয়েছে এবং লোভনীয় জায়গায় পোস্টিং নিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
জানা যায় মোল্যা রেজাউল করিম লালমাটিয়া ২/৩ (নাভানা), ব্লক-সি, লালমাটিয়া, ঢাকায় লাক্সারি দুইটি ফ্রাট ক্রয় করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করে। মোল্লা রেজাউল করিম ২০০৩ সালে এসিএফ হিসাবে বন ক্যাডার যোগদান করে বন একাডেমি তে প্রশিক্ষণ করে পর্যায়ক্রমে রাংগামাটি অঞ্চলের দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জে, রেঞ্জ প্রশিক্ষণ কালীন রেঞ্জ অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন, এসিএফ হিসাবে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সিলেট এ দায়িত্ব পালন, পদোন্নতি পেয়ে ফেণী সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হিসাবে দায়িত্ব পালন, ডিএফও হিসাবে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ঢাকা, ডিএফও হিসাবে পাল্পউড প্লান্টেশন বন বিভাগ বান্দরবান এ দায়িত্ব পালন, ডিএফও হিসাবে সামাজিক বন বিভাগ বাগেরহাট, পরিচালক হিসাবে বন উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কাপ্তাই, পরিচালক হিসাবে জাতীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন, মিরপুর, ঢাকায় দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তী সিএফ হিসাবে পদোন্নতি পেয়ে খুলনা অঞ্চল, সামাজিক অঞ্চল যশোর, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল, সাফারি পার্ক, গাজিপুর, বাংলাদেশ ফরেস্ট একাডেমি এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করে। মোল্যা রেজাউল করিম বৈষম্যের স্বিকার হলে এতো লোভনীয় জায়গায় পোস্টিং এবং ২০০৩ সালে যোগদান করে এতো পদোন্নতি কিভাবে সম্ভব তা বন বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রশ্ন?
উল্লেখ্য কোটি কোটি টাকার বদলী বানিজ্যের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের আভযান চললেও থেমে নাই চট্টগ্রাম অঞ্চলের সিএফ মোল্লা রেজাউল করিম এর দুর্নীতি জানা যায় ২০/০২/২০২৫ তারিখে এক অফিস আদেশ মূলে চারজন ফরেস্টারকে সিএফ মোল্লা রেজাউল তার আওতাধীন বন বিভাগে বদলি করেন সেখানে দেখা যায় মোটা অংকের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করে মোহা: নাঈমুল ইসলাম, ফরেস্টারকে লামা বন বিভাগ, বান্দরবান হতে পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগ, বান্দরবান এ বদলি করা হয়। এছাড়াও মোল্যা রেজাউলের চাঁদা আদায়কারী কমিটির এসিএফ জয়নাল আবেদীন এবং হামিদ ফরেস্টার কে বান্দরবান থেকে সময় মত উৎকোচ প্রদান না করায় সিনিয়র দুই ফরেস্টারকে রেখে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই বান্দরবান সদর রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার সুলতান মাহমুদ হাওলাদার, ফরেস্টারকে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগে বদলী করা হয়।
