জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জনসচেতনতার বিকল্প নেই: পরিবেশমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬ ১৮:০৩:৪১  আপডেট :  জুলাই ১১, ২০২৬ ১৮:২১:২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; একটি টেকসই ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, বরং বর্তমানের বাস্তবতা। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তীব্র তাপপ্রবাহ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার বিস্তার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, পরিবেশ রক্ষাকে কেবল সরকারি কর্মসূচি হিসেবে নয়, জাতীয় দায়বদ্ধতা ও সামাজিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার একা জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না। এ জন্য নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম, গবেষক, পরিবেশবাদী সংগঠন, গণমাধ্যম এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সুমন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপা-এর সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. এম. ফিরোজ আহমেদ। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি, গবেষক, টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এজেএ